নজর বিডি

অপপ্রচার ঠেকাতে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল বন্ধে হাইকোর্টে রিট

অপপ্রচার ঠেকাতে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল বন্ধে হাইকোর্টে রিট

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিল-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকুর আলী (জুনু)।

রিট আবেদনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও সংস্থার প্রধানসহ মোট ৮ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। তারা হলেন— ১. স্বরাষ্ট্র সচিব, ২. তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, ৩. বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, ৪. পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ৫. র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক, ৬. ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, ৭. সিআইডির প্রধান, ৮. সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের প্রধান।

রিট আবেদনে বলা হয়, কিছু অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে জনমনে তীব্র বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে লিখিত আবেদন দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে জনস্বার্থে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

রিটে সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রম তদন্ত করা, প্রকৃত মালিকানা ও নিবন্ধন যাচাই করা, আইনবিরোধী কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বন্ধ বা ব্লক করা এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আবেদনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকুর আলী (জুনু) বলেন,

"মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। তবে মিথ্যা তথ্য, গুজব, সাইবার হয়রানি ও মানহানিকর প্রচারণা কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতাভুক্ত নয়। রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি, আইনের শাসন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।"

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রিট আবেদনের সঙ্গে অপপ্রচার সংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন কনটেন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং পূর্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিলকৃত আবেদনের অনুলিপি সংযুক্ত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এই রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ হাইকোর্টে রিট, অনলাইন পোর্টাল বন্ধ, অপপ্রচার, গুজব, বিটিআরসি, সুপ্রিম কোর্ট, এস এম জুলফিকুর আলী জুনু, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, সাইবার অপরাধ, আইন-আদালত, Bangladesh Court News High Court Writ, Unregistered Online Portal, BTRC, Cyber Crime Bangladesh, Fake News, SM Zulfiqur Ali Junu, Supreme Court, Cyber Police, Social Media Rumor, Legal Action, Bangladesh Law News

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অপপ্রচার ঠেকাতে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল বন্ধে হাইকোর্টে রিট

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিল-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকুর আলী (জুনু)।

রিট আবেদনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও সংস্থার প্রধানসহ মোট ৮ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। তারা হলেন— ১. স্বরাষ্ট্র সচিব, ২. তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, ৩. বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, ৪. পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ৫. র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক, ৬. ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, ৭. সিআইডির প্রধান, ৮. সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের প্রধান।

রিট আবেদনে বলা হয়, কিছু অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে জনমনে তীব্র বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে লিখিত আবেদন দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে জনস্বার্থে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

রিটে সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রম তদন্ত করা, প্রকৃত মালিকানা ও নিবন্ধন যাচাই করা, আইনবিরোধী কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বন্ধ বা ব্লক করা এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আবেদনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকুর আলী (জুনু) বলেন,

"মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। তবে মিথ্যা তথ্য, গুজব, সাইবার হয়রানি ও মানহানিকর প্রচারণা কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতাভুক্ত নয়। রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি, আইনের শাসন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।"

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রিট আবেদনের সঙ্গে অপপ্রচার সংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন কনটেন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং পূর্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিলকৃত আবেদনের অনুলিপি সংযুক্ত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এই রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত