ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা সরাতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) অব্যাহত উচ্ছেদ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উত্তরার সচেতন মহল ও সাধারণ পথচারীরা। তবে অভিযান-পরবর্তী কার্যকর তদারকি (মনিটরিং) না থাকায় উচ্ছেদের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ফুটপাত আবারও বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকাল থেকে ডিএনসিসির একটি দল উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ রোড, বিডিআর বাজার এবং হাউজ বিল্ডিং এলাকা থেকে শুরু করে সোনারগাঁও জনপদ রোডের ফুটপাতে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানপাটের মালামাল জব্দ করা হয় এবং আর্থিক জরিমানা করা হয়।
সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও পথচারীরা একে ‘ইঁদুর-বিড়াল খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, একদিকে বিপুল অর্থ ও জনবল খরচ করে অভিযান চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফুটপাত আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, মাত্র দুই দিন আগে আমির কমপ্লেক্স থেকে রাজলক্ষ্মী সড়কে ফুটপাতের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। পথচারীদের দাবি, শুধু সাময়িক অভিযান নয়, ফুটপাত যেন পরবর্তীতে আর কেউ দখল করতে না পারে—সেজন্য দীর্ঘমেয়াদী ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পথচারী জানান, সিটি কর্পোরেশন অভিযানের পরিকল্পনা করার পরপরই কিছু অসাধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাধ্যমে সেই খবর দোকানদারদের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে উচ্ছেদকারী দল আসার আগেই দোকানদাররা তাদের মূল্যবান মালামাল সরিয়ে ফেলার সুযোগ পায়। অভিযান পরিচালনায় শতভাগ গোপনীয়তা বজায় রাখলে অবৈধ দখলদারদের হাতেনাতে ধরা এবং জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হতো বলে মনে করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এদিকে অভিযান চলাকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মালামাল লুটপাট ও জোরপূর্বক অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ময়লার মোড় ফার্নিচার মার্কেটের এক দোকানদার অভিযোগ করেন, সিটি কর্পোরেশনের লোকজন তাকে মারধর করে ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে এবং পরবর্তীতে তাকে মাত্র ৫ হাজার টাকার একটি জরিমানার স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১২ নম্বর সেক্টরের ময়লার মোড় এলাকার ব্যবসায়ী ও পথচারীরা পরামর্শ দিয়ে বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে রাখা উচিত। পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও হয়রানি রুখতে দায়িত্বরত কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্যদের শরীরে ‘বডিক্যাম’ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।
অভিযানকালে অনিয়ম ও মালামাল লুটের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্বে থাকা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে সার্বিক বিষয়ে জানতে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার এবং প্রধান ভূমি কর্মকর্তা শওকত ওসমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পথচারীদের মতে, ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি কঠোর মনিটরিং, সংশ্লিষ্টদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলেই কেবল এই জনভোগান্তি দূর করা সম্ভব।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ উত্তরা, ফুটপাত উচ্ছেদ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ডিএনসিসি, উচ্ছেদ অভিযান, পথচারী ভোগান্তি, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, সোনারগাঁও জনপদ রোড, উত্তরা পশ্চিম থানা, দুর্নীতি ও অনিয়ম, বডিক্যাম Uttara, Footpath Eviction, Dhaka North City Corporation, DNCC, Eviction Drive, Pedestrian Sufferings, Rajuk Uttara Model College, Sonargaon Janapad Road, Uttara West Thana, Corruption Allegations, Bodycam

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা সরাতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) অব্যাহত উচ্ছেদ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উত্তরার সচেতন মহল ও সাধারণ পথচারীরা। তবে অভিযান-পরবর্তী কার্যকর তদারকি (মনিটরিং) না থাকায় উচ্ছেদের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ফুটপাত আবারও বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকাল থেকে ডিএনসিসির একটি দল উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ রোড, বিডিআর বাজার এবং হাউজ বিল্ডিং এলাকা থেকে শুরু করে সোনারগাঁও জনপদ রোডের ফুটপাতে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানপাটের মালামাল জব্দ করা হয় এবং আর্থিক জরিমানা করা হয়।
সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও পথচারীরা একে ‘ইঁদুর-বিড়াল খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, একদিকে বিপুল অর্থ ও জনবল খরচ করে অভিযান চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফুটপাত আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, মাত্র দুই দিন আগে আমির কমপ্লেক্স থেকে রাজলক্ষ্মী সড়কে ফুটপাতের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। পথচারীদের দাবি, শুধু সাময়িক অভিযান নয়, ফুটপাত যেন পরবর্তীতে আর কেউ দখল করতে না পারে—সেজন্য দীর্ঘমেয়াদী ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পথচারী জানান, সিটি কর্পোরেশন অভিযানের পরিকল্পনা করার পরপরই কিছু অসাধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাধ্যমে সেই খবর দোকানদারদের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে উচ্ছেদকারী দল আসার আগেই দোকানদাররা তাদের মূল্যবান মালামাল সরিয়ে ফেলার সুযোগ পায়। অভিযান পরিচালনায় শতভাগ গোপনীয়তা বজায় রাখলে অবৈধ দখলদারদের হাতেনাতে ধরা এবং জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হতো বলে মনে করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এদিকে অভিযান চলাকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মালামাল লুটপাট ও জোরপূর্বক অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ময়লার মোড় ফার্নিচার মার্কেটের এক দোকানদার অভিযোগ করেন, সিটি কর্পোরেশনের লোকজন তাকে মারধর করে ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে এবং পরবর্তীতে তাকে মাত্র ৫ হাজার টাকার একটি জরিমানার স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১২ নম্বর সেক্টরের ময়লার মোড় এলাকার ব্যবসায়ী ও পথচারীরা পরামর্শ দিয়ে বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে রাখা উচিত। পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও হয়রানি রুখতে দায়িত্বরত কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্যদের শরীরে ‘বডিক্যাম’ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।
অভিযানকালে অনিয়ম ও মালামাল লুটের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্বে থাকা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে সার্বিক বিষয়ে জানতে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার এবং প্রধান ভূমি কর্মকর্তা শওকত ওসমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পথচারীদের মতে, ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি কঠোর মনিটরিং, সংশ্লিষ্টদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলেই কেবল এই জনভোগান্তি দূর করা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন