টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি এখন নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে বিষাক্ত সাপের উপদ্রব। বসতবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় সাপের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে জেলায় অন্তত ৭৫ জন সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ, মিরসরাই, রাউজান, ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ডের মতো এলাকাগুলো বর্তমানে প্লাবিত। বন্যার কারণে সাপের স্বাভাবিক আবাসস্থল তলিয়ে যাওয়ায় এরা শুকনো আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়, ঘরবাড়ি, খড়ের গাদা ও আশ্রয়কেন্দ্রে ঢুকে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যার পানি কমে যাওয়ার সময় এবং পরবর্তী সময়ে কৃষিকাজের সময় সাপে কাটার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রাখতে এবং চিকিৎসক ও নার্সদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো বিভিন্ন হাসপাতালে ইতোমধ্যে সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সুস্থ হয়েছেন। কোথাও অ্যান্টিভেনমের সংকট দেখা দিলে জেলা পর্যায় থেকে দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া জানান, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ আহসান বন্যার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন: ১. আতঙ্কিত না হওয়া: সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত সরে যেতে হবে। ২. যোগাযোগ: সাপ উদ্ধার বা বিপদের ক্ষেত্রে স্থানীয় বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস বা প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারী দলের সহায়তা নিতে হবে। ৩. প্রাথমিক চিকিৎসা: সাপে কাটলে আক্রান্ত স্থান শক্ত করে বাঁধা, কাটা বা বিষ চুষে বের করার মতো ভুল পদ্ধতি এড়িয়ে ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিতে হবে। আক্রান্ত অঙ্গ নাড়াচাড়া করা যাবে না এবং রোগীকে শান্ত রাখতে হবে।
বন্যাদুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের নিজ নিজ ঘরের আশপাশে, বিশেষ করে খড়, কাঠের স্তূপ ও আবর্জনার ভেতরে চলাচলের সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসকে মাঠপর্যায়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি এখন নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে বিষাক্ত সাপের উপদ্রব। বসতবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় সাপের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে জেলায় অন্তত ৭৫ জন সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ, মিরসরাই, রাউজান, ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ডের মতো এলাকাগুলো বর্তমানে প্লাবিত। বন্যার কারণে সাপের স্বাভাবিক আবাসস্থল তলিয়ে যাওয়ায় এরা শুকনো আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়, ঘরবাড়ি, খড়ের গাদা ও আশ্রয়কেন্দ্রে ঢুকে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যার পানি কমে যাওয়ার সময় এবং পরবর্তী সময়ে কৃষিকাজের সময় সাপে কাটার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রাখতে এবং চিকিৎসক ও নার্সদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো বিভিন্ন হাসপাতালে ইতোমধ্যে সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সুস্থ হয়েছেন। কোথাও অ্যান্টিভেনমের সংকট দেখা দিলে জেলা পর্যায় থেকে দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া জানান, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ আহসান বন্যার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন: ১. আতঙ্কিত না হওয়া: সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত সরে যেতে হবে। ২. যোগাযোগ: সাপ উদ্ধার বা বিপদের ক্ষেত্রে স্থানীয় বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস বা প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারী দলের সহায়তা নিতে হবে। ৩. প্রাথমিক চিকিৎসা: সাপে কাটলে আক্রান্ত স্থান শক্ত করে বাঁধা, কাটা বা বিষ চুষে বের করার মতো ভুল পদ্ধতি এড়িয়ে ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিতে হবে। আক্রান্ত অঙ্গ নাড়াচাড়া করা যাবে না এবং রোগীকে শান্ত রাখতে হবে।
বন্যাদুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের নিজ নিজ ঘরের আশপাশে, বিশেষ করে খড়, কাঠের স্তূপ ও আবর্জনার ভেতরে চলাচলের সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসকে মাঠপর্যায়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন