শ্রীলঙ্কার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নেগোম্বোর একটি কারাগারে বন্দীদের দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। দুই দিনব্যাপী চলমান এই সহিংসতায় প্রাণ হারানোদের মধ্যে চারজন কারারক্ষীও রয়েছেন। এ ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, কারাগারে মাদক পাচার সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার জেরে গত রবিবার বন্দীদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নিলে বন্দীরা কারাগারের অস্ত্রাগার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র লুট করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই দিনই প্রাথমিক সংঘর্ষে দু'জন নিহত হন।
সোমবার পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। বন্দীরা মুক্তির দাবিতে কারাগারের ছাদে অবস্থান নেয় এবং বিকেলে কারাগারের মূল ফটক ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে তাদের সরাসরি সংঘর্ষ বাধে। এ সময় কারাগারের ভেতর থেকে দফায় দফায় গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের নেগোম্বো জেনারেল হাসপাতাল এবং কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালকের তথ্যমতে, আহত অনেকের শরীরেই গুলির ক্ষত, ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মারধরের চিহ্ন রয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে পুরো কারাগার এলাকা ঘিরে রেখেছে। অভিযানের এক পর্যায়ে কারাগারের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়লে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন নারী বন্দী গুরুতর আহত হন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ঘটনাটির কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। শ্রীলঙ্কার কারা কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বন্দীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারাগার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখা হয়েছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
শ্রীলঙ্কার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নেগোম্বোর একটি কারাগারে বন্দীদের দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। দুই দিনব্যাপী চলমান এই সহিংসতায় প্রাণ হারানোদের মধ্যে চারজন কারারক্ষীও রয়েছেন। এ ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, কারাগারে মাদক পাচার সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার জেরে গত রবিবার বন্দীদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নিলে বন্দীরা কারাগারের অস্ত্রাগার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র লুট করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই দিনই প্রাথমিক সংঘর্ষে দু'জন নিহত হন।
সোমবার পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। বন্দীরা মুক্তির দাবিতে কারাগারের ছাদে অবস্থান নেয় এবং বিকেলে কারাগারের মূল ফটক ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে তাদের সরাসরি সংঘর্ষ বাধে। এ সময় কারাগারের ভেতর থেকে দফায় দফায় গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের নেগোম্বো জেনারেল হাসপাতাল এবং কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালকের তথ্যমতে, আহত অনেকের শরীরেই গুলির ক্ষত, ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মারধরের চিহ্ন রয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে পুরো কারাগার এলাকা ঘিরে রেখেছে। অভিযানের এক পর্যায়ে কারাগারের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়লে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন নারী বন্দী গুরুতর আহত হন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ঘটনাটির কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। শ্রীলঙ্কার কারা কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বন্দীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারাগার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন