নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

পিবিআইয়ের অভিযানে দেড় বছর পর আশুলিয়ার জনি হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন

পিবিআইয়ের অভিযানে দেড় বছর পর আশুলিয়ার জনি হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন

ঢাকা জেলার আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় পুকুরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া চাঞ্চল্যকর হাসিবুল ইসলাম জনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য দেড় বছর পর উন্মোচন করেছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ঢাকা জেলা। 

এই ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজন বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ১. মো. শাহজালাল সরকার (২৮) ২. মো. সাইফুল ইসলাম (৪০)

২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে আশুলিয়ার মধুপুর উত্তরপাড়ায় হাসিবুল ইসলাম জনিকে (২১) মারপিট করে হত্যা করে অজ্ঞাতনামা আসামিরা। হত্যার পর লাশ গুম করতে নাজমুল হোসেনের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার চার দিন পর পুকুর থেকে জনির অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। 

এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা (নং ২৭, তারিখ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪) দায়ের করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ থেকে পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম,এন মোর্শেদ পিপিএম-সেবা’র তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মাহবুব হোসেন ছায়া তদন্ত শুরু করেন। 

দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করার পর, গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মো. শাহজালাল সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. শাহজালাল সরকার বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। জবানবন্দি ও পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, মাদক ব্যবসা ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। ঘটনার দিন ভিকটিম জনি তার বন্ধু সোহাগ ও রানা খানকে নিয়ে ঘটনাস্থলে মাদক সেবন ও বিক্রয় করছিল। 

বিষয়টি জানতে পেরে শাহজালাল ও সাইফুলসহ অন্য আসামিরা লাঠিসোটা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। আসামিদের দেখে ভিকটিমের বন্ধুরা পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও জনি ধরা পড়ে যান। এরপর আসামিরা তাকে এলোপাথাড়ি মারপিট করে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে পালিয়ে যায়।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম,এন মোর্শেদ পিপিএম-সেবা জানান, অত্যন্ত নিবিড় এবং বিরামহীন প্রচেষ্টার মাধ্যমে পিবিআই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। 

ঘটনার দেড় বছর পর আসামিদের গ্রেপ্তার ও জবানবন্দি প্রদানের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ পিবিআই, ঢাকা জেলা, আশুলিয়া, জনি হত্যা মামলা, রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, PBI, Dhaka District, Ashulia, Jony Murder Case, Mystery Solved, Arrest, Confession

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পিবিআইয়ের অভিযানে দেড় বছর পর আশুলিয়ার জনি হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

ঢাকা জেলার আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় পুকুরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া চাঞ্চল্যকর হাসিবুল ইসলাম জনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য দেড় বছর পর উন্মোচন করেছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ঢাকা জেলা। 

এই ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজন বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ১. মো. শাহজালাল সরকার (২৮) ২. মো. সাইফুল ইসলাম (৪০)

২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে আশুলিয়ার মধুপুর উত্তরপাড়ায় হাসিবুল ইসলাম জনিকে (২১) মারপিট করে হত্যা করে অজ্ঞাতনামা আসামিরা। হত্যার পর লাশ গুম করতে নাজমুল হোসেনের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার চার দিন পর পুকুর থেকে জনির অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। 

এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা (নং ২৭, তারিখ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪) দায়ের করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ থেকে পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম,এন মোর্শেদ পিপিএম-সেবা’র তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মাহবুব হোসেন ছায়া তদন্ত শুরু করেন। 

দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করার পর, গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মো. শাহজালাল সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. শাহজালাল সরকার বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। জবানবন্দি ও পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, মাদক ব্যবসা ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। ঘটনার দিন ভিকটিম জনি তার বন্ধু সোহাগ ও রানা খানকে নিয়ে ঘটনাস্থলে মাদক সেবন ও বিক্রয় করছিল। 

বিষয়টি জানতে পেরে শাহজালাল ও সাইফুলসহ অন্য আসামিরা লাঠিসোটা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। আসামিদের দেখে ভিকটিমের বন্ধুরা পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও জনি ধরা পড়ে যান। এরপর আসামিরা তাকে এলোপাথাড়ি মারপিট করে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে পালিয়ে যায়।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম,এন মোর্শেদ পিপিএম-সেবা জানান, অত্যন্ত নিবিড় এবং বিরামহীন প্রচেষ্টার মাধ্যমে পিবিআই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। 

ঘটনার দেড় বছর পর আসামিদের গ্রেপ্তার ও জবানবন্দি প্রদানের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত