সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্বের হাতছানি। মিষ্টি আলাপ, এরপর ডেটিংয়ের নামে নির্জন স্থানে আমন্ত্রণ। আর তারপরই অন্ধকার জগতের নিষ্ঠুর বাস্তবতা। দিল্লির অদূরে গড়ে ওঠা এই প্রতারক চক্রের মূল চালিকাশক্তি ছিল তিন বোন—প্রিয়ঙ্কা যাদব, নিধি যাদব এবং রিয়া যাদব।
এলাকায় তারা "যাদব সিস্টার্স" নামেই পরিচিত। সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো মনে হলেও, বাস্তবেই এই তিন বোন ও তাদের পুরুষ সঙ্গীরা মিলে দিনের পর দিন চালিয়েছে ভয়াবহ হানিট্র্যাপ ও চাঁদাবাজি।
এই প্রতারক চক্রের কর্মপদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে তারা টার্গেট করত এমন পুরুষদের, যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে একাকীত্বে ভুগছেন। মিষ্টি কথায় বিশ্বাস অর্জন করে দ্রুত গড়ে তুলত ঘনিষ্ঠতা। এরপরই আসত আসল চাল—নির্জন স্থানে ডেটিংয়ের আমন্ত্রণ।
মেয়েদের ডাকে সাড়া দিয়ে ভুক্তভোগীরা যখনই দেখা করতে যেতেন, তখন তাকে নিয়ে যাওয়া হতো নয়ডার কোনো সুনসান এলাকায়। সেখানেই লুকিয়ে থাকত তাদের পুরুষ সঙ্গী—ওমবীর যাদব, পঙ্কজ যাদব এবং মঙ্গেশ যাদব। এরা ছিল পেশাদার গুন্ডা। ডেটিংয়ের মাঝপথেই তারা উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীকে ঘিরে ফেলত। এরপর শুরু হতো মারধর, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা এবং সামাজিক সম্মান ধ্বংস করার হুমকি।
এই চক্রের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল মানুষের "লোকলজ্জার ভয়"। ভুক্তভোগীকে মারধরের পর ফোনের পাসওয়ার্ড ছিনিয়ে নেওয়া হতো। এরপর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে জোরপূর্বক লাখ লাখ টাকা ট্রান্সফার করে নেওয়া হতো। একটি ঘটনায় তো এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১.৮ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তার দামি ফরচুনার (Fortuner) গাড়িটিও ছিনতাই করে পালিয়েছিল এই গ্যাং। তারা জানত, মানসম্মানের ভয়ে অধিকাংশ ভুক্তভোগীই পুলিশের দ্বারস্থ হবেন না। আর এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বুক ফুলিয়ে কোটি টাকার স্ক্যাম চালাচ্ছিল পুরো যাদব পরিবার।
বর্তমানে এই তিন বোন ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা পুলিশের জালে ধরা পড়ে এখন শ্রীঘরে দিন কাটাচ্ছে।
অনলাইন দুনিয়ায় যাকে আপনি "স্বপ্নের রানী" বা নতুন বন্ধু ভাবছেন, সে যে কোনো ভয়ংকর গ্যাংয়ের অংশ নয়—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় অচেনা কারও সাথে বন্ধুত্ব বা ডেটিংয়ের ফাঁদে পা দেওয়ার আগে ১০ বার ভাবুন। অপরিচিত কারো সাথে দেখা করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন। মনে রাখবেন, অনলাইন দুনিয়ার চাকচিক্যের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ঙ্কর অন্ধকার।
সতর্ক থাকুন, সচেতন থাকুন।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্বের হাতছানি। মিষ্টি আলাপ, এরপর ডেটিংয়ের নামে নির্জন স্থানে আমন্ত্রণ। আর তারপরই অন্ধকার জগতের নিষ্ঠুর বাস্তবতা। দিল্লির অদূরে গড়ে ওঠা এই প্রতারক চক্রের মূল চালিকাশক্তি ছিল তিন বোন—প্রিয়ঙ্কা যাদব, নিধি যাদব এবং রিয়া যাদব।
এলাকায় তারা "যাদব সিস্টার্স" নামেই পরিচিত। সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো মনে হলেও, বাস্তবেই এই তিন বোন ও তাদের পুরুষ সঙ্গীরা মিলে দিনের পর দিন চালিয়েছে ভয়াবহ হানিট্র্যাপ ও চাঁদাবাজি।
এই প্রতারক চক্রের কর্মপদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে তারা টার্গেট করত এমন পুরুষদের, যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে একাকীত্বে ভুগছেন। মিষ্টি কথায় বিশ্বাস অর্জন করে দ্রুত গড়ে তুলত ঘনিষ্ঠতা। এরপরই আসত আসল চাল—নির্জন স্থানে ডেটিংয়ের আমন্ত্রণ।
মেয়েদের ডাকে সাড়া দিয়ে ভুক্তভোগীরা যখনই দেখা করতে যেতেন, তখন তাকে নিয়ে যাওয়া হতো নয়ডার কোনো সুনসান এলাকায়। সেখানেই লুকিয়ে থাকত তাদের পুরুষ সঙ্গী—ওমবীর যাদব, পঙ্কজ যাদব এবং মঙ্গেশ যাদব। এরা ছিল পেশাদার গুন্ডা। ডেটিংয়ের মাঝপথেই তারা উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীকে ঘিরে ফেলত। এরপর শুরু হতো মারধর, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা এবং সামাজিক সম্মান ধ্বংস করার হুমকি।
এই চক্রের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল মানুষের "লোকলজ্জার ভয়"। ভুক্তভোগীকে মারধরের পর ফোনের পাসওয়ার্ড ছিনিয়ে নেওয়া হতো। এরপর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে জোরপূর্বক লাখ লাখ টাকা ট্রান্সফার করে নেওয়া হতো। একটি ঘটনায় তো এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১.৮ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তার দামি ফরচুনার (Fortuner) গাড়িটিও ছিনতাই করে পালিয়েছিল এই গ্যাং। তারা জানত, মানসম্মানের ভয়ে অধিকাংশ ভুক্তভোগীই পুলিশের দ্বারস্থ হবেন না। আর এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বুক ফুলিয়ে কোটি টাকার স্ক্যাম চালাচ্ছিল পুরো যাদব পরিবার।
বর্তমানে এই তিন বোন ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা পুলিশের জালে ধরা পড়ে এখন শ্রীঘরে দিন কাটাচ্ছে।
অনলাইন দুনিয়ায় যাকে আপনি "স্বপ্নের রানী" বা নতুন বন্ধু ভাবছেন, সে যে কোনো ভয়ংকর গ্যাংয়ের অংশ নয়—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় অচেনা কারও সাথে বন্ধুত্ব বা ডেটিংয়ের ফাঁদে পা দেওয়ার আগে ১০ বার ভাবুন। অপরিচিত কারো সাথে দেখা করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন। মনে রাখবেন, অনলাইন দুনিয়ার চাকচিক্যের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ঙ্কর অন্ধকার।
সতর্ক থাকুন, সচেতন থাকুন।

আপনার মতামত লিখুন