নজর বিডি
প্রকাশ : বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

প্রশ্ন ফাঁস রোধে পাস ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট, ২০২৬’

প্রশ্ন ফাঁস রোধে পাস ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট, ২০২৬’

পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস, ডিজিটাল জালিয়াতি ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়ম রোধে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ২০২৬’। ১৯৮০ সালের পুরোনো আইন বাতিল করে নতুন এই আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে পরীক্ষার পবিত্রতা ও মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি পাসের প্রস্তাব করে বলেন, “ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপরাধীদের নিবৃত্ত করতে এই আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

নতুন আইনে অপরাধের ধরণ অনুযায়ী সুস্পষ্ট সাজার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, অসাধু উপায়ে পরীক্ষার্থীকে সহায়তা করতে কোনো ব্যক্তি চুক্তি, সমঝোতা বা বন্দোবস্তে লিপ্ত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

অনুমোদনহীন কেন্দ্র পরিচালনা বা অবৈধ পরীক্ষার জন্য স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা বাড়ির মালিক সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

পরীক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রের অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়ন করলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে তৃতীয় পরীক্ষকের যাচাই ছাড়া এ শাস্তির সুযোগ নেই।

কোনো সংগঠন বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান জালিয়াতিতে সহায়তা করলে বা তদারকিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনের একটি বিশেষ দিক হলো ‘তথ্যদাতার নিরাপত্তা’ ধারা। সাংবাদিক ও অনুসন্ধানকারী ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে:

১. পরিচয়ের গোপনীয়তা: অপরাধের তথ্য প্রদানকারী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সুরক্ষিত থাকবেন। পরিচয় প্রকাশ বা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড আইনত দণ্ডনীয়। ২. হুমকির সাজা: তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশ করলে বা তাকে হুমকি দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৬ মাস মেয়াদের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এই সুরক্ষা ধারা মাঠ পর্যায়ে নির্ভয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের জন্য বড় আইনি সুবিধা প্রদান করবে।

এই আইনটি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুষ্ঠিত, নিয়ন্ত্রিত বা সংগঠিত যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে প্রশ্ন ফাঁস রোধে এই নতুন আইনটি একটি শক্তিশালী নিবৃত্তকারী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট ২০২৬, প্রশ্ন ফাঁস আইন, শিক্ষা আইন ২০২৬, জাতীয় সংসদ, পাবলিক পরীক্ষা, ডিজিটাল জালিয়াতি, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পরীক্ষার নিরাপত্তা, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, অপরাধ সংবাদ।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রশ্ন ফাঁস রোধে পাস ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট, ২০২৬’

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস, ডিজিটাল জালিয়াতি ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়ম রোধে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ২০২৬’। ১৯৮০ সালের পুরোনো আইন বাতিল করে নতুন এই আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে পরীক্ষার পবিত্রতা ও মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি পাসের প্রস্তাব করে বলেন, “ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপরাধীদের নিবৃত্ত করতে এই আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

নতুন আইনে অপরাধের ধরণ অনুযায়ী সুস্পষ্ট সাজার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, অসাধু উপায়ে পরীক্ষার্থীকে সহায়তা করতে কোনো ব্যক্তি চুক্তি, সমঝোতা বা বন্দোবস্তে লিপ্ত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

অনুমোদনহীন কেন্দ্র পরিচালনা বা অবৈধ পরীক্ষার জন্য স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা বাড়ির মালিক সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

পরীক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রের অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়ন করলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে তৃতীয় পরীক্ষকের যাচাই ছাড়া এ শাস্তির সুযোগ নেই।

কোনো সংগঠন বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান জালিয়াতিতে সহায়তা করলে বা তদারকিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনের একটি বিশেষ দিক হলো ‘তথ্যদাতার নিরাপত্তা’ ধারা। সাংবাদিক ও অনুসন্ধানকারী ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে:

১. পরিচয়ের গোপনীয়তা: অপরাধের তথ্য প্রদানকারী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সুরক্ষিত থাকবেন। পরিচয় প্রকাশ বা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড আইনত দণ্ডনীয়। ২. হুমকির সাজা: তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশ করলে বা তাকে হুমকি দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৬ মাস মেয়াদের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এই সুরক্ষা ধারা মাঠ পর্যায়ে নির্ভয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের জন্য বড় আইনি সুবিধা প্রদান করবে।

এই আইনটি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুষ্ঠিত, নিয়ন্ত্রিত বা সংগঠিত যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে প্রশ্ন ফাঁস রোধে এই নতুন আইনটি একটি শক্তিশালী নিবৃত্তকারী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত