নজর বিডি

দুদকের মামলায় অভিযুক্ত আরএমও’র বদলি বাতিল, বিতর্কে পিরোজপুর হাসপাতাল

দুদকের মামলায় অভিযুক্ত আরএমও’র বদলি বাতিল, বিতর্কে পিরোজপুর হাসপাতাল

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নিজাম উদ্দিনের কর্মস্থল ও প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

দীর্ঘ ১৮ বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন, পরপর দুই দফা বদলির আদেশ জারি হওয়ার পরও তা রহস্যজনকভাবে বাতিল হওয়া এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় অভিযুক্ত থাকার পরও তাঁর বহাল তবিয়তে থাকা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রশাসনিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।

নথিপত্র অনুযায়ী, ডা. নিজাম উদ্দিন ২০০৮ সাল থেকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। একই স্থানে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি প্রভাবশালী চিকিৎসক সংগঠন স্বাচিপের জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক নথিপত্রে তাঁর বদলি সংক্রান্ত দুটি আদেশের তথ্য পাওয়া গেছে, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে স্মারক নং (৪৫.০১.০০০০.০০০.০০৪.২৫.০০০২.২৫.৬১-৮৩৭) এর মাধ্যমে তাঁকে খাগড়াছড়ি জেলা হাসপাতালে বদলি করা হয়, যা পরবর্তীতে বাতিল হয়। দ্বিতীয় আদেশ: ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে স্মারক নং (৪৫.০১.০০০০.০০০.০০৪.১৯.০০০১.২৬.৩২-৫৬৪) এর মাধ্যমে তাঁকে ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাত্র একদিনের ব্যবধানে ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে স্মারক নং (৫৮৫) এর মাধ্যমে সেই আদেশও বাতিল করে তাঁকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালেই বহাল রাখা হয়।

প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি ডা. নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ। জেলা হাসপাতালে ওষুধ ও এমএসআর (MSR) সামগ্রী ক্রয়ে অনিয়মের মাধ্যমে ১ কোটি ৭৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা (স্পেশাল কেস নং-০২/২৫, তারিখ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার ৩ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।

এছাড়া ডা. নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী ডা. মৌসুমি সুলতানাও একই হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, যা নিয়ে স্বজনপ্রীতির প্রশ্নও উঠছে।

এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান জানান, "বদলির আদেশ এবং তা বাতিল—দুটিই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত কোনো মন্তব্য নেই। কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি বিধি অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করব।"

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. নিজাম উদ্দিনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

দীর্ঘ ১৮ বছর একই কর্মস্থলে অবস্থান এবং দুদকের মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও বারবার বদলির আদেশ বাতিল হওয়াকে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দুদকের মামলায় অভিযুক্ত আরএমও’র বদলি বাতিল, বিতর্কে পিরোজপুর হাসপাতাল

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নিজাম উদ্দিনের কর্মস্থল ও প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

দীর্ঘ ১৮ বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন, পরপর দুই দফা বদলির আদেশ জারি হওয়ার পরও তা রহস্যজনকভাবে বাতিল হওয়া এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় অভিযুক্ত থাকার পরও তাঁর বহাল তবিয়তে থাকা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রশাসনিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।

নথিপত্র অনুযায়ী, ডা. নিজাম উদ্দিন ২০০৮ সাল থেকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। একই স্থানে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি প্রভাবশালী চিকিৎসক সংগঠন স্বাচিপের জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক নথিপত্রে তাঁর বদলি সংক্রান্ত দুটি আদেশের তথ্য পাওয়া গেছে, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে স্মারক নং (৪৫.০১.০০০০.০০০.০০৪.২৫.০০০২.২৫.৬১-৮৩৭) এর মাধ্যমে তাঁকে খাগড়াছড়ি জেলা হাসপাতালে বদলি করা হয়, যা পরবর্তীতে বাতিল হয়। দ্বিতীয় আদেশ: ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে স্মারক নং (৪৫.০১.০০০০.০০০.০০৪.১৯.০০০১.২৬.৩২-৫৬৪) এর মাধ্যমে তাঁকে ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাত্র একদিনের ব্যবধানে ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে স্মারক নং (৫৮৫) এর মাধ্যমে সেই আদেশও বাতিল করে তাঁকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালেই বহাল রাখা হয়।

প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি ডা. নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ। জেলা হাসপাতালে ওষুধ ও এমএসআর (MSR) সামগ্রী ক্রয়ে অনিয়মের মাধ্যমে ১ কোটি ৭৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা (স্পেশাল কেস নং-০২/২৫, তারিখ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার ৩ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।

এছাড়া ডা. নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী ডা. মৌসুমি সুলতানাও একই হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, যা নিয়ে স্বজনপ্রীতির প্রশ্নও উঠছে।

এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান জানান, "বদলির আদেশ এবং তা বাতিল—দুটিই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত কোনো মন্তব্য নেই। কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি বিধি অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করব।"

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. নিজাম উদ্দিনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

দীর্ঘ ১৮ বছর একই কর্মস্থলে অবস্থান এবং দুদকের মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও বারবার বদলির আদেশ বাতিল হওয়াকে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত