নজর বিডি

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: তিস্তা চুক্তিতে নতুন আশার আলো দেখছে বিএনপি

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: তিস্তা চুক্তিতে নতুন আশার আলো দেখছে বিএনপি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশ-ভারতের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারি দল বিএনপি।


এই জয়ের পর বিজেপিকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে দলটি। বিএনপি মনে করছে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের জটিলতা এবার কাটবে।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনড় অবস্থানের কারণেই এতদিন তিস্তা চুক্তি আলোর মুখ দেখেনি।

তিনি বলেন "আগে আমরা দেখেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিলেন তিস্তা চুক্তির প্রধান অন্তরায়। বাংলাদেশ ও ভারত সরকার—উভয়ই এই চুক্তি চাইলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এখন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার কেন্দ্রে থাকা নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই দাবি পূরণ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।"

আজিজুল বারী হেলাল উল্লেখ করেন যে, ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই বাংলাদেশের দীর্ঘতম সীমান্ত। তাই সেখানে ক্ষমতার পরিবর্তন কেবল তিস্তা ইস্যু নয়, বরং সীমান্ত নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বিএনপি ও বিজেপি ঐকমত্য পোষণ করে।

তিস্তা পানি বণ্টন নিয়ে কয়েক দশকের টানাপোড়েন চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি, একটি অস্থায়ী চুক্তি হয়েছিল যেখানে বাংলাদেশ ৩৬% ও ভারত ৩৯% পানি পাওয়ার কথা ছিল।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে ৩৭.৫% (বাংলাদেশ) ও ৪২.৫% (ভারত) পানি বণ্টনের সমঝোতা হলেও মমতার আপত্তিতে তা বাতিল হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরেও সমতাভিত্তিক বণ্টনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

২০২৬ সালে গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। ৫৪টি অভিন্ন নদীর মধ্যে কেবল গঙ্গা ও কুশিয়ারা নিয়ে চুক্তি কার্যকর থাকলেও তিস্তা ও ফেনীসহ অন্যান্য নদী নিয়ে আলোচনা থমকে আছে।

বিএনপি নেতারা আশা করছেন, পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের সুসমন্বয় এই মৃতপ্রায় আলোচনাকে আবার প্রাণ দেবে এবং দ্রুত একটি সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

সূত্র: এএনআই (ANI)

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: তিস্তা চুক্তিতে নতুন আশার আলো দেখছে বিএনপি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশ-ভারতের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারি দল বিএনপি।


এই জয়ের পর বিজেপিকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে দলটি। বিএনপি মনে করছে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের জটিলতা এবার কাটবে।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনড় অবস্থানের কারণেই এতদিন তিস্তা চুক্তি আলোর মুখ দেখেনি।

তিনি বলেন "আগে আমরা দেখেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিলেন তিস্তা চুক্তির প্রধান অন্তরায়। বাংলাদেশ ও ভারত সরকার—উভয়ই এই চুক্তি চাইলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এখন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার কেন্দ্রে থাকা নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই দাবি পূরণ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।"

আজিজুল বারী হেলাল উল্লেখ করেন যে, ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই বাংলাদেশের দীর্ঘতম সীমান্ত। তাই সেখানে ক্ষমতার পরিবর্তন কেবল তিস্তা ইস্যু নয়, বরং সীমান্ত নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বিএনপি ও বিজেপি ঐকমত্য পোষণ করে।

তিস্তা পানি বণ্টন নিয়ে কয়েক দশকের টানাপোড়েন চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি, একটি অস্থায়ী চুক্তি হয়েছিল যেখানে বাংলাদেশ ৩৬% ও ভারত ৩৯% পানি পাওয়ার কথা ছিল।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে ৩৭.৫% (বাংলাদেশ) ও ৪২.৫% (ভারত) পানি বণ্টনের সমঝোতা হলেও মমতার আপত্তিতে তা বাতিল হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরেও সমতাভিত্তিক বণ্টনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

২০২৬ সালে গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। ৫৪টি অভিন্ন নদীর মধ্যে কেবল গঙ্গা ও কুশিয়ারা নিয়ে চুক্তি কার্যকর থাকলেও তিস্তা ও ফেনীসহ অন্যান্য নদী নিয়ে আলোচনা থমকে আছে।

বিএনপি নেতারা আশা করছেন, পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের সুসমন্বয় এই মৃতপ্রায় আলোচনাকে আবার প্রাণ দেবে এবং দ্রুত একটি সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

সূত্র: এএনআই (ANI)


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত