চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা অস্ত্রবাজি ও সংঘাতের মূলহোতা যুবলীগ নেতা মো. হাছান মাহমুদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার খাগড়িয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গণিপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হাছান মাহমুদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং খাগড়িয়া এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের ভাগিনা। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া, নগরীর চান্দগাঁও ও কোতোয়ালি থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্রবাজিসহ মোট ৬টি গুরুতর মামলা রয়েছে। প্রায় এক দশক আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে মামার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় নিজস্ব বাহিনী ও একক আধিপত্য গড়ে তোলেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় গণিপাড়ায় নিজের বাড়ির সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন হাছান মাহমুদ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহির আমিন ও রোমান হোসেনসহ পুলিশের একটি দল সেখানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
জানা যায়, ২০২২ সালে সাতকানিয়ার খাগড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আকতার হোসেন ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (মোটরসাইকেল প্রতীক) জসিম উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। ওই সময় দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা অস্ত্রবাজির নেপথ্যে উঠে আসে যুবলীগ নেতা হাছান মাহমুদের নাম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে জানা যায়, ওই সংঘাতের মূল অস্ত্র জোগানদাতা ছিলেন এই হাছান। নির্বাচনের দিন নৌকার প্রার্থী আকতার হোসেনের সৎভাই মো. কায়েস হাছানের কাছ থেকেই অস্ত্র ভাড়া নিয়ে মহড়া দিয়েছিলেন, যার ছবি সে সময় গণমাধ্যমেও প্রকাশ পায়।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সফল অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত শীর্ষ আসামি হাছান মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "খাগড়িয়ার ওই নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার এবং বেশ কিছু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মূলহোতা ও অস্ত্র সরবরাহকারী হাছান মাহমুদকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচনে বড় অগ্রগতি হলো। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ হাছান মাহমুদ গ্রেপ্তার, সাতকানিয়া সহিংসতা, যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার, চট্টগ্রাম অপরাধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, খাগড়িয়া ইউপি নির্বাচন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ Hasan Mahmud Arrested, Satkania Violence, Jubo League Leader Arrested, Chittagong Crime, Illegal Arms Recovery, Khagaria UP Election, Chittagong District Police

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা অস্ত্রবাজি ও সংঘাতের মূলহোতা যুবলীগ নেতা মো. হাছান মাহমুদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার খাগড়িয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গণিপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হাছান মাহমুদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং খাগড়িয়া এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের ভাগিনা। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া, নগরীর চান্দগাঁও ও কোতোয়ালি থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্রবাজিসহ মোট ৬টি গুরুতর মামলা রয়েছে। প্রায় এক দশক আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে মামার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় নিজস্ব বাহিনী ও একক আধিপত্য গড়ে তোলেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় গণিপাড়ায় নিজের বাড়ির সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন হাছান মাহমুদ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহির আমিন ও রোমান হোসেনসহ পুলিশের একটি দল সেখানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
জানা যায়, ২০২২ সালে সাতকানিয়ার খাগড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আকতার হোসেন ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (মোটরসাইকেল প্রতীক) জসিম উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। ওই সময় দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা অস্ত্রবাজির নেপথ্যে উঠে আসে যুবলীগ নেতা হাছান মাহমুদের নাম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে জানা যায়, ওই সংঘাতের মূল অস্ত্র জোগানদাতা ছিলেন এই হাছান। নির্বাচনের দিন নৌকার প্রার্থী আকতার হোসেনের সৎভাই মো. কায়েস হাছানের কাছ থেকেই অস্ত্র ভাড়া নিয়ে মহড়া দিয়েছিলেন, যার ছবি সে সময় গণমাধ্যমেও প্রকাশ পায়।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সফল অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত শীর্ষ আসামি হাছান মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "খাগড়িয়ার ওই নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার এবং বেশ কিছু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মূলহোতা ও অস্ত্র সরবরাহকারী হাছান মাহমুদকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচনে বড় অগ্রগতি হলো। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

আপনার মতামত লিখুন