মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন, “আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা করি, যাতে সকলে মিলে ভালো থাকতে পারি। দেশ থেকে কী নেবো—এই মানসিকতা থেকে আমাদের এখন বেরিয়ে আসতে হবে।”
রোববার (২১ জুন ২০২৬) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় কুয়ালালামপুরের হোটেল শাংগ্রি লা-তে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আয়োজিত এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
বিগত ওয়ান-ইলেভেন (১/১১) এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর নিজের, তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর প্রয়াত ভাই আরাফাত রহমান কোকোর ওপর ঘটে যাওয়া নির্মম অবিচারের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
“এই মুহূর্তে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। আমি প্রধানমন্ত্রী, আমি চাইলে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে হয়ত অনেক কিছুর প্রতিশোধ নিতে পারি। কিন্তু আমি যদি সেটা করি, তাতে উপকার কী হবে, বলতে পারেন? কারো উপকার হবে না। তাই এই প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।”
গত দেড় দশকের দুঃশাসনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ দেশ থেকে একটা গোষ্ঠী নিতে নিতে দেশটিকে একদম শেষ করে দিয়েছে, ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছে। এখন সবাই মিলে দেশটাকে গড়ে তোলার সময়।”
মালয়েশিয়ার পরিচ্ছন্নতার উদাহরণ টেনে তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন:
“কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আসার সময় রাস্তাগুলো আমার কাছে অনেক পরিষ্কার লেগেছে। আর এই পরিষ্কার করার কাজটি কিন্তু আমার দেশের ভাইরাই করছে। আমার দেশের ভাইরা যদি পরবাসে এত সুন্দর কাজ করতে পারে, তাহলে আমরা নিজেদের দেশে কেন পারব না?”
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশ গঠনে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো প্রবাসীদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচিসহ তৃণমূলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর জন্য দেশবাসীকে কঠোর পরিশ্রম, কষ্ট এবং ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁকে প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “আমি আমাদের প্রবাসী ভাইদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে এ দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কথা বলব। এই দেশের আইনের মধ্যে থেকে প্রবাসীদের জন্য সর্বোচ্চটা আদায় করার চেষ্টা করব।”
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মঞ্জুরুল করীম।
উল্লেখ্য, দুই দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে আজ সোমবার (২২ জুন) সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে পেরদানা পুত্রায় এক একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসীদের মতবিনিময়, মালয়েশিয়া সফর, কুয়ালালামপুর, ডা. জুবাইদা রহমান, প্রতিশোধের রাজনীতি, বিএনপি, ফ্যামিলি কার্ড Tarique Rahman, Prime Minister, Expatriates Meeting, Malaysia Visit, Kuala Lumpur, Dr Zubaida Rahman, Politics of Vengeance, BNP, Family Card

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন, “আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা করি, যাতে সকলে মিলে ভালো থাকতে পারি। দেশ থেকে কী নেবো—এই মানসিকতা থেকে আমাদের এখন বেরিয়ে আসতে হবে।”
রোববার (২১ জুন ২০২৬) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় কুয়ালালামপুরের হোটেল শাংগ্রি লা-তে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আয়োজিত এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
বিগত ওয়ান-ইলেভেন (১/১১) এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর নিজের, তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর প্রয়াত ভাই আরাফাত রহমান কোকোর ওপর ঘটে যাওয়া নির্মম অবিচারের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
“এই মুহূর্তে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। আমি প্রধানমন্ত্রী, আমি চাইলে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে হয়ত অনেক কিছুর প্রতিশোধ নিতে পারি। কিন্তু আমি যদি সেটা করি, তাতে উপকার কী হবে, বলতে পারেন? কারো উপকার হবে না। তাই এই প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।”
গত দেড় দশকের দুঃশাসনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ দেশ থেকে একটা গোষ্ঠী নিতে নিতে দেশটিকে একদম শেষ করে দিয়েছে, ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছে। এখন সবাই মিলে দেশটাকে গড়ে তোলার সময়।”
মালয়েশিয়ার পরিচ্ছন্নতার উদাহরণ টেনে তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন:
“কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আসার সময় রাস্তাগুলো আমার কাছে অনেক পরিষ্কার লেগেছে। আর এই পরিষ্কার করার কাজটি কিন্তু আমার দেশের ভাইরাই করছে। আমার দেশের ভাইরা যদি পরবাসে এত সুন্দর কাজ করতে পারে, তাহলে আমরা নিজেদের দেশে কেন পারব না?”
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশ গঠনে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো প্রবাসীদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচিসহ তৃণমূলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর জন্য দেশবাসীকে কঠোর পরিশ্রম, কষ্ট এবং ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁকে প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “আমি আমাদের প্রবাসী ভাইদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে এ দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কথা বলব। এই দেশের আইনের মধ্যে থেকে প্রবাসীদের জন্য সর্বোচ্চটা আদায় করার চেষ্টা করব।”
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মঞ্জুরুল করীম।
উল্লেখ্য, দুই দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে আজ সোমবার (২২ জুন) সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে পেরদানা পুত্রায় এক একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আপনার মতামত লিখুন