নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সবুজ অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষায় বাংলাদেশ: এক নতুন মডেল

সবুজ অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষায় বাংলাদেশ: এক নতুন মডেল

সমকালীন বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ এক নতুন উন্নয়ন দর্শনের পথে হাঁটছে। 

সম্প্রতি সোমালিয়ার দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষক প্রফেসার ড. আসিফ মিজান বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন কৌশলকে ‘সবুজ অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার এক অনন্য সমন্বয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ড. মিজান তার সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন কেবল একটি পরিবেশগত বিপর্যয় নয়, বরং এটি মানব নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রথাগত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশগত সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচিকে তিনি কেবল পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রের ‘কাঠামোগত স্থিতিস্থাপকতা’ (Structural Resilience) বৃদ্ধির একটি দূরদর্শী প্রয়াস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রবন্ধে প্রফেসার ড. মিজান ব্যাখ্যা করেছেন যে, জলবায়ু ঝুঁকির মুখে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ‘গ্রিন গ্রোথ’ বা সবুজ প্রবৃদ্ধির বিকল্প নেই। খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, তা জলবায়ু-উদ্বাস্তু মানুষদের অপরাধমূলক অর্থনীতি বা অনানুষ্ঠানিক ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় জড়ানো থেকে রক্ষা করছে। এটি অপরাধ প্রতিরোধের একটি কার্যকর ‘পরিবেশগত শাসনতান্ত্রিক কৌশল’ হিসেবে কাজ করছে।

সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে নারীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন ড. মিজান। তার বিশ্লেষণে:

পরিবারের সম্পদ বা অর্থ নারীর নিয়ন্ত্রণে থাকলে তা পারিবারিক পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের হার বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ফলে পারিবারিক সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতাজনিত ক্ষুদ্র অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

প্রবন্ধে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফ্যামিলি কার্ডের মতো ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও কাঠামোগত দুর্নীতি হ্রাসে সহায়ক। এছাড়া সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে সরাসরি কর্মসূচির সূচনা মাঠপ্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস করে।

সবশেষে প্রফেসার ড. আসিফ মিজানের পর্যবেক্ষণ হলো, বাংলাদেশ যেভাবে পরিবেশগত সুশাসন এবং সামাজিক সুরক্ষাকে একীভূত করেছে, তা কেবল সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে না, বরং একটি অপরাধমুক্ত ও জলবায়ু-সহনশীল রাষ্ট্র গঠনে দীর্ঘমেয়াদী অবদান রাখছে। এই সমন্বিত ‘দ্বি-মুখী নীতি’ (Dual-track Policy) ভবিষ্যতে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি রোল মডেল হতে পারে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সবুজ অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষায় বাংলাদেশ: এক নতুন মডেল

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

সমকালীন বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ এক নতুন উন্নয়ন দর্শনের পথে হাঁটছে। 

সম্প্রতি সোমালিয়ার দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষক প্রফেসার ড. আসিফ মিজান বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন কৌশলকে ‘সবুজ অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার এক অনন্য সমন্বয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ড. মিজান তার সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন কেবল একটি পরিবেশগত বিপর্যয় নয়, বরং এটি মানব নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রথাগত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশগত সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচিকে তিনি কেবল পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রের ‘কাঠামোগত স্থিতিস্থাপকতা’ (Structural Resilience) বৃদ্ধির একটি দূরদর্শী প্রয়াস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রবন্ধে প্রফেসার ড. মিজান ব্যাখ্যা করেছেন যে, জলবায়ু ঝুঁকির মুখে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ‘গ্রিন গ্রোথ’ বা সবুজ প্রবৃদ্ধির বিকল্প নেই। খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, তা জলবায়ু-উদ্বাস্তু মানুষদের অপরাধমূলক অর্থনীতি বা অনানুষ্ঠানিক ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় জড়ানো থেকে রক্ষা করছে। এটি অপরাধ প্রতিরোধের একটি কার্যকর ‘পরিবেশগত শাসনতান্ত্রিক কৌশল’ হিসেবে কাজ করছে।

সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে নারীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন ড. মিজান। তার বিশ্লেষণে:

পরিবারের সম্পদ বা অর্থ নারীর নিয়ন্ত্রণে থাকলে তা পারিবারিক পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের হার বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ফলে পারিবারিক সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতাজনিত ক্ষুদ্র অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

প্রবন্ধে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফ্যামিলি কার্ডের মতো ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও কাঠামোগত দুর্নীতি হ্রাসে সহায়ক। এছাড়া সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে সরাসরি কর্মসূচির সূচনা মাঠপ্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস করে।

সবশেষে প্রফেসার ড. আসিফ মিজানের পর্যবেক্ষণ হলো, বাংলাদেশ যেভাবে পরিবেশগত সুশাসন এবং সামাজিক সুরক্ষাকে একীভূত করেছে, তা কেবল সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে না, বরং একটি অপরাধমুক্ত ও জলবায়ু-সহনশীল রাষ্ট্র গঠনে দীর্ঘমেয়াদী অবদান রাখছে। এই সমন্বিত ‘দ্বি-মুখী নীতি’ (Dual-track Policy) ভবিষ্যতে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি রোল মডেল হতে পারে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত