তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। শুনানিতে রিটকারী আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং এটি সংবিধানকে ধ্বংস করেছে। তিনি এই সংশোধনী পুরোটা বাতিলের দাবি জানান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি অংশ অবৈধ ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। এর ফলশ্রুতিতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ের মূল দিকগুলো হলো, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল। গণভোটের বিধান পুনর্বহাল (১৪২ অনুচ্ছেদ)।
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত ৭ক, ৭খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল। পুরো সংশোধনী বাতিল না করে জাতির পিতার স্বীকৃতি ও ২৬ মার্চের ভাষণের মতো বিষয়গুলোসহ অন্যান্য বিধান সংশোধনের ক্ষমতা ভবিষ্যতের সংসদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন। সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এই আপিল দায়ের করেন। রিটকারীরা মনে করেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছিল তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাই এটি পুরোপুরি বাতিলযোগ্য।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৫০-এ উন্নীত করাসহ বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এখন আপিল বিভাগের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে সংবিধানের এই আলোচিত সংশোধনীর ভবিষ্যৎ।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। শুনানিতে রিটকারী আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং এটি সংবিধানকে ধ্বংস করেছে। তিনি এই সংশোধনী পুরোটা বাতিলের দাবি জানান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি অংশ অবৈধ ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। এর ফলশ্রুতিতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ের মূল দিকগুলো হলো, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল। গণভোটের বিধান পুনর্বহাল (১৪২ অনুচ্ছেদ)।
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত ৭ক, ৭খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল। পুরো সংশোধনী বাতিল না করে জাতির পিতার স্বীকৃতি ও ২৬ মার্চের ভাষণের মতো বিষয়গুলোসহ অন্যান্য বিধান সংশোধনের ক্ষমতা ভবিষ্যতের সংসদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন। সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এই আপিল দায়ের করেন। রিটকারীরা মনে করেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছিল তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাই এটি পুরোপুরি বাতিলযোগ্য।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৫০-এ উন্নীত করাসহ বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এখন আপিল বিভাগের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে সংবিধানের এই আলোচিত সংশোধনীর ভবিষ্যৎ।

আপনার মতামত লিখুন