নজর বিডি
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

দাম্পত্য সুখী হবে এই ৩ উপায়ে, যা দেখিয়েছেন মহানবী (সা.)

দাম্পত্য সুখী হবে এই ৩ উপায়ে, যা দেখিয়েছেন মহানবী (সা.)

সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের প্রথম ধাপ হলো পরিবার। আর একটি আদর্শ পরিবারের মূল ভিত্তি হলো স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্ক। সমসাময়িক বাস্তবতায় নানাবিধ সামাজিক ও মানসিক টানাপোড়েনের কারণে পারিবারিক সুখ-শান্তি বজায় রাখা দিন দিন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। 

এই পরিস্থিতিতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পারিবারিক জীবন আমাদের জন্য হতে পারে সর্বোত্তম অনুকরণীয় আদর্শ। তিনি ছিলেন একাধারে একজন দায়িত্বশীল স্বামী, স্নেহময় পিতা ও আদর্শ অভিভাবক।

পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনকে শান্তিময় করতে মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

১. খোদাভীতি, পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মান

একটি সফল দাম্পত্য জীবনের মূল চাবিকাঠি হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। মহানবী (সা.) নিজের পরিবারের প্রতি সর্বদা দয়ালু, কোমল ও সহনশীল ছিলেন। পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা (স্বামীরা) তাদের পরিচ্ছদ।" অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য আরাম, পবিত্রতা ও সুরক্ষার প্রতীক।

তবে ইসলামে আবেগের চেয়ে ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ বাহ্যিক সৌন্দর্য বা আবেগ কমলেও তাকওয়া থাকলে একে অপরের ওপর জুলুম করে না। ইসলামের প্রাথমিক যুগের বিখ্যাত পণ্ডিত হাসান আল-বসরী এক বাবাকে মেয়ের বিয়ের পাত্র চয়নের পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, "তোমার মেয়েকে এমন ব্যক্তির কাছে বিয়ে দাও যার অন্তরে খোদাভীতি আছে। কারণ সে যদি তোমার মেয়েকে ভালোবাসে তবে তাকে সম্মান করবে; আর যদি কোনো কারণে ভালোবাসায় কমতিও আসে, সে অন্তত তার ওপর জুলুম করবে না।"

২. পরিবারের প্রতি সদয় আচরণ ও কাজে সহযোগিতা

ইসলামের দৃষ্টিতে একজন মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারেন না, যতক্ষণ না সে তার পরিবারের প্রতি সদয় হয়। তৎকালীন আরব সমাজে যখন কন্যাসন্তানদের জ্যান্ত কবর দেওয়া হতো, সেই অন্ধকার যুগে মহানবী (সা.) নারীর সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, "যার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং সে তাদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত তাদের সঙ্গে সদয় আচরণ করে, তবে ওই কন্যাসন্তানরাই তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে।"

অন্য এক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে সেরা।"

হজরত আয়েশা (রা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে রাসুল (সা.) প্রায়ই ঘরের কাজে স্ত্রীদের সহযোগিতা করতেন, নিজের কাপড় নিজে ধুতেন এবং জুতো মেরামত করতেন। চরম ধৈর্যের পরীক্ষার মুহূর্তেও তিনি কখনো পরিবারের প্রতি কোনো কঠোর ভাষা ব্যবহার করেননি।

৩. সুন্দর যোগাযোগ ও মতামতের মূল্যায়ন

যেকোনো সম্পর্কের প্রাণ হলো সুন্দর যোগাযোগ ও কথোপকথন। মহানবী (সা.)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তার কোমল কণ্ঠ ও সুন্দর বাচনভঙ্গি। তিনি কখনো কারও সঙ্গে কটু কথা বলেননি। পরিবারে সবার কথা শোনার ও বলার চমৎকার পরিবেশ ছিল। তিনি তার স্ত্রীদের মতামত ও পরামর্শকে অত্যন্ত মূল্যায়ন করতেন এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক ও সামাজিক বিষয়ে তাদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন।

সন্তানদের প্রতিও তার ভালোবাসা ছিল অনন্য। কন্যা হজরত ফাতিমা (রা.) যখনই বাবার ঘরে আসতেন, মহানবী (সা.) নিজে আসন থেকে উঠে দাঁড়াতেন, তাকে চুম্বন করতেন এবং নিজের বসার জায়গায় তাকে বসাতেন।

একটি ভালোবাসাময় ও শান্তিময় পরিবার গঠনে মহানবী (সা.)-এর এই আদর্শগুলো প্রতিটি দম্পতির জন্য সেরা অনুপ্রেরণা।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ দাম্পত্য জীবন, সুখী পরিবার, মহানবীর আদর্শ, ইসলাম ও পরিবার, স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক, ইসলাম ধর্ম, হাদিস ও সুন্নাহ, পারিবারিক সুখ Happy Marriage Islam, Prophet Muhammad Family Life, Islamic Family Values, Husband Wife Relationship Islam, Sunnah of Marriage, Islamic Article

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দাম্পত্য সুখী হবে এই ৩ উপায়ে, যা দেখিয়েছেন মহানবী (সা.)

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image

সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের প্রথম ধাপ হলো পরিবার। আর একটি আদর্শ পরিবারের মূল ভিত্তি হলো স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্ক। সমসাময়িক বাস্তবতায় নানাবিধ সামাজিক ও মানসিক টানাপোড়েনের কারণে পারিবারিক সুখ-শান্তি বজায় রাখা দিন দিন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। 

এই পরিস্থিতিতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পারিবারিক জীবন আমাদের জন্য হতে পারে সর্বোত্তম অনুকরণীয় আদর্শ। তিনি ছিলেন একাধারে একজন দায়িত্বশীল স্বামী, স্নেহময় পিতা ও আদর্শ অভিভাবক।

পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনকে শান্তিময় করতে মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

১. খোদাভীতি, পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মান

একটি সফল দাম্পত্য জীবনের মূল চাবিকাঠি হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। মহানবী (সা.) নিজের পরিবারের প্রতি সর্বদা দয়ালু, কোমল ও সহনশীল ছিলেন। পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা (স্বামীরা) তাদের পরিচ্ছদ।" অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য আরাম, পবিত্রতা ও সুরক্ষার প্রতীক।

তবে ইসলামে আবেগের চেয়ে ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ বাহ্যিক সৌন্দর্য বা আবেগ কমলেও তাকওয়া থাকলে একে অপরের ওপর জুলুম করে না। ইসলামের প্রাথমিক যুগের বিখ্যাত পণ্ডিত হাসান আল-বসরী এক বাবাকে মেয়ের বিয়ের পাত্র চয়নের পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, "তোমার মেয়েকে এমন ব্যক্তির কাছে বিয়ে দাও যার অন্তরে খোদাভীতি আছে। কারণ সে যদি তোমার মেয়েকে ভালোবাসে তবে তাকে সম্মান করবে; আর যদি কোনো কারণে ভালোবাসায় কমতিও আসে, সে অন্তত তার ওপর জুলুম করবে না।"

২. পরিবারের প্রতি সদয় আচরণ ও কাজে সহযোগিতা

ইসলামের দৃষ্টিতে একজন মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারেন না, যতক্ষণ না সে তার পরিবারের প্রতি সদয় হয়। তৎকালীন আরব সমাজে যখন কন্যাসন্তানদের জ্যান্ত কবর দেওয়া হতো, সেই অন্ধকার যুগে মহানবী (সা.) নারীর সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, "যার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং সে তাদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত তাদের সঙ্গে সদয় আচরণ করে, তবে ওই কন্যাসন্তানরাই তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে।"

অন্য এক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে সেরা।"

হজরত আয়েশা (রা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে রাসুল (সা.) প্রায়ই ঘরের কাজে স্ত্রীদের সহযোগিতা করতেন, নিজের কাপড় নিজে ধুতেন এবং জুতো মেরামত করতেন। চরম ধৈর্যের পরীক্ষার মুহূর্তেও তিনি কখনো পরিবারের প্রতি কোনো কঠোর ভাষা ব্যবহার করেননি।

৩. সুন্দর যোগাযোগ ও মতামতের মূল্যায়ন

যেকোনো সম্পর্কের প্রাণ হলো সুন্দর যোগাযোগ ও কথোপকথন। মহানবী (সা.)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তার কোমল কণ্ঠ ও সুন্দর বাচনভঙ্গি। তিনি কখনো কারও সঙ্গে কটু কথা বলেননি। পরিবারে সবার কথা শোনার ও বলার চমৎকার পরিবেশ ছিল। তিনি তার স্ত্রীদের মতামত ও পরামর্শকে অত্যন্ত মূল্যায়ন করতেন এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক ও সামাজিক বিষয়ে তাদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন।

সন্তানদের প্রতিও তার ভালোবাসা ছিল অনন্য। কন্যা হজরত ফাতিমা (রা.) যখনই বাবার ঘরে আসতেন, মহানবী (সা.) নিজে আসন থেকে উঠে দাঁড়াতেন, তাকে চুম্বন করতেন এবং নিজের বসার জায়গায় তাকে বসাতেন।

একটি ভালোবাসাময় ও শান্তিময় পরিবার গঠনে মহানবী (সা.)-এর এই আদর্শগুলো প্রতিটি দম্পতির জন্য সেরা অনুপ্রেরণা।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত