নজর বিডি

‘ঢাকার অধিকাংশ পাগল আমাদের তৈরি’: ট্রাইব্যুনালে গুমজীবনের বর্ণনা দিলেন মাদরাসা শিক্ষক

‘ঢাকার অধিকাংশ পাগল আমাদের তৈরি’: ট্রাইব্যুনালে গুমজীবনের বর্ণনা দিলেন মাদরাসা শিক্ষক

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও অমানুষিক নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেছেন মাদরাসা শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম।


সোমবার (৪ মে) ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে গিয়ে তিনি তুলে ধরেন ২০২২ সালে র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে কাটানো সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা।

২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি রাতে মোহাম্মদপুর থেকে এক মাদরাসা শিক্ষককে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। চোখ বেঁধে এবং হাতকড়া লাগিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

টিএফআই সেলে তাকে জঙ্গি হিসেবে স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয়। অস্বীকার করলে ইলেকট্রিক চেয়ার ও লাঠি দিয়ে নির্যাতনের ভয় দেখানো হয়। কর্মকর্তারা হুমকি দিয়ে বলেন, “জঙ্গি হিসেবে স্বীকারোক্তি দিবি, নয়তো পাগল বানিয়ে ছেড়ে দেব। ঢাকার অধিকাংশ পাগল আমাদের তৈরি।”

দীর্ঘ সময় চোখ বেঁধে রাখা, ঘুমাতে না দেওয়া, হাত ধোয়া পানি খেতে বাধ্য করা এবং সবসময় দাঁড়িয়ে থাকার শাস্তির কথা জানান তিনি। বাথরুমে যাওয়ার জন্য মাত্র তিন মিনিট সময় বরাদ্দ থাকত।

গোপন সেলে থাকাকালীন কৌশলে মেহেদী হাসান ডলার এবং সোহেল রানা নামে আরও দুই বন্দির পরিচয় জানতে পারেন তিনি।

এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে ১০ জন সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে সাব-জেলে রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


‘ঢাকার অধিকাংশ পাগল আমাদের তৈরি’: ট্রাইব্যুনালে গুমজীবনের বর্ণনা দিলেন মাদরাসা শিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও অমানুষিক নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেছেন মাদরাসা শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম।


সোমবার (৪ মে) ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে গিয়ে তিনি তুলে ধরেন ২০২২ সালে র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে কাটানো সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা।

২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি রাতে মোহাম্মদপুর থেকে এক মাদরাসা শিক্ষককে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। চোখ বেঁধে এবং হাতকড়া লাগিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

টিএফআই সেলে তাকে জঙ্গি হিসেবে স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয়। অস্বীকার করলে ইলেকট্রিক চেয়ার ও লাঠি দিয়ে নির্যাতনের ভয় দেখানো হয়। কর্মকর্তারা হুমকি দিয়ে বলেন, “জঙ্গি হিসেবে স্বীকারোক্তি দিবি, নয়তো পাগল বানিয়ে ছেড়ে দেব। ঢাকার অধিকাংশ পাগল আমাদের তৈরি।”

দীর্ঘ সময় চোখ বেঁধে রাখা, ঘুমাতে না দেওয়া, হাত ধোয়া পানি খেতে বাধ্য করা এবং সবসময় দাঁড়িয়ে থাকার শাস্তির কথা জানান তিনি। বাথরুমে যাওয়ার জন্য মাত্র তিন মিনিট সময় বরাদ্দ থাকত।

গোপন সেলে থাকাকালীন কৌশলে মেহেদী হাসান ডলার এবং সোহেল রানা নামে আরও দুই বন্দির পরিচয় জানতে পারেন তিনি।

এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে ১০ জন সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে সাব-জেলে রয়েছেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত