গাজীপুর নগরে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক ধসে পড়ার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই প্রকৌশলীকে পুনরায় কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করেছিলেন। তবে গত সোমবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সেই বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
পুনর্বহাল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম হারুনুর রশীদ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) এস এম শামছুর রহমান মাহমুদ। কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গত ২৩ মার্চ তাঁদের সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নগরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের তীরে নির্মাণাধীন একটি সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ে। সড়কের একটি অংশ প্রায় ১৫ ফুট নিচে দেবে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ২৩ মার্চ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
পরিদর্শন শেষে প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ ও নির্বাহী প্রকৌশলী শামছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের কাছে বরখাস্ত-সংক্রান্ত চিঠি হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
সে সময় প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তদন্তে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত প্রভাবের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে এবং পরে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর, গত ১১ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ওই দুই কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন ০১-০৫ নম্বর জোনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ’ প্রকল্পে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে একই আদেশে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁদের পুনরায় কর্মস্থলে যোগদানের অফিস আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে তদারকিতে তাঁদের অবহেলা ছিল বলেও তিনি স্বীকার করেন।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
গাজীপুর নগরে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক ধসে পড়ার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই প্রকৌশলীকে পুনরায় কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করেছিলেন। তবে গত সোমবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সেই বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
পুনর্বহাল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম হারুনুর রশীদ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) এস এম শামছুর রহমান মাহমুদ। কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গত ২৩ মার্চ তাঁদের সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নগরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের তীরে নির্মাণাধীন একটি সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ে। সড়কের একটি অংশ প্রায় ১৫ ফুট নিচে দেবে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ২৩ মার্চ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
পরিদর্শন শেষে প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ ও নির্বাহী প্রকৌশলী শামছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের কাছে বরখাস্ত-সংক্রান্ত চিঠি হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
সে সময় প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তদন্তে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত প্রভাবের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে এবং পরে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর, গত ১১ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ওই দুই কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন ০১-০৫ নম্বর জোনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ’ প্রকল্পে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে একই আদেশে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁদের পুনরায় কর্মস্থলে যোগদানের অফিস আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে তদারকিতে তাঁদের অবহেলা ছিল বলেও তিনি স্বীকার করেন।

আপনার মতামত লিখুন