দেশের গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দুই বিতর্কিত কর্মচারী—ফায়ার ফাইটার মো. সাদ্দাম হোসেন এবং সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. রেজায়ে রাব্বীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাংবাদিকদের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ নিয়ে ফায়ার সার্ভিস অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় চলছে।
ফায়ার ফাইটার মো. সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, সাধারণ কর্মচারী হয়েও তিনি বছরের পর বছর সচিবালয়ে অবাধ বিচরণ ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে:
গত ছয়-সাত বছর নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেও বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন।
সচিবালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে বদলি ও পদোন্নতির তদবিরে লিপ্ত থাকা।
সরকারি বেতনের বাইরেও রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দুটি ফ্ল্যাট, একাধিক গাড়ি ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গোপন নথি ফাঁস করে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো।
অন্যদিকে, সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. রেজায়ের রাব্বীর বিরুদ্ধে সরকারি কোয়ার্টার ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে পদায়ন বাণিজ্য এবং গত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত থেকে বিতর্কিত ভূমিকা পালনের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের।
অভিযোগ রয়েছে, এসব দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সাদ্দাম ও রাব্বী ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি ও অপপ্রচার শুরু করেছেন। তারা প্রেসক্লাব ও বিভিন্ন মিডিয়া হাউসে গিয়ে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন, যা সরকারি চাকরিবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া বা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
এত গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও ফায়ার সার্ভিস প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় তদন্ত কিংবা কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের মতো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও ভয়ভীতির এই সংস্কৃতি বজায় থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রশাসনের নীরবতা কেবল উদাসীনতা নয়, বরং অপরাধীদের সাথে যোগসাজশের ইঙ্গিত বহন করে কি না—সে নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, ফায়ার সার্ভিস প্রশাসন এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
দেশের গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দুই বিতর্কিত কর্মচারী—ফায়ার ফাইটার মো. সাদ্দাম হোসেন এবং সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. রেজায়ে রাব্বীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাংবাদিকদের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ নিয়ে ফায়ার সার্ভিস অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় চলছে।
ফায়ার ফাইটার মো. সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, সাধারণ কর্মচারী হয়েও তিনি বছরের পর বছর সচিবালয়ে অবাধ বিচরণ ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে:
গত ছয়-সাত বছর নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেও বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন।
সচিবালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে বদলি ও পদোন্নতির তদবিরে লিপ্ত থাকা।
সরকারি বেতনের বাইরেও রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দুটি ফ্ল্যাট, একাধিক গাড়ি ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গোপন নথি ফাঁস করে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো।
অন্যদিকে, সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. রেজায়ের রাব্বীর বিরুদ্ধে সরকারি কোয়ার্টার ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে পদায়ন বাণিজ্য এবং গত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত থেকে বিতর্কিত ভূমিকা পালনের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের।
অভিযোগ রয়েছে, এসব দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সাদ্দাম ও রাব্বী ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি ও অপপ্রচার শুরু করেছেন। তারা প্রেসক্লাব ও বিভিন্ন মিডিয়া হাউসে গিয়ে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন, যা সরকারি চাকরিবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া বা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
এত গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও ফায়ার সার্ভিস প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় তদন্ত কিংবা কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের মতো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও ভয়ভীতির এই সংস্কৃতি বজায় থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রশাসনের নীরবতা কেবল উদাসীনতা নয়, বরং অপরাধীদের সাথে যোগসাজশের ইঙ্গিত বহন করে কি না—সে নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, ফায়ার সার্ভিস প্রশাসন এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না।

আপনার মতামত লিখুন