নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সাহাবিরা যেসব খেলাধুলা করতেন

সাহাবিরা যেসব খেলাধুলা করতেন

ইসলাম জীবনের ধর্ম, ফিতরতের ধর্ম। শরীরচর্চা ও সুস্থতার জন্য উপকারী খেলাধুলায় রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও উৎসাহিত করেছেন। শর্ত সাপেক্ষে ইসলামে খেলাধুলা শুধু জায়েজই নয়, ক্ষেত্রবিশেষে তা প্রশংসনীয় এবং পছন্দনীয়। 

তবে যেসব খেলাধুলায় সময় নষ্ট হয়, জুয়া বা বাজি ধরার মতো হারাম বিষয় জড়িত থাকে, সতর উন্মুক্ত হয় কিংবা মানুষ আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে পড়ে, সেসব খেলাধুলা ইসলামে নিষিদ্ধ।

নবী যুগে সাহাবিদের ভেতর সুস্থ বিনোদন ও শরীরচর্চার দারুণ চর্চা ছিল। ইতিহাসের পাতা উল্টালে নবী যুগে প্রচলিত ও সুন্নাহ সমর্থিত এমন বেশ কিছু খেলার কথা জানা যায়:

১. তীর নিক্ষেপ (তীরন্দাজি)

নবী যুগে যুদ্ধবিদ্যার পাশাপাশি শরীরচর্চার জন্য সাহাবিরা এই খেলা চর্চা করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তীর নিক্ষেপকে উৎসাহিত করে বলেছেন, ‘আল্লাহ একটি তীরের ওসিলায় তিনজন লোককে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন—তীর নির্মাতা, তীর নিক্ষেপকারী এবং তা নিক্ষেপে সাহায্যকারী।’ তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা তীরন্দাজি করো ও ঘোড়দৌড় শিক্ষা করো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৬৩৭)

২. সাঁতার

রাসুলুল্লাহ (সা.) সাঁতার শিখতে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘প্রত্যেক এমন জিনিস, যাতে আল্লাহর স্মরণ নেই তা অর্থহীন বা ভুল, তবে চারটি বিষয় ছাড়া। তা হলো—হাতের নিশানা ঠিক করার উদ্দেশ্যে তীর খেলা, ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, স্ত্রীর সঙ্গে হাসি-কৌতুক করা এবং সাঁতার শেখা।’ (সুনানে কুবরা লিল-নাসায়ি: ৮৯৪০)

৩. ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা

আরবদের ভেতর ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার ব্যাপক অভ্যাস ছিল এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে এর আয়োজন করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন, যার দূরত্ব ছিল প্রায় ছয় বা সাত মাইল। আর প্রশিক্ষণহীন ঘোড়ার প্রতিযোগিতার দূরত্ব ছিল প্রায় এক মাইল। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) নিজেও এই প্রতিযোগীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৮৭০)

৪. মল্লযুদ্ধ (কুস্তি)

ইসলামের শুরুর যুগে একটি প্রসিদ্ধ খেলা ছিল মল্লযুদ্ধ। মহানবী (সা.) নিজেও একবার মক্কার বিখ্যাত মল্লযোদ্ধা রুকানা বিন ইয়াজিদের সঙ্গে মল্লযুদ্ধে অংশ নেন এবং তাকে পরাজিত করেন। রুকানা শর্ত দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধে পরাজিত হলে তিনি আল্লাহর ওপর ঈমান আনবেন। (সিরাতে ইবনে হিশাম: ১/৩৯০)

৫. দ্রুত হাঁটার প্রতিযোগিতা

দীনের দাওয়াত, যুদ্ধের অভিযান ও জীবিকার অনুসন্ধান ইত্যাদি বিভিন্ন কাজে বের হওয়ার পর সাহাবিদের মধ্যে দ্রুত হাঁটার প্রতিযোগিতা হতো। দীনি কাজে বের হয়ে এমন প্রতিযোগিতাকে মহানবী (সা.) উৎসাহিত করেছেন।

৬. পশুর প্রশিক্ষণ

বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন পশুকে (যেমন ঘোড়া বা উট) বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়াও তৎকালীন সময়ে একটি অন্যতম শারীরিক চর্চামূলক কাজ ও প্রতিযোগিতা ছিল।

৭. ভারোত্তোলন

তৎকালীন আরব সমাজে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে শক্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতা বা ভারোত্তোলন প্রচলিত ছিল। সাহাবি জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)-এর মাথায় এই খেলার ধারণা প্রথম আসে বলে মনে করা হয়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) একবার এমন একদল মানুষের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা পাথর উত্তোলন করে দেখছিল কে বেশি শক্তিশালী। (ইরওয়াউল গালিল: ৫/৩৩৩)

ইসলাম খেলাধুলাকে ঢালাওভাবে নিষেধ করে না, তবে একটি সুন্দর সীমারেখা টেনে দিয়েছে। বর্তমান যুগেও আমরা ফুটবল, ক্রিকেট বা ব্যাডমিন্টন খেলতে পারি, যদি তা আমাদের সালাত থেকে বিমুখ না করে এবং শরিয়তের সীমারেখা (যেমন সতর ঢাকা, জুয়া বা বাজি না ধরা এবং অশ্লীলতা পরিহার করা) লঙ্ঘন না হয়।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ ইসলামে খেলাধুলা, সাহাবিদের খেলাধুলা, সুন্নাহ সমর্থিত খেলা, তীরন্দাজি, ঘোড়দৌড়, মল্লযুদ্ধ, সুস্থ বিনোদন, ইসলাম ও জীবন, Sports in Islam, Sahaba Sports, Sunnah Sports, Archery, Horse Racing, Wrestling, Halal Entertainment, Islam and Life

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাহাবিরা যেসব খেলাধুলা করতেন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

ইসলাম জীবনের ধর্ম, ফিতরতের ধর্ম। শরীরচর্চা ও সুস্থতার জন্য উপকারী খেলাধুলায় রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও উৎসাহিত করেছেন। শর্ত সাপেক্ষে ইসলামে খেলাধুলা শুধু জায়েজই নয়, ক্ষেত্রবিশেষে তা প্রশংসনীয় এবং পছন্দনীয়। 

তবে যেসব খেলাধুলায় সময় নষ্ট হয়, জুয়া বা বাজি ধরার মতো হারাম বিষয় জড়িত থাকে, সতর উন্মুক্ত হয় কিংবা মানুষ আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে পড়ে, সেসব খেলাধুলা ইসলামে নিষিদ্ধ।

নবী যুগে সাহাবিদের ভেতর সুস্থ বিনোদন ও শরীরচর্চার দারুণ চর্চা ছিল। ইতিহাসের পাতা উল্টালে নবী যুগে প্রচলিত ও সুন্নাহ সমর্থিত এমন বেশ কিছু খেলার কথা জানা যায়:

১. তীর নিক্ষেপ (তীরন্দাজি)

নবী যুগে যুদ্ধবিদ্যার পাশাপাশি শরীরচর্চার জন্য সাহাবিরা এই খেলা চর্চা করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তীর নিক্ষেপকে উৎসাহিত করে বলেছেন, ‘আল্লাহ একটি তীরের ওসিলায় তিনজন লোককে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন—তীর নির্মাতা, তীর নিক্ষেপকারী এবং তা নিক্ষেপে সাহায্যকারী।’ তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা তীরন্দাজি করো ও ঘোড়দৌড় শিক্ষা করো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৬৩৭)

২. সাঁতার

রাসুলুল্লাহ (সা.) সাঁতার শিখতে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘প্রত্যেক এমন জিনিস, যাতে আল্লাহর স্মরণ নেই তা অর্থহীন বা ভুল, তবে চারটি বিষয় ছাড়া। তা হলো—হাতের নিশানা ঠিক করার উদ্দেশ্যে তীর খেলা, ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, স্ত্রীর সঙ্গে হাসি-কৌতুক করা এবং সাঁতার শেখা।’ (সুনানে কুবরা লিল-নাসায়ি: ৮৯৪০)

৩. ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা

আরবদের ভেতর ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার ব্যাপক অভ্যাস ছিল এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে এর আয়োজন করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন, যার দূরত্ব ছিল প্রায় ছয় বা সাত মাইল। আর প্রশিক্ষণহীন ঘোড়ার প্রতিযোগিতার দূরত্ব ছিল প্রায় এক মাইল। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) নিজেও এই প্রতিযোগীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৮৭০)

৪. মল্লযুদ্ধ (কুস্তি)

ইসলামের শুরুর যুগে একটি প্রসিদ্ধ খেলা ছিল মল্লযুদ্ধ। মহানবী (সা.) নিজেও একবার মক্কার বিখ্যাত মল্লযোদ্ধা রুকানা বিন ইয়াজিদের সঙ্গে মল্লযুদ্ধে অংশ নেন এবং তাকে পরাজিত করেন। রুকানা শর্ত দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধে পরাজিত হলে তিনি আল্লাহর ওপর ঈমান আনবেন। (সিরাতে ইবনে হিশাম: ১/৩৯০)

৫. দ্রুত হাঁটার প্রতিযোগিতা

দীনের দাওয়াত, যুদ্ধের অভিযান ও জীবিকার অনুসন্ধান ইত্যাদি বিভিন্ন কাজে বের হওয়ার পর সাহাবিদের মধ্যে দ্রুত হাঁটার প্রতিযোগিতা হতো। দীনি কাজে বের হয়ে এমন প্রতিযোগিতাকে মহানবী (সা.) উৎসাহিত করেছেন।

৬. পশুর প্রশিক্ষণ

বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন পশুকে (যেমন ঘোড়া বা উট) বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়াও তৎকালীন সময়ে একটি অন্যতম শারীরিক চর্চামূলক কাজ ও প্রতিযোগিতা ছিল।

৭. ভারোত্তোলন

তৎকালীন আরব সমাজে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে শক্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতা বা ভারোত্তোলন প্রচলিত ছিল। সাহাবি জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)-এর মাথায় এই খেলার ধারণা প্রথম আসে বলে মনে করা হয়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) একবার এমন একদল মানুষের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা পাথর উত্তোলন করে দেখছিল কে বেশি শক্তিশালী। (ইরওয়াউল গালিল: ৫/৩৩৩)

ইসলাম খেলাধুলাকে ঢালাওভাবে নিষেধ করে না, তবে একটি সুন্দর সীমারেখা টেনে দিয়েছে। বর্তমান যুগেও আমরা ফুটবল, ক্রিকেট বা ব্যাডমিন্টন খেলতে পারি, যদি তা আমাদের সালাত থেকে বিমুখ না করে এবং শরিয়তের সীমারেখা (যেমন সতর ঢাকা, জুয়া বা বাজি না ধরা এবং অশ্লীলতা পরিহার করা) লঙ্ঘন না হয়।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত