নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সিলেটে মানব পাচার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: সীমান্তবাসীর জনজীবন বিপর্যস্ত

সিলেটে মানব পাচার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: সীমান্তবাসীর জনজীবন বিপর্যস্ত

সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী মানব পাচার সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ডে জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় মানুষকে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি এই চক্রের অপতৎপরতায় সীমান্ত এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আজ হুমকির মুখে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেট কেবল আইনি অপরাধই করছে না, বরং সীমান্তবর্তী জনপদকে জিম্মি করে ফেলেছে।

অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্তজুড়ে মানব পাচারের একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এই চক্রটি গোয়াইনঘাটের পানতুমাই, বাদেশ্বর, হাজিপুর, লামাপুঞ্জি, লন্ডনী বাজার, সংগ্রামপুঞ্জি, তামাবিল, নলঝুরি এবং জৈন্তাপুরের ডিবির হাওর এলাকাকে তাদের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে অর্থের প্রলোভন দেখানো, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অপহরণ ও জিম্মি করার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে।

অভিযোগের তীর মূলত সাব্বির আহমদ ও কাউসার আহমদের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেটের দিকে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের অন্য সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, সাব্বির (২৯): স্থায়ী ঠিকানা সুনামগঞ্জ (বর্তমান ঠিকানা: মামার দোকান এলাকা)। লাল মিয়া (৩০): পিতা: আমিন আলী, গ্রাম: দক্ষিণ প্রান্তমাই। জুয়েল রানা (৩০): পিতা: শাহজাহান, গ্রাম: উত্তর প্রতাপপুর। কাউসার (২৮) ও আফসার (২৬): পিতা: জয়নুদ্দিন, গ্রাম: উত্তর প্রতাপপুর।এনাম আহমদ (২৮): পিতা: আব্দুল মালেক, গ্রাম: ডিবির হাওর। ইউসুফ আহমদ (২৬): পিতা: নেনা মিয়া, গ্রাম: ডিবির হাওর। জুবেল আহমদ (২৫): গ্রাম: ডিবির হাওর।

অপরাধীদের ভয়ে স্থানীয়রা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে—গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে চক্রের আস্তানা চিহ্নিত করা, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং অবৈধ রুটগুলো সিলগালা করে নিয়মিত টহল জোরদার করা।

প্রতিবেদনের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে—সাব্বির আহমদের ফোনের অপর প্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি জানান, তিনি সেখানে নেই। কাউসার আহমদ দাবি করেন, তিনি বর্তমানে এই পেশার সঙ্গে জড়িত নন। এনাম আহমদ ফোন পেয়ে বিরক্ত প্রকাশ করে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। ইউসুফ আহমদ কল রিসিভ করলেও কোনো কথা না বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এছাড়া লাল মিয়া ও অন্যদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

সীমান্তবর্তী জনগণের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই মানব পাচার সিন্ডিকেটকে প্রতিহত করবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনবে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিলেটে মানব পাচার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: সীমান্তবাসীর জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী মানব পাচার সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ডে জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় মানুষকে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি এই চক্রের অপতৎপরতায় সীমান্ত এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আজ হুমকির মুখে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেট কেবল আইনি অপরাধই করছে না, বরং সীমান্তবর্তী জনপদকে জিম্মি করে ফেলেছে।

অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্তজুড়ে মানব পাচারের একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এই চক্রটি গোয়াইনঘাটের পানতুমাই, বাদেশ্বর, হাজিপুর, লামাপুঞ্জি, লন্ডনী বাজার, সংগ্রামপুঞ্জি, তামাবিল, নলঝুরি এবং জৈন্তাপুরের ডিবির হাওর এলাকাকে তাদের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে অর্থের প্রলোভন দেখানো, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অপহরণ ও জিম্মি করার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে।

অভিযোগের তীর মূলত সাব্বির আহমদ ও কাউসার আহমদের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেটের দিকে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের অন্য সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, সাব্বির (২৯): স্থায়ী ঠিকানা সুনামগঞ্জ (বর্তমান ঠিকানা: মামার দোকান এলাকা)। লাল মিয়া (৩০): পিতা: আমিন আলী, গ্রাম: দক্ষিণ প্রান্তমাই। জুয়েল রানা (৩০): পিতা: শাহজাহান, গ্রাম: উত্তর প্রতাপপুর। কাউসার (২৮) ও আফসার (২৬): পিতা: জয়নুদ্দিন, গ্রাম: উত্তর প্রতাপপুর।এনাম আহমদ (২৮): পিতা: আব্দুল মালেক, গ্রাম: ডিবির হাওর। ইউসুফ আহমদ (২৬): পিতা: নেনা মিয়া, গ্রাম: ডিবির হাওর। জুবেল আহমদ (২৫): গ্রাম: ডিবির হাওর।

অপরাধীদের ভয়ে স্থানীয়রা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে—গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে চক্রের আস্তানা চিহ্নিত করা, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং অবৈধ রুটগুলো সিলগালা করে নিয়মিত টহল জোরদার করা।

প্রতিবেদনের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে—সাব্বির আহমদের ফোনের অপর প্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি জানান, তিনি সেখানে নেই। কাউসার আহমদ দাবি করেন, তিনি বর্তমানে এই পেশার সঙ্গে জড়িত নন। এনাম আহমদ ফোন পেয়ে বিরক্ত প্রকাশ করে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। ইউসুফ আহমদ কল রিসিভ করলেও কোনো কথা না বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এছাড়া লাল মিয়া ও অন্যদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

সীমান্তবর্তী জনগণের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই মানব পাচার সিন্ডিকেটকে প্রতিহত করবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত