নজর বিডি

ফ্রান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গরম, সাঁতার কাটতে গিয়ে ৪০ জনের মৃত্যু

ফ্রান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গরম, সাঁতার কাটতে গিয়ে ৪০ জনের মৃত্যু

ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম দিন পার করছে ফ্রান্স। দেশটিতে চলমান তীব্র দাবদাহ (Heatwave) থেকে বাঁচতে গিয়ে অনিরাপদ ও নজরদারিবিহীন জলাশয়ে সাঁতার কাটতে নেমে অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ফ্রান্সের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, স্পেন এবং ইতালিতেও তাপমাত্রার পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক জরুরি বৈঠক শেষে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ। তিনি এই ঘটনাকে একটি ‘মর্মান্তিক অভিশাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লে হার্বিয়ার্সে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বন্ধ গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, পরে হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া বোর্দো অঞ্চলে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী আরও তিন বৃদ্ধ গরমজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার (Heatstroke) কারণে মারা গিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস (আইএফআরসি) সতর্ক করে বলেছে, এই তীব্র দাবদাহ এখন সাধারণ মানুষের জন্য জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সকলকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার অনুরোধ করেছে।

ফ্রান্সের আবহাওয়া বিভাগ মেটিও-ফ্রান্স (Météo-France) জানিয়েছে, ১৯৪৭ সালের পর ফ্রান্সে এটিই সবচেয়ে উষ্ণতম সময়। অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশের বিদ্যুৎ গ্রিড ও জরুরি জনসেবা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে দেশের ৫৪টি এলাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় অনেক স্কুল নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্যারিসের বিখ্যাত লুভর মিউজিয়াম এবং আইফেল টাওয়ার পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপের অন্যান্য দেশেও গরমের তীব্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, আবহাওয়া অফিস তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, যা ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে।

সান সেবাস্তিয়ানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোমসহ ১৫টি শহরে সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ‘ওমেগা ব্লক’ (Omega Block) নামক একটি বিশেষ ও জটিল আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে আসা তীব্র গরম বাতাস ইউরোপের ওপর আটকে গেছে। উচ্চ বায়ুচাপের কারণে বাতাস চলাচল করতে না পারায় এই গরম দিনের পর দিন আরও তীব্র ও শ্বাসরুদ্ধকর আকারে অনুভূত হচ্ছে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ France Heatwave, Europe Weather, Record Temperature, Omega Block, Heatstroke Deaths, Sebastian Lecornu, Climate Change, Global Warming, International News ফ্রান্স দাবদাহ, ইউরোপের আবহাওয়া, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, ওমেগা ব্লক, হিটস্ট্রোক, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী, পানিতে ডুবে মৃত্যু, আন্তর্জাতিক সংবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফ্রান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গরম, সাঁতার কাটতে গিয়ে ৪০ জনের মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম দিন পার করছে ফ্রান্স। দেশটিতে চলমান তীব্র দাবদাহ (Heatwave) থেকে বাঁচতে গিয়ে অনিরাপদ ও নজরদারিবিহীন জলাশয়ে সাঁতার কাটতে নেমে অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ফ্রান্সের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, স্পেন এবং ইতালিতেও তাপমাত্রার পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক জরুরি বৈঠক শেষে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ। তিনি এই ঘটনাকে একটি ‘মর্মান্তিক অভিশাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লে হার্বিয়ার্সে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বন্ধ গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, পরে হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া বোর্দো অঞ্চলে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী আরও তিন বৃদ্ধ গরমজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার (Heatstroke) কারণে মারা গিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস (আইএফআরসি) সতর্ক করে বলেছে, এই তীব্র দাবদাহ এখন সাধারণ মানুষের জন্য জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সকলকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার অনুরোধ করেছে।

ফ্রান্সের আবহাওয়া বিভাগ মেটিও-ফ্রান্স (Météo-France) জানিয়েছে, ১৯৪৭ সালের পর ফ্রান্সে এটিই সবচেয়ে উষ্ণতম সময়। অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশের বিদ্যুৎ গ্রিড ও জরুরি জনসেবা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে দেশের ৫৪টি এলাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় অনেক স্কুল নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্যারিসের বিখ্যাত লুভর মিউজিয়াম এবং আইফেল টাওয়ার পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপের অন্যান্য দেশেও গরমের তীব্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, আবহাওয়া অফিস তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, যা ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে।

সান সেবাস্তিয়ানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোমসহ ১৫টি শহরে সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ‘ওমেগা ব্লক’ (Omega Block) নামক একটি বিশেষ ও জটিল আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে আসা তীব্র গরম বাতাস ইউরোপের ওপর আটকে গেছে। উচ্চ বায়ুচাপের কারণে বাতাস চলাচল করতে না পারায় এই গরম দিনের পর দিন আরও তীব্র ও শ্বাসরুদ্ধকর আকারে অনুভূত হচ্ছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত