নজর বিডি

স্বামী-স্ত্রীর শ্রমেও নুন আনতে পান্তা ফুরায়: বেঁচে থাকার লড়াইয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকরা

স্বামী-স্ত্রীর শ্রমেও নুন আনতে পান্তা ফুরায়: বেঁচে থাকার লড়াইয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকরা

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের বাসিন্দা আব্দুল গণি। এক সময় মুদি দোকান দিয়ে সংসার চালালেও ঋণের ভারে সব হারিয়ে আজ তিনি ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই গার্মেন্টস শ্রমিক। কিন্তু আধুনিক যুগের এই দাসত্বেও মিলছে না স্বস্তি। দুজনের সম্মিলিত আয়েও ঢাকার বুকে চার সদস্যের পরিবার নিয়ে টিকে থাকা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আব্দুল গণি ও তাঁর স্ত্রীর মাসিক সম্মিলিত আয় সর্বোচ্চ ২৭ হাজার টাকা। এই আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলে তাদের জীবনযুদ্ধ, বাসা ভাড়া ৯ হাজার টাকা। ঋণের কিস্তি ৫ হাজার টাকা। সন্তানদের পড়াশোনা দুই সন্তানের পেছনে খরচ অন্তত ৫ হাজার টাকা। অবশিষ্ট মাত্র ৭-৮ হাজার টাকা, যা দিয়ে মাসজুড়ে চারজনের খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য খরচ মেটানো প্রায় অসম্ভব।

স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় অতিরিক্ত আয়ের পথ (ওভারটাইম) বন্ধ। ফলে মাসের শেষ দিনগুলোতে ধারদেনা করেই উনুনে আগুন জ্বালাতে হয় এই দম্পতিকে।

২০২৩ সালে নির্ধারিত সাড়ে ১২ হাজার টাকার নিম্নতম মজুরি বর্তমান সময়ের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কাছে নস্যি। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিপিআরসি-এর তথ্যমতে, ঢাকায় চার সদস্যের পরিবারের ন্যূনতম ব্যয় এখন ২৮ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। অথচ শ্রমিকদের বর্তমান বেতন কাঠামো এর চেয়ে অনেক নিচে।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, "বিশ্বব্যাপী নিয়ম হলো একজনের আয়ে চারজনের পরিবার চলবে, অথচ আমাদের দেশে দুজনের আয়েও সংসার চলছে না। ২০২৩ সালের নির্ধারিত মজুরি কাঠামো ছিল অত্যন্ত অসামঞ্জস্যপূর্ণ।"

জাতিসংঘের (ইউএনএসকাপ) এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ৩২ শতাংশ পোশাক শ্রমিক নিম্নতম মজুরির চেয়েও কম আয় করেন। ৯২ শতাংশ শ্রমিকের কোনো লিখিত চুক্তি নেই, যা তাদের চাকরির নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা কমে গেলে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করা এই শ্রমিকরাই সবার আগে ছাঁটাইয়ের শিকার হন।

বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে শ্রমিক সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার জানান, "বর্তমান ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে খুব শিগগিরই সম্মিলিত প্রস্তাব পেশ করা হবে।"

যাঁরা বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মানছেন না, তাঁদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। মে দিবসের এই লগ্নে কোটি শ্রমিকের একটাই চাওয়া—কেবল টিকে থাকা নয়, মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য প্রয়োজন একটি মানবিক মজুরি কাঠামো।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


স্বামী-স্ত্রীর শ্রমেও নুন আনতে পান্তা ফুরায়: বেঁচে থাকার লড়াইয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকরা

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের বাসিন্দা আব্দুল গণি। এক সময় মুদি দোকান দিয়ে সংসার চালালেও ঋণের ভারে সব হারিয়ে আজ তিনি ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই গার্মেন্টস শ্রমিক। কিন্তু আধুনিক যুগের এই দাসত্বেও মিলছে না স্বস্তি। দুজনের সম্মিলিত আয়েও ঢাকার বুকে চার সদস্যের পরিবার নিয়ে টিকে থাকা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আব্দুল গণি ও তাঁর স্ত্রীর মাসিক সম্মিলিত আয় সর্বোচ্চ ২৭ হাজার টাকা। এই আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলে তাদের জীবনযুদ্ধ, বাসা ভাড়া ৯ হাজার টাকা। ঋণের কিস্তি ৫ হাজার টাকা। সন্তানদের পড়াশোনা দুই সন্তানের পেছনে খরচ অন্তত ৫ হাজার টাকা। অবশিষ্ট মাত্র ৭-৮ হাজার টাকা, যা দিয়ে মাসজুড়ে চারজনের খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য খরচ মেটানো প্রায় অসম্ভব।

স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় অতিরিক্ত আয়ের পথ (ওভারটাইম) বন্ধ। ফলে মাসের শেষ দিনগুলোতে ধারদেনা করেই উনুনে আগুন জ্বালাতে হয় এই দম্পতিকে।

২০২৩ সালে নির্ধারিত সাড়ে ১২ হাজার টাকার নিম্নতম মজুরি বর্তমান সময়ের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কাছে নস্যি। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিপিআরসি-এর তথ্যমতে, ঢাকায় চার সদস্যের পরিবারের ন্যূনতম ব্যয় এখন ২৮ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। অথচ শ্রমিকদের বর্তমান বেতন কাঠামো এর চেয়ে অনেক নিচে।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, "বিশ্বব্যাপী নিয়ম হলো একজনের আয়ে চারজনের পরিবার চলবে, অথচ আমাদের দেশে দুজনের আয়েও সংসার চলছে না। ২০২৩ সালের নির্ধারিত মজুরি কাঠামো ছিল অত্যন্ত অসামঞ্জস্যপূর্ণ।"

জাতিসংঘের (ইউএনএসকাপ) এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ৩২ শতাংশ পোশাক শ্রমিক নিম্নতম মজুরির চেয়েও কম আয় করেন। ৯২ শতাংশ শ্রমিকের কোনো লিখিত চুক্তি নেই, যা তাদের চাকরির নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা কমে গেলে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করা এই শ্রমিকরাই সবার আগে ছাঁটাইয়ের শিকার হন।

বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে শ্রমিক সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার জানান, "বর্তমান ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে খুব শিগগিরই সম্মিলিত প্রস্তাব পেশ করা হবে।"

যাঁরা বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মানছেন না, তাঁদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। মে দিবসের এই লগ্নে কোটি শ্রমিকের একটাই চাওয়া—কেবল টিকে থাকা নয়, মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য প্রয়োজন একটি মানবিক মজুরি কাঠামো।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত