নজর বিডি

ইটের সঙ্গে পুড়ছেন শ্রমিকরাও: শৈশব বিলীন হচ্ছে চুল্লির আগুনে

ইটের সঙ্গে পুড়ছেন শ্রমিকরাও: শৈশব বিলীন হচ্ছে চুল্লির আগুনে

ভোরের আলো ফোটার আগেই কাজে নামতে হয় ১৪ বছরের মিনহাজকে। কাঁচা ইট তৈরি আর জ্বলন্ত চুল্লির পাশে দিনভর আগুনের উত্তাপ মাথায় নিয়েই কাটে তার শৈশব।


কয়েকমাস আগে তীব্র তাপে অজ্ঞান হয়ে পড়লেও জোটেনি চিকিৎসা, উল্টো কাটা গেছে সেদিনের মজুরি। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার একটি ইটভাটায় কর্মরত মিনহাজের এই গল্পই বলে দেয়—আধুনিক সভ্যতার অট্টালিকা গড়ার কারিগরদের জীবন কতটা নির্মম।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ১৫টি উপজেলায় ৪১৩টি ইটভাটার মধ্যে ৩৩৭টিই অবৈধ, যা মোট ভাটার প্রায় ৮২ শতাংশ। এসব ভাটায় কাজ করা হাজার হাজার শ্রমিক আন্তর্জাতিক শ্রম আইন তো দূরের কথা, সাধারণ মানবিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। তাদের কাছে 'মে দিবস' বা '৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টার' লড়াই কেবলই একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ; বাস্তবতা হলো সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরামহীন হাড়ভাঙা খাটুনি।

সরেজমিনে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার ইটভাটাগুলোতে দেখা গেছে, কম মজুরিতে পাওয়া যায় বলে নারী ও শিশুদেরই মালিকপক্ষের প্রধান লক্ষ্য থাকে।

বিপন্ন শৈশব: শিক্ষার বদলে শিশুরা লিপ্ত আছে কাঁচা ইট শুকানো ও মাটি টানার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে।

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নারীরা: রেহানা আক্তারের মতো নারী শ্রমিকরা ধোঁয়া ও ধুলোবালির মধ্যে দীর্ঘসময় কাজ করেও পাচ্ছেন না ন্যায্য মজুরি।

মারাত্মক রোগব্যাধি: চুল্লির বিষাক্ত ধোঁয়া ও তীব্র তাপে শ্রমিকরা শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ১২ বছরের কম বয়সি শিশু শ্রমে নিয়োগ নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। চট্টগ্রাম শ্রম আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ রুবেল বলেন, "মাঝি ও ব্যবস্থাপনার কারসাজিতে শ্রমিকদের শোষণ করা হয়।" অন্যদিকে, চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন তৌহিদুল আনোয়ার সতর্ক করে বলেন, ইটভাটার পরিবেশ শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

উপজেলা প্রশাসন (ইউএনও) জানিয়েছে, মালিকপক্ষ শিশু বা নারী শ্রমিকদের বিষয়ে তথ্য গোপন করে। অন্যদিকে, ইটভাটা মালিক সমিতি দাবি করেছে তারা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে সজাগ। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—যেখানে অধিকারের চেয়ে 'পরদিনের খাবারের নিশ্চয়তা' শ্রমিকের কাছে বড় সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ইটের সঙ্গে পুড়ছেন শ্রমিকরাও: শৈশব বিলীন হচ্ছে চুল্লির আগুনে

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

ভোরের আলো ফোটার আগেই কাজে নামতে হয় ১৪ বছরের মিনহাজকে। কাঁচা ইট তৈরি আর জ্বলন্ত চুল্লির পাশে দিনভর আগুনের উত্তাপ মাথায় নিয়েই কাটে তার শৈশব।


কয়েকমাস আগে তীব্র তাপে অজ্ঞান হয়ে পড়লেও জোটেনি চিকিৎসা, উল্টো কাটা গেছে সেদিনের মজুরি। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার একটি ইটভাটায় কর্মরত মিনহাজের এই গল্পই বলে দেয়—আধুনিক সভ্যতার অট্টালিকা গড়ার কারিগরদের জীবন কতটা নির্মম।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ১৫টি উপজেলায় ৪১৩টি ইটভাটার মধ্যে ৩৩৭টিই অবৈধ, যা মোট ভাটার প্রায় ৮২ শতাংশ। এসব ভাটায় কাজ করা হাজার হাজার শ্রমিক আন্তর্জাতিক শ্রম আইন তো দূরের কথা, সাধারণ মানবিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। তাদের কাছে 'মে দিবস' বা '৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টার' লড়াই কেবলই একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ; বাস্তবতা হলো সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরামহীন হাড়ভাঙা খাটুনি।

সরেজমিনে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার ইটভাটাগুলোতে দেখা গেছে, কম মজুরিতে পাওয়া যায় বলে নারী ও শিশুদেরই মালিকপক্ষের প্রধান লক্ষ্য থাকে।

বিপন্ন শৈশব: শিক্ষার বদলে শিশুরা লিপ্ত আছে কাঁচা ইট শুকানো ও মাটি টানার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে।

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নারীরা: রেহানা আক্তারের মতো নারী শ্রমিকরা ধোঁয়া ও ধুলোবালির মধ্যে দীর্ঘসময় কাজ করেও পাচ্ছেন না ন্যায্য মজুরি।

মারাত্মক রোগব্যাধি: চুল্লির বিষাক্ত ধোঁয়া ও তীব্র তাপে শ্রমিকরা শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ১২ বছরের কম বয়সি শিশু শ্রমে নিয়োগ নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। চট্টগ্রাম শ্রম আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ রুবেল বলেন, "মাঝি ও ব্যবস্থাপনার কারসাজিতে শ্রমিকদের শোষণ করা হয়।" অন্যদিকে, চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন তৌহিদুল আনোয়ার সতর্ক করে বলেন, ইটভাটার পরিবেশ শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

উপজেলা প্রশাসন (ইউএনও) জানিয়েছে, মালিকপক্ষ শিশু বা নারী শ্রমিকদের বিষয়ে তথ্য গোপন করে। অন্যদিকে, ইটভাটা মালিক সমিতি দাবি করেছে তারা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে সজাগ। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—যেখানে অধিকারের চেয়ে 'পরদিনের খাবারের নিশ্চয়তা' শ্রমিকের কাছে বড় সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত