নজর বিডি

ভিকারুননিসায় সিআইডির সাইবার সচেতনতা কর্মসূচি

ভিকারুননিসায় সিআইডির সাইবার সচেতনতা কর্মসূচি

সকাল শুরু হয় একটি নোটিফিকেশন দিয়ে, ক্লাসের ফাঁকে চলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ বুলানো, অবসরে অনলাইন গেমিং আর সন্ধ্যায় ডিজিটাল লেনদেন। আজকের শিক্ষার্থীদের জীবনের বড় একটি অংশই আবর্তিত হচ্ছে পর্দার ভেতরের পৃথিবীকে ঘিরে। কিন্তু এই সুবিধার জগতের পাশাপাশি নীরবে বিস্তার লাভ করছে সাইবার প্রতারণা, পরিচয় চুরি, অনলাইন হয়রানি ও তথ্য ফাঁসের মতো ঝুঁকি। 

প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন হওয়াও এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

এই সচেতনতার উপলব্ধি থেকেই আজ (১১ জুন) বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) এবং বিকাশ লিমিটেডের সহযোগিতায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয় “Cyber Awareness Enhancement Program”। এতে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৬০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব মাজেদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি), সিআইডি-এর ডিআইজি জনাব সানা শামিনুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব মো. জাহিদুল ইসলাম, বিপিএম-সেবা। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিসির বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মীর আবু তৌহিদ, বিপিএম (বার) এবং বিকাশ-এর ইভিপি ও হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স জনাব এ কে এম মনিরুল করিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি সানা শামিনুর রহমান বলেন:

"বর্তমান প্রজন্ম একই সঙ্গে বাস্তব ও ডিজিটাল—এই দুই জগতেই বসবাস করছে। প্রযুক্তির বিস্তার যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি সৃষ্টি করেছে নতুন ধরনের ঝুঁকি। সাইবার অপরাধীরা মানুষের অসতর্কতাকেই সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। তাই সচেতনতাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।"

নজরবিডি

তিনি শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ওটিপি ও পিন নম্বর গোপন রাখা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ও গুজব শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। অনলাইন বুলিং ও সাইবার হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের আহ্বান জানান এবং যেকোনো প্রয়োজনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার সর্বদা সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন।

প্রধান বক্তা অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সাইবার নিরাপত্তা এখন আর শুধু প্রযুক্তিবিদদের আলোচনার বিষয় নয়; এটি প্রতিটি শিক্ষার্থী ও নাগরিকের জন্য অপরিহার্য জীবনদক্ষতায় পরিণত হয়েছে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নীতিনির্ধারক ও নেতৃত্ব, তাই তাদের মধ্যে সঠিক ডিজিটাল নাগরিকত্বের মূল্যবোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মীর আবু তৌহিদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি নিজেরাও অন্যদের সচেতন করবে এবং কোনো ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হবে না।

বিকাশ লিমিটেডের প্রতিনিধি জনাব এ কে এম মনিরুল করিম মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের বিভিন্ন প্রতারণার চিত্র তুলে ধরে বলেন, তরুণ প্রজন্মের সচেতনতার কারণে বর্তমানে প্রতারণার হার অনেক কমে এসেছে।

সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম সিআইডির এই উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই কার্যক্রম থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পাশাপাশি তাদের পরিবার ও সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে ভূমিকা রাখবে।

“Think Twice Before You Click; Cyber Knowledge is Your Best Firewall”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিটি আগামী দিনে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ সাইবার নিরাপত্তা, সিআইডি, সাইবার ক্রাইম, ভিকারুননিসা নূন স্কুল, বিকাশ, সচেতনতা কর্মসূচি, ডিজিটাল নাগরিক, ওটিপি প্রতারণা, অনলাইন হয়রানি, Cyber Security, CID, Cyber Crime, Viqarunnisa Noon School, bKash, Awareness Program, Digital Citizen, OTP Scam, Online Harassment

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভিকারুননিসায় সিআইডির সাইবার সচেতনতা কর্মসূচি

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

সকাল শুরু হয় একটি নোটিফিকেশন দিয়ে, ক্লাসের ফাঁকে চলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ বুলানো, অবসরে অনলাইন গেমিং আর সন্ধ্যায় ডিজিটাল লেনদেন। আজকের শিক্ষার্থীদের জীবনের বড় একটি অংশই আবর্তিত হচ্ছে পর্দার ভেতরের পৃথিবীকে ঘিরে। কিন্তু এই সুবিধার জগতের পাশাপাশি নীরবে বিস্তার লাভ করছে সাইবার প্রতারণা, পরিচয় চুরি, অনলাইন হয়রানি ও তথ্য ফাঁসের মতো ঝুঁকি। 

প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন হওয়াও এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

এই সচেতনতার উপলব্ধি থেকেই আজ (১১ জুন) বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) এবং বিকাশ লিমিটেডের সহযোগিতায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয় “Cyber Awareness Enhancement Program”। এতে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৬০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব মাজেদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি), সিআইডি-এর ডিআইজি জনাব সানা শামিনুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব মো. জাহিদুল ইসলাম, বিপিএম-সেবা। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিসির বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মীর আবু তৌহিদ, বিপিএম (বার) এবং বিকাশ-এর ইভিপি ও হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স জনাব এ কে এম মনিরুল করিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি সানা শামিনুর রহমান বলেন:

"বর্তমান প্রজন্ম একই সঙ্গে বাস্তব ও ডিজিটাল—এই দুই জগতেই বসবাস করছে। প্রযুক্তির বিস্তার যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি সৃষ্টি করেছে নতুন ধরনের ঝুঁকি। সাইবার অপরাধীরা মানুষের অসতর্কতাকেই সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। তাই সচেতনতাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।"

নজরবিডি

তিনি শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ওটিপি ও পিন নম্বর গোপন রাখা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ও গুজব শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। অনলাইন বুলিং ও সাইবার হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের আহ্বান জানান এবং যেকোনো প্রয়োজনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার সর্বদা সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন।

প্রধান বক্তা অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সাইবার নিরাপত্তা এখন আর শুধু প্রযুক্তিবিদদের আলোচনার বিষয় নয়; এটি প্রতিটি শিক্ষার্থী ও নাগরিকের জন্য অপরিহার্য জীবনদক্ষতায় পরিণত হয়েছে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নীতিনির্ধারক ও নেতৃত্ব, তাই তাদের মধ্যে সঠিক ডিজিটাল নাগরিকত্বের মূল্যবোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মীর আবু তৌহিদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি নিজেরাও অন্যদের সচেতন করবে এবং কোনো ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হবে না।

বিকাশ লিমিটেডের প্রতিনিধি জনাব এ কে এম মনিরুল করিম মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের বিভিন্ন প্রতারণার চিত্র তুলে ধরে বলেন, তরুণ প্রজন্মের সচেতনতার কারণে বর্তমানে প্রতারণার হার অনেক কমে এসেছে।

সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম সিআইডির এই উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই কার্যক্রম থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পাশাপাশি তাদের পরিবার ও সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে ভূমিকা রাখবে।

“Think Twice Before You Click; Cyber Knowledge is Your Best Firewall”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিটি আগামী দিনে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত