নজর বিডি
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

যুবদল নেতাকে হত্যার পর কারাগারে, জামিনে বেরিয়ে আরেক নেতাকে খুন!

যুবদল নেতাকে হত্যার পর কারাগারে, জামিনে বেরিয়ে আরেক নেতাকে খুন!

চট্টগ্রামের রাউজানে একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত বছরের এক যুবদল নেতা হত্যা মামলার আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও খুন করলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরীকে (৪৫)।

গত বছরের ২২ এপ্রিল রাউজান উপজেলার সদর ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. ইব্রাহিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে দিদারুল আলম নামের এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে। তবে ২০ অক্টোবর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন তিনি।

এরপর গত ১৩ জুন রাউজানের বাগোয়ান এলাকায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডেও দিদারুলের সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। জেলা পুলিশের তথ্যমতে, দিদারুলের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও চুরিসহ অন্তত ৯টি মামলা রয়েছে।

নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পিয়ারুল হক চৌধুরীর ছোট ভাই এবং রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধ। নিহত মাকসুদুলের নিয়ন্ত্রণে রাঙ্গুনিয়ার চম্পাতলী ঘাট এবং রাউজানের খেলার ঘাট এলাকার দুটি বালুমহাল ছিল।

হামলাকারীরা সবাই সশস্ত্র ছিলেন (২ জনের হাতে শটগান ও ৩ জনের হাতে পিস্তল ছিল)। জীবন বাঁচাতে মাকসুদুল একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে তাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

মুখোশধারী একজন ছাড়া বাকিদের চেহারা সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে। তারা সবাই স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের অনুসারী বলে জানা গেছে: ১. ধামা ইলিয়াস (শটগানধারী) – বাড়ি: কদলপুর ইউনিয়ন। ২. দিদারুল আলম (পিস্তলধারী) – বাড়ি: পাঁচলাইশ এলাকা। ৩. মো. আফসার (শটগানধারী) – বাড়ি: কদলপুর ইউনিয়ন। ৪. মো. ইউসুফ (পিস্তলধারী) – বাড়ি: রাউজান পৌরসভা। ৫. মো. জাবেদ

এছাড়াও সহযোগী হিসেবে মো. আইয়ুব, মোম ইউসুফ ও মো. পারভেজ নামের স্থানীয় সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিল।

হত্যাকাণ্ডের দুদিন পার হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মুহাম্মদ জাকির (৪২) নামে এক সন্দেহভাজনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পেলেই দ্রুত মামলা রজু হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাউজানে সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী বর্তমানে কারাগারে থাকলেও, তার পতনের পর এলাকায় নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, গত ২২ মাসে এই উপজেলায় অন্তত ২৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।

এই বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম বলেন, "সন্ত্রাসীদের কোনো দল বা নেতা নেই। তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপকর্ম করে। রাজনীতিবিদদেরও দাগি সন্ত্রাসীদের চিনে দূরে রাখতে হবে।"

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ চট্টগ্রাম, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, যুবদল নেতা খুন, দিদারুল আলম, মাকসুদুল হক চৌধুরী, বালুমহাল বিরোধ, সিসিটিভি ফুটেজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ৫৪ ধারা, Chittagong, Rauzan, Rangunia, Jubo Dal Leader Killed, Crime News Bangladesh, Sand Quarry Dispute

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যুবদল নেতাকে হত্যার পর কারাগারে, জামিনে বেরিয়ে আরেক নেতাকে খুন!

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের রাউজানে একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত বছরের এক যুবদল নেতা হত্যা মামলার আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও খুন করলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরীকে (৪৫)।

গত বছরের ২২ এপ্রিল রাউজান উপজেলার সদর ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. ইব্রাহিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে দিদারুল আলম নামের এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে। তবে ২০ অক্টোবর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন তিনি।

এরপর গত ১৩ জুন রাউজানের বাগোয়ান এলাকায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডেও দিদারুলের সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। জেলা পুলিশের তথ্যমতে, দিদারুলের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও চুরিসহ অন্তত ৯টি মামলা রয়েছে।

নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পিয়ারুল হক চৌধুরীর ছোট ভাই এবং রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধ। নিহত মাকসুদুলের নিয়ন্ত্রণে রাঙ্গুনিয়ার চম্পাতলী ঘাট এবং রাউজানের খেলার ঘাট এলাকার দুটি বালুমহাল ছিল।

হামলাকারীরা সবাই সশস্ত্র ছিলেন (২ জনের হাতে শটগান ও ৩ জনের হাতে পিস্তল ছিল)। জীবন বাঁচাতে মাকসুদুল একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে তাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

মুখোশধারী একজন ছাড়া বাকিদের চেহারা সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে। তারা সবাই স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের অনুসারী বলে জানা গেছে: ১. ধামা ইলিয়াস (শটগানধারী) – বাড়ি: কদলপুর ইউনিয়ন। ২. দিদারুল আলম (পিস্তলধারী) – বাড়ি: পাঁচলাইশ এলাকা। ৩. মো. আফসার (শটগানধারী) – বাড়ি: কদলপুর ইউনিয়ন। ৪. মো. ইউসুফ (পিস্তলধারী) – বাড়ি: রাউজান পৌরসভা। ৫. মো. জাবেদ

এছাড়াও সহযোগী হিসেবে মো. আইয়ুব, মোম ইউসুফ ও মো. পারভেজ নামের স্থানীয় সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিল।

হত্যাকাণ্ডের দুদিন পার হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মুহাম্মদ জাকির (৪২) নামে এক সন্দেহভাজনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পেলেই দ্রুত মামলা রজু হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাউজানে সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী বর্তমানে কারাগারে থাকলেও, তার পতনের পর এলাকায় নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, গত ২২ মাসে এই উপজেলায় অন্তত ২৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।

এই বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম বলেন, "সন্ত্রাসীদের কোনো দল বা নেতা নেই। তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপকর্ম করে। রাজনীতিবিদদেরও দাগি সন্ত্রাসীদের চিনে দূরে রাখতে হবে।"


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত