ইরানজুড়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরু করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের পথ চিরতরে বন্ধ করা।
যুদ্ধের তিন মাসেরও বেশি সময় পর দুই পক্ষ এখন একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু এই যুদ্ধে ট্রাম্প আসলে কী অর্জন করতে পারলেন? তাঁর নির্ধারিত লক্ষ্যগুলোর কতটুকু পূরণ হলো? রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সেই চিত্র:
যুদ্ধ শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কাছেই সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার (২,৫০০ থেকে ৬,০০০টি) ছিল। গত ১৪ মে মার্কিন কংগ্রেসে অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দেড় হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬ হাজারের বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যার ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বহু বছর পিছিয়ে গেছে। তবে ইরান এখনো পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়নি; যার প্রমাণ মেলে গত ৬ ও ৭ জুন কুয়েত, বাহরাইন ও ইসরায়েলে তেহরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ইরানের প্রচলিত সামরিক শক্তি অনেকটাই দুর্বল করতে পেরেছে। কুপারের মতে, ইরানের ১৬১টি নৌজাহাজ ধ্বংস এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৮২ শতাংশ অকেজো করা হয়েছে। আগে যেখানে ইরান দিনে ১০০টি যুদ্ধবিমান ওড়াত, এখন তা শূন্যে নেমে এসেছে। তবে এত কিছুর পরও যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সফলভাবে বন্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছিল ইরান।
ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখা হলেও, এই যুদ্ধ তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতায় বড় কোনো ধস নামাতে পারেনি। মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে ইরানের এখনো এক বছরেরও কম সময় লাগবে। আগামী শুক্রবারের রূপরেখা চুক্তিতে এটিই মূল আলোচনার বিষয়। ট্রাম্প সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর দাবি করলেও ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তা স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন।
"পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করলে ইরানের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’" — ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ইরাক, লেবানন, গাজা ও ইয়েমেনে সক্রিয় প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা ছিল ট্রাম্পের অন্যতম লক্ষ্য। যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের মতো গোষ্ঠীগুলো আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্বলতার বড় অংশটি যুদ্ধ শুরুর আগেই ইসরায়েলি অভিযান এবং সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের কারণে ঘটেছিল।
ট্রাম্পের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটানো। কিন্তু এই যুদ্ধ ইরানের ধর্মতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি ক্ষমতায় আসায় ট্রাম্প একেই নিজের আংশিক বিজয় বলে দাবি করছেন এবং মোজতবা খামেনিকে ‘অধিক যৌক্তিক শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল বুর্গেনস্টক রিসোর্টে বহুল আলোচিত এই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি সই হতে যাচ্ছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ ইরান যুদ্ধ, ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্র ইরান চুক্তি, পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, মোজতবা খামেনি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, রয়টার্স Iran war, Donald Trump, US Iran agreement, nuclear program, ballistic missile, Mojtaba Khamenei, international politics, Middle East crisis, Reuters

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
ইরানজুড়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরু করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের পথ চিরতরে বন্ধ করা।
যুদ্ধের তিন মাসেরও বেশি সময় পর দুই পক্ষ এখন একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু এই যুদ্ধে ট্রাম্প আসলে কী অর্জন করতে পারলেন? তাঁর নির্ধারিত লক্ষ্যগুলোর কতটুকু পূরণ হলো? রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সেই চিত্র:
যুদ্ধ শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কাছেই সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার (২,৫০০ থেকে ৬,০০০টি) ছিল। গত ১৪ মে মার্কিন কংগ্রেসে অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দেড় হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬ হাজারের বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যার ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বহু বছর পিছিয়ে গেছে। তবে ইরান এখনো পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়নি; যার প্রমাণ মেলে গত ৬ ও ৭ জুন কুয়েত, বাহরাইন ও ইসরায়েলে তেহরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ইরানের প্রচলিত সামরিক শক্তি অনেকটাই দুর্বল করতে পেরেছে। কুপারের মতে, ইরানের ১৬১টি নৌজাহাজ ধ্বংস এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৮২ শতাংশ অকেজো করা হয়েছে। আগে যেখানে ইরান দিনে ১০০টি যুদ্ধবিমান ওড়াত, এখন তা শূন্যে নেমে এসেছে। তবে এত কিছুর পরও যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সফলভাবে বন্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছিল ইরান।
ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখা হলেও, এই যুদ্ধ তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতায় বড় কোনো ধস নামাতে পারেনি। মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে ইরানের এখনো এক বছরেরও কম সময় লাগবে। আগামী শুক্রবারের রূপরেখা চুক্তিতে এটিই মূল আলোচনার বিষয়। ট্রাম্প সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর দাবি করলেও ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তা স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন।
"পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করলে ইরানের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’" — ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ইরাক, লেবানন, গাজা ও ইয়েমেনে সক্রিয় প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা ছিল ট্রাম্পের অন্যতম লক্ষ্য। যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের মতো গোষ্ঠীগুলো আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্বলতার বড় অংশটি যুদ্ধ শুরুর আগেই ইসরায়েলি অভিযান এবং সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের কারণে ঘটেছিল।
ট্রাম্পের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটানো। কিন্তু এই যুদ্ধ ইরানের ধর্মতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি ক্ষমতায় আসায় ট্রাম্প একেই নিজের আংশিক বিজয় বলে দাবি করছেন এবং মোজতবা খামেনিকে ‘অধিক যৌক্তিক শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল বুর্গেনস্টক রিসোর্টে বহুল আলোচিত এই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি সই হতে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন