কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণাকারী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রপিক’-এর নতুন এআই মডেলের ব্যবহার বন্ধ করার ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ অ্যানথ্রপিককে একটি বিতর্কিত নির্দেশনা জারি করে। ওই নির্দেশনায় বিদেশি নাগরিকসহ খোদ অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব কর্মীদের জন্যই প্রতিষ্ঠানটির নতুন এআই মডেল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র অজুহাত দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, ঠিক কী কারণে বা কোন ঝুঁকির মুখে এই নিষেধাজ্ঞা, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ করা হয়নি। সরকারের এই কঠোর নির্দেশনা পাওয়ার পর অ্যানথ্রপিক কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে তাদের সর্বশেষ ও সবচেয়ে উন্নত দুটি এআই মডেল সবার জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
অ্যানথ্রপিক ধারণা করছে, তাদের তৈরি এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা বাধা (গার্ডরেল) অতিক্রম করার একটি কারিগরি বিষয়কে কেন্দ্র করেই হয়তো সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ না জানানোয় প্রতিষ্ঠানটি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
মার্কিন সরকারের এমন আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। প্রখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কেটি মুসুরিস বলেন:
"এআই মডেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা বা দুর্বলতা থাকলেও, সেটিকে সরাসরি ‘রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ’ বা কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা মোটেও ঠিক নয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে নেওয়া হয়েছে এবং এটি বিশ্ব বাজারে একটি ভুল বার্তা দিতে পারে।"
বেশ কয়েকজন স্বাধীন এআই নিরাপত্তা গবেষকও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়বে, যা সামগ্রিক প্রযুক্তি গবেষণাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
প্রযুক্তি নীতিবিষয়ক বিশ্লেষক জাস্টিন হেনড্রিক্স সতর্ক করে বলেন, "এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এআই প্রযুক্তির ওপর বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।" বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু অ্যানথ্রপিক নয়, সিলিকন ভ্যালি তথা যুক্তরাষ্ট্রের পুরো প্রযুক্তি খাতের জন্যই একটি বড় সতর্কবার্তা। কারণ, এই নজির ব্যবহার করে ভবিষ্যতে সরকার যেকোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে।
এদিকে, বিশ্বব্যাপী ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনো স্পষ্ট করেনি যে কেন তারা এমন কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে আগামী দিনে এআই খাতের উন্নয়ন, সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে একটি নতুন ভূ-রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা হলো।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণাকারী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রপিক’-এর নতুন এআই মডেলের ব্যবহার বন্ধ করার ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ অ্যানথ্রপিককে একটি বিতর্কিত নির্দেশনা জারি করে। ওই নির্দেশনায় বিদেশি নাগরিকসহ খোদ অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব কর্মীদের জন্যই প্রতিষ্ঠানটির নতুন এআই মডেল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র অজুহাত দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, ঠিক কী কারণে বা কোন ঝুঁকির মুখে এই নিষেধাজ্ঞা, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ করা হয়নি। সরকারের এই কঠোর নির্দেশনা পাওয়ার পর অ্যানথ্রপিক কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে তাদের সর্বশেষ ও সবচেয়ে উন্নত দুটি এআই মডেল সবার জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
অ্যানথ্রপিক ধারণা করছে, তাদের তৈরি এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা বাধা (গার্ডরেল) অতিক্রম করার একটি কারিগরি বিষয়কে কেন্দ্র করেই হয়তো সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ না জানানোয় প্রতিষ্ঠানটি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
মার্কিন সরকারের এমন আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। প্রখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কেটি মুসুরিস বলেন:
"এআই মডেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা বা দুর্বলতা থাকলেও, সেটিকে সরাসরি ‘রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ’ বা কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা মোটেও ঠিক নয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে নেওয়া হয়েছে এবং এটি বিশ্ব বাজারে একটি ভুল বার্তা দিতে পারে।"
বেশ কয়েকজন স্বাধীন এআই নিরাপত্তা গবেষকও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়বে, যা সামগ্রিক প্রযুক্তি গবেষণাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
প্রযুক্তি নীতিবিষয়ক বিশ্লেষক জাস্টিন হেনড্রিক্স সতর্ক করে বলেন, "এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এআই প্রযুক্তির ওপর বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।" বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু অ্যানথ্রপিক নয়, সিলিকন ভ্যালি তথা যুক্তরাষ্ট্রের পুরো প্রযুক্তি খাতের জন্যই একটি বড় সতর্কবার্তা। কারণ, এই নজির ব্যবহার করে ভবিষ্যতে সরকার যেকোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে।
এদিকে, বিশ্বব্যাপী ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনো স্পষ্ট করেনি যে কেন তারা এমন কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে আগামী দিনে এআই খাতের উন্নয়ন, সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে একটি নতুন ভূ-রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা হলো।

আপনার মতামত লিখুন