হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অকশন ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে মো. ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার (২৮) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত ৬ জুলাই দিবাগত মধ্যরাতে ঢাকার উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকা থেকে সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি আভিযানিক দল তাকে গ্রেফতার করে।
সিআইডি জানায়, গ্রেফতারকৃত রবিন এবং তার চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। তারা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ করত। নিজেকে বিমানবন্দরের অকশন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা ও পরে অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করত।
প্রতারণার কৌশল হিসেবে তারা বলত, বিমানবন্দরের জব্দকৃত আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে পাওয়া যায়। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জাল অনুমোদনপত্র, সিভিল এভিয়েশনের ভুয়া ডকুমেন্ট এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ নানা জাল কাগজপত্র সরবরাহ করত।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল এবং ৫৪৩টি ল্যাপটপ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। টাকা পাওয়ার পর পণ্য সরবরাহ না করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তারা। ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ২২ জুন পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন।
তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিন শিকদারকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত আইফোনসহ ৫টি মোবাইল ফোন ও ৭টি সিম জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিন জানিয়েছে, তারা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই জালিয়াতি চালিয়ে আসছে। রবিন এর আগেও ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি ডিজিটাল প্রতারণা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সিআইডি জানায়, চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে সিআইডি জানায়, অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভনে বিশ্বাস করবেন না।
অনলাইনে প্রাপ্ত যেকোনো সরকারি নথির সত্যতা যাচাই করুন। অপরিচিত ব্যক্তির ব্যবসায়িক প্রস্তাবে আর্থিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন।সন্দেহজনক কোনো ঘটনা ঘটলে নিকটস্থ থানা অথবা সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারে যোগাযোগ করুন।
গ্রেফতারকৃত রবিনকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে সিপিসি সূত্রে জানানো হয়েছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অকশন ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে মো. ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার (২৮) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত ৬ জুলাই দিবাগত মধ্যরাতে ঢাকার উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকা থেকে সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি আভিযানিক দল তাকে গ্রেফতার করে।
সিআইডি জানায়, গ্রেফতারকৃত রবিন এবং তার চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। তারা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ করত। নিজেকে বিমানবন্দরের অকশন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা ও পরে অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করত।
প্রতারণার কৌশল হিসেবে তারা বলত, বিমানবন্দরের জব্দকৃত আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে পাওয়া যায়। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জাল অনুমোদনপত্র, সিভিল এভিয়েশনের ভুয়া ডকুমেন্ট এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ নানা জাল কাগজপত্র সরবরাহ করত।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল এবং ৫৪৩টি ল্যাপটপ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। টাকা পাওয়ার পর পণ্য সরবরাহ না করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তারা। ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ২২ জুন পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন।
তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিন শিকদারকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত আইফোনসহ ৫টি মোবাইল ফোন ও ৭টি সিম জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিন জানিয়েছে, তারা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই জালিয়াতি চালিয়ে আসছে। রবিন এর আগেও ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি ডিজিটাল প্রতারণা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সিআইডি জানায়, চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে সিআইডি জানায়, অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভনে বিশ্বাস করবেন না।
অনলাইনে প্রাপ্ত যেকোনো সরকারি নথির সত্যতা যাচাই করুন। অপরিচিত ব্যক্তির ব্যবসায়িক প্রস্তাবে আর্থিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন।সন্দেহজনক কোনো ঘটনা ঘটলে নিকটস্থ থানা অথবা সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারে যোগাযোগ করুন।
গ্রেফতারকৃত রবিনকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে সিপিসি সূত্রে জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন