দীর্ঘদিনের চর্চা ও প্রথা ভেঙে অবশেষে জাতীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত একটি বিল পাস হওয়ার মাধ্যমে কয়েক দশকের এই বিশেষ আর্থিক সুবিধার অবসান ঘটল।
অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘দি মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেমুনারেশন অ্যান্ড অলাউন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ উত্থাপন করেন। বিলটি কণ্ঠভোটে দেওয়া হলে উপস্থিত সদস্যদের বিপুল সমর্থনে তা পাস হয়। এর ফলে ১৯৭৩ সালের সংশ্লিষ্ট আদেশের আর্টিকেল থ্রি-সি (3C) বিলুপ্ত হলো, যা সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির আইনি অধিকার প্রদান করত।
বিলটি উত্থাপনের সময় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন "জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা গ্রহণ করা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সাধারণ করদাতা নাগরিকদের সঙ্গে একটি দৃশ্যমান বৈষম্য তৈরি করে। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংসদ নেতার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গিতে এই সংশোধনী আনা হয়েছে।"
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শুল্কমুক্ত গাড়ি নেওয়ার প্রথাটি সম্ভবত বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও নেই। তিনি জামায়াতে ইসলামীর পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিলে বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকার উল্লেখ রাখার দাবি জানান। জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, সরকারি বিল হিসেবে এটি সংসদ নেতার দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রস্তুত হলেও বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনে সরকারের কোনো আপত্তি নেই।
এই ঐতিহাসিক বিল পাসের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধা ভোগের অধ্যায় শেষ হলো, যা সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘদিনের চর্চা ও প্রথা ভেঙে অবশেষে জাতীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত একটি বিল পাস হওয়ার মাধ্যমে কয়েক দশকের এই বিশেষ আর্থিক সুবিধার অবসান ঘটল।
অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘দি মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেমুনারেশন অ্যান্ড অলাউন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ উত্থাপন করেন। বিলটি কণ্ঠভোটে দেওয়া হলে উপস্থিত সদস্যদের বিপুল সমর্থনে তা পাস হয়। এর ফলে ১৯৭৩ সালের সংশ্লিষ্ট আদেশের আর্টিকেল থ্রি-সি (3C) বিলুপ্ত হলো, যা সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির আইনি অধিকার প্রদান করত।
বিলটি উত্থাপনের সময় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন "জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা গ্রহণ করা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সাধারণ করদাতা নাগরিকদের সঙ্গে একটি দৃশ্যমান বৈষম্য তৈরি করে। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংসদ নেতার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গিতে এই সংশোধনী আনা হয়েছে।"
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শুল্কমুক্ত গাড়ি নেওয়ার প্রথাটি সম্ভবত বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও নেই। তিনি জামায়াতে ইসলামীর পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিলে বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকার উল্লেখ রাখার দাবি জানান। জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, সরকারি বিল হিসেবে এটি সংসদ নেতার দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রস্তুত হলেও বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনে সরকারের কোনো আপত্তি নেই।
এই ঐতিহাসিক বিল পাসের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধা ভোগের অধ্যায় শেষ হলো, যা সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন