নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতে বছরে ৫ কোটি টাকার বেশি সাশ্রয়

প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতে বছরে ৫ কোটি টাকার বেশি সাশ্রয়

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত প্রতিটি নতুন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে ৫ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় করছে বলে জানিয়েছে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে এই বড় অংকের সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে।

সংগঠনটির নতুন গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আট বছরে দেশে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৩ হাজার ২৩০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে ২ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে ৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সর্বমোট ৭ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জিত হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, প্রতিটি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমায়: ২ কোটি টাকা। জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করে: ৩ দশমিক ১১ কোটি টাকা। কার্বন নিঃসরণ ও বায়ুদূষণ রোধ: ৯৮০ টন কার্বন নিঃসরণ এবং ২৫ টনের বেশি ক্ষতিকর বায়ুদূষণ রোধ করে।

গত আট বছরে বিদ্যমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে ২২ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ এবং ৪৮ হাজার ৪০৩ টন ক্ষতিকর বায়ুদূষণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় ১৫ দশমিক ৫৪ টাকা, বিপরীতে এইচএফও-ভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যয় ২৭ দশমিক ৩৬ টাকা। ফলে সৌরবিদ্যুৎ বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক প্রযুক্তি।

বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় বেশ কিছু সুপারিশ করেছে ক্লিন: ১. ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন। ২. নতুন কয়লা ও এলএনজি প্রকল্প বন্ধ করে অনাবাদি সরকারি জমিতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার 'সোলার জোন' স্থাপন। ৩. জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন এবং সৌর সরঞ্জামের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার। ৪. ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর কাঠামো বাস্তবায়ন।

ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, "প্রতিটি নতুন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেবল জ্বালানি সাশ্রয়ই করে না, বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় বিনিয়োগ।"

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ সৌরবিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ক্লিন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, অর্থনীতি, জীবাশ্ম জ্বালানি, পরিবেশ, কার্বন নিঃসরণ, বাংলাদেশ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, টেকসই উন্নয়ন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতে বছরে ৫ কোটি টাকার বেশি সাশ্রয়

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত প্রতিটি নতুন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে ৫ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় করছে বলে জানিয়েছে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে এই বড় অংকের সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে।

সংগঠনটির নতুন গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আট বছরে দেশে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৩ হাজার ২৩০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে ২ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে ৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সর্বমোট ৭ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জিত হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, প্রতিটি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমায়: ২ কোটি টাকা। জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করে: ৩ দশমিক ১১ কোটি টাকা। কার্বন নিঃসরণ ও বায়ুদূষণ রোধ: ৯৮০ টন কার্বন নিঃসরণ এবং ২৫ টনের বেশি ক্ষতিকর বায়ুদূষণ রোধ করে।

গত আট বছরে বিদ্যমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে ২২ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ এবং ৪৮ হাজার ৪০৩ টন ক্ষতিকর বায়ুদূষণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় ১৫ দশমিক ৫৪ টাকা, বিপরীতে এইচএফও-ভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যয় ২৭ দশমিক ৩৬ টাকা। ফলে সৌরবিদ্যুৎ বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক প্রযুক্তি।

বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় বেশ কিছু সুপারিশ করেছে ক্লিন: ১. ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন। ২. নতুন কয়লা ও এলএনজি প্রকল্প বন্ধ করে অনাবাদি সরকারি জমিতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার 'সোলার জোন' স্থাপন। ৩. জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন এবং সৌর সরঞ্জামের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার। ৪. ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর কাঠামো বাস্তবায়ন।

ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, "প্রতিটি নতুন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেবল জ্বালানি সাশ্রয়ই করে না, বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় বিনিয়োগ।"


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত