বিনামূল্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিন কী তবে ফুরিয়ে আসছে? সম্প্রতি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের স্ক্রিনে প্রায়ই ভেসে উঠছে ‘প্লাস’ সাবস্ক্রিপশনে আপগ্রেড করার নোটিফিকেশন। মার্ক জাকারবার্গের নেতৃত্বাধীন মেটা তাদের এই দুই জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে পেইড সাবস্ক্রিপশন চালু করেছে, যার জন্য ব্যবহারকারীদের পকেট থেকে অর্থ গুনতে হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাত দিয়ে জানা গেছে, মেটা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং এআই চ্যাটবটসহ মেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারকারীদের জন্য 'ইনস্টাগ্রাম প্লাস' এবং 'ফেসবুক প্লাস' নামে এই নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা চালু করেছে। এছাড়া আরও উচ্চতর স্তরের সাবস্ক্রিপশন নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
কিন্তু হঠাৎ কেন বিজ্ঞাপনের বাইরে এসে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার এই কৌশল? বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল কারণ এআই (AI) খাতের বিশাল খরচ।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও টেক আর্কের প্রতিষ্ঠাতা ফয়সাল কাওসা এনডিটিভিকে বলেন, মেটা তাদের এআই অবকাঠামো তৈরিতে ১২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে জাকারবার্গ অন্যদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকায়, এখন দ্রুত সেই জায়গা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। আর এই বিশাল বিনিয়োগের সার্থকতা প্রমাণের জন্য তাদের একটি নিয়মিত ও নিশ্চিত আয়ের উৎস প্রয়োজন, যা শুধু বিজ্ঞাপন থেকে আসা সম্ভব নয়।
মেটার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সংস্থাটির মোট আয়ের ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশই এসেছিল বিজ্ঞাপন থেকে। গত দুই দশকেও মেটা বিজ্ঞাপনের বাইরে নিজেদের ব্যবসা ছড়াতে পারেনি। অন্যদিকে, গুগল বিজ্ঞাপননির্ভর হলেও ১০ বছর আগেই বিজ্ঞাপনের বাইরে যে পরিমাণ আয় করত, মেটা গত বছরও সেই রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেনি।
গুগল বা মাইক্রোসফট যেভাবে বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের আস্থা অর্জন করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্র তৈরি করেছে, মেটা তা পারেনি। ফলে সাধারণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের ওপর প্রিমিয়াম ফিচার চাপিয়ে টাকা তোলাই এখন জাকারবার্গের প্রধান কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
"মেটার পেইড প্ল্যানগুলো দেখে মনে হচ্ছে তারা এআই-তে নিজেদের বিশাল বিনিয়োগ তুলে আনার চেষ্টা করছে। এজন্য কেবল নিয়মিত ব্যবহারকারীদের আরও বাড়তি কিছু সুবিধা দিয়ে টাকা আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে।"
— শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনী, সিটিও, এআইএনসিউর্ড
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সাবস্ক্রিপশন মডেল মেটার জন্য নতুন খনি হতে যাচ্ছে:
আগামী বছরই সাবস্ক্রিপশন থেকে মেটার ১৫.৬ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে।
২০৩০ সাল নাগাদ সাবস্ক্রিপশন থেকে মেটার বার্ষিক আয় ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
যদিও অনেক বিশ্লেষক এই উচ্চাভিলাষী হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং একে মেটার সাময়িক 'জোড়াতালি' দেওয়ার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা যে বদলে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
বিনামূল্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিন কী তবে ফুরিয়ে আসছে? সম্প্রতি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের স্ক্রিনে প্রায়ই ভেসে উঠছে ‘প্লাস’ সাবস্ক্রিপশনে আপগ্রেড করার নোটিফিকেশন। মার্ক জাকারবার্গের নেতৃত্বাধীন মেটা তাদের এই দুই জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে পেইড সাবস্ক্রিপশন চালু করেছে, যার জন্য ব্যবহারকারীদের পকেট থেকে অর্থ গুনতে হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাত দিয়ে জানা গেছে, মেটা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং এআই চ্যাটবটসহ মেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারকারীদের জন্য 'ইনস্টাগ্রাম প্লাস' এবং 'ফেসবুক প্লাস' নামে এই নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা চালু করেছে। এছাড়া আরও উচ্চতর স্তরের সাবস্ক্রিপশন নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
কিন্তু হঠাৎ কেন বিজ্ঞাপনের বাইরে এসে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার এই কৌশল? বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল কারণ এআই (AI) খাতের বিশাল খরচ।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও টেক আর্কের প্রতিষ্ঠাতা ফয়সাল কাওসা এনডিটিভিকে বলেন, মেটা তাদের এআই অবকাঠামো তৈরিতে ১২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে জাকারবার্গ অন্যদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকায়, এখন দ্রুত সেই জায়গা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। আর এই বিশাল বিনিয়োগের সার্থকতা প্রমাণের জন্য তাদের একটি নিয়মিত ও নিশ্চিত আয়ের উৎস প্রয়োজন, যা শুধু বিজ্ঞাপন থেকে আসা সম্ভব নয়।
মেটার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সংস্থাটির মোট আয়ের ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশই এসেছিল বিজ্ঞাপন থেকে। গত দুই দশকেও মেটা বিজ্ঞাপনের বাইরে নিজেদের ব্যবসা ছড়াতে পারেনি। অন্যদিকে, গুগল বিজ্ঞাপননির্ভর হলেও ১০ বছর আগেই বিজ্ঞাপনের বাইরে যে পরিমাণ আয় করত, মেটা গত বছরও সেই রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেনি।
গুগল বা মাইক্রোসফট যেভাবে বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের আস্থা অর্জন করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্র তৈরি করেছে, মেটা তা পারেনি। ফলে সাধারণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের ওপর প্রিমিয়াম ফিচার চাপিয়ে টাকা তোলাই এখন জাকারবার্গের প্রধান কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
"মেটার পেইড প্ল্যানগুলো দেখে মনে হচ্ছে তারা এআই-তে নিজেদের বিশাল বিনিয়োগ তুলে আনার চেষ্টা করছে। এজন্য কেবল নিয়মিত ব্যবহারকারীদের আরও বাড়তি কিছু সুবিধা দিয়ে টাকা আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে।"
— শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনী, সিটিও, এআইএনসিউর্ড
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সাবস্ক্রিপশন মডেল মেটার জন্য নতুন খনি হতে যাচ্ছে:
আগামী বছরই সাবস্ক্রিপশন থেকে মেটার ১৫.৬ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে।
২০৩০ সাল নাগাদ সাবস্ক্রিপশন থেকে মেটার বার্ষিক আয় ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
যদিও অনেক বিশ্লেষক এই উচ্চাভিলাষী হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং একে মেটার সাময়িক 'জোড়াতালি' দেওয়ার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা যে বদলে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট।

আপনার মতামত লিখুন