টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের দক্ষিণ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি উপজেলা প্লাবিত হয়ে অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী এই সহায়তা দ্রুত বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানকার ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রতিটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডলু নদীর বাঁধ ভেঙে রামপুর এলাকায় পানি প্রবেশ করায় পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। সেখানে অন্তত তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের বিভ্রাটে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া অন্যান্য উপজেলার পরিস্থিতি নিম্নরূপ, ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নের অবস্থা সংকটাপন্ন। অন্তত ৩৮ হাজার মানুষ পানিবন্দী। প্রায় ১৪ হাজার মানুষ দুর্গত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।আমিরাবাদ, আধুনগর, পদুয়া ও লোহাগাড়া ইউনিয়নে পানি বেশি উঠেছে; এর মধ্যে আমিরাবাদ ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর দোহাজারী অংশে পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাঙ্গু, ডলু ও হাঙ্গর খালের মাধ্যমে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় ভাটি এলাকাগুলোতে পানি আরও বাড়ছে। সাতকানিয়ায় উদ্ধারকাজে গতি আনতে ১০টি স্পিডবোটের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। আপাতত নৌকার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত রোববার থেকে টানা বৃষ্টির পর আজ বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গায় ২২৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের দক্ষিণ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি উপজেলা প্লাবিত হয়ে অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী এই সহায়তা দ্রুত বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানকার ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রতিটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডলু নদীর বাঁধ ভেঙে রামপুর এলাকায় পানি প্রবেশ করায় পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। সেখানে অন্তত তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের বিভ্রাটে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া অন্যান্য উপজেলার পরিস্থিতি নিম্নরূপ, ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নের অবস্থা সংকটাপন্ন। অন্তত ৩৮ হাজার মানুষ পানিবন্দী। প্রায় ১৪ হাজার মানুষ দুর্গত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।আমিরাবাদ, আধুনগর, পদুয়া ও লোহাগাড়া ইউনিয়নে পানি বেশি উঠেছে; এর মধ্যে আমিরাবাদ ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর দোহাজারী অংশে পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাঙ্গু, ডলু ও হাঙ্গর খালের মাধ্যমে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় ভাটি এলাকাগুলোতে পানি আরও বাড়ছে। সাতকানিয়ায় উদ্ধারকাজে গতি আনতে ১০টি স্পিডবোটের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। আপাতত নৌকার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত রোববার থেকে টানা বৃষ্টির পর আজ বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গায় ২২৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন