বাংলাদেশের পর্যটন খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাভার ক্যাম্পাসের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘অর্থবহ পর্যটন : পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক জাতীয় গোলটেবিল বৈঠক।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পর্যটন শিল্পের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জার্মানির আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পর্যটন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. উলফগ্যাং জর্জি আর্ল্ট। তিনি পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের এমন সব উন্নয়নের ওপর আলোকপাত করেন, যা সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বস্তুনিষ্ঠ সুফল ও আত্মিক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করবে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রকিবুল কবিরের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাণিজ্য ও উদ্যোক্তা বৃত্তি অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক মাহাবুব পারভেজ।
গোলটেবিল বৈঠকে দেশের পর্যটন খাতের বর্তমান চিত্র ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। এতে উপস্থিত ছিলেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক মো. জিয়াউল হক হাওলাদার, অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের মো. জালাল উদ্দিন টিপু, পাটা বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মো. তওফিক রহমান, নভো এয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান, ইন্টার কন্টিন্টোল ঢাকার পরিচালক (বিপণন) রিজওয়ান মারুফ এবং ওয়েস্টিন ঢাকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ পর্যটন শিল্পের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ।
জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব পর্যটন খাতের প্রথাগত ব্যবসায়িক মডেলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমন এখনো অত্যন্ত নগণ্য। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশের বেশি মানুষের আবাসস্থল হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ বৈশ্বিক পর্যটকদের মাত্র ০.৫ শতাংশকে আকৃষ্ট করতে পারছে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশে ৬ লাখ ৫০ হাজার বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে এসে ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছেন।
অতীতে অন্য দেশগুলো পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকৃতি ও সংস্কৃতির যে ক্ষতি করেছে এবং 'ওভার-ট্যুরিজম'-এর যে সমস্যায় পড়েছে, বাংলাদেশ তা থেকে শিক্ষা নিয়ে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে।
আলোচনায় উঠে আসে, বিশ্বের অর্ধেক জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে মাত্র চার ঘণ্টার দূরত্বের মধ্যে বসবাস করে। বক্তারা পর্যটকের সংখ্যার চেয়ে সেবার মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ করে আঞ্চলিক উৎস-বাজারগুলোর জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করতে পারলে একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে বাংলাদেশ একটি প্রধান বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
এই গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাভার ক্যাম্পাসের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘অর্থবহ পর্যটন : পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক জাতীয় গোলটেবিল বৈঠক।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পর্যটন শিল্পের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জার্মানির আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পর্যটন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. উলফগ্যাং জর্জি আর্ল্ট। তিনি পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের এমন সব উন্নয়নের ওপর আলোকপাত করেন, যা সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বস্তুনিষ্ঠ সুফল ও আত্মিক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করবে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রকিবুল কবিরের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাণিজ্য ও উদ্যোক্তা বৃত্তি অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক মাহাবুব পারভেজ।
গোলটেবিল বৈঠকে দেশের পর্যটন খাতের বর্তমান চিত্র ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। এতে উপস্থিত ছিলেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক মো. জিয়াউল হক হাওলাদার, অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের মো. জালাল উদ্দিন টিপু, পাটা বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মো. তওফিক রহমান, নভো এয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান, ইন্টার কন্টিন্টোল ঢাকার পরিচালক (বিপণন) রিজওয়ান মারুফ এবং ওয়েস্টিন ঢাকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ পর্যটন শিল্পের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ।
জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব পর্যটন খাতের প্রথাগত ব্যবসায়িক মডেলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমন এখনো অত্যন্ত নগণ্য। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশের বেশি মানুষের আবাসস্থল হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ বৈশ্বিক পর্যটকদের মাত্র ০.৫ শতাংশকে আকৃষ্ট করতে পারছে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশে ৬ লাখ ৫০ হাজার বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে এসে ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছেন।
অতীতে অন্য দেশগুলো পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকৃতি ও সংস্কৃতির যে ক্ষতি করেছে এবং 'ওভার-ট্যুরিজম'-এর যে সমস্যায় পড়েছে, বাংলাদেশ তা থেকে শিক্ষা নিয়ে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে।
আলোচনায় উঠে আসে, বিশ্বের অর্ধেক জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে মাত্র চার ঘণ্টার দূরত্বের মধ্যে বসবাস করে। বক্তারা পর্যটকের সংখ্যার চেয়ে সেবার মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ করে আঞ্চলিক উৎস-বাজারগুলোর জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করতে পারলে একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে বাংলাদেশ একটি প্রধান বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
এই গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।

আপনার মতামত লিখুন