নজর বিডি
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

‘বিশেষ দেশকে’ সুবিধা দিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছিল স্বৈরাচার

‘বিশেষ দেশকে’ সুবিধা দিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছিল স্বৈরাচার

পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকার ‘একটি বিশেষ দেশকে’ সুবিধা দিতে এবং একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে খুশি করতে দেশের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল বলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার যে নীতি রয়েছে, বিগত স্বৈরাচারী সরকার অন্য কারো এজেন্ডা ও তাবেদারি বাস্তবায়নে মনেপ্রাণে সেই নীতিই এ দেশে প্রয়োগ করেছিল। একইভাবে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে অন্য কোনো দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের হাতে যেন তুলে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে এদেশের কোটি কোটি মানুষ ন্যূনতম সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। 

এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতের আমূল পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন নীতি এবং একটি বিশেষ প্রতিবেশী দেশের প্রতি অতিরিক্ত তোষণ নীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। মিশরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল লিখনের ঐতিহাসিক উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে অন্য কোনো অস্ত্রের প্রয়োজন নেই, শুধু তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিলেই চলে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকার অন্য কাউকে খুশি করার জন্য এবং বিশেষ গোষ্ঠীকে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার জন্য এই নীতি গ্রহণ করেছিল। বর্তমান সরকার দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ও আধুনিক মানবিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে বিতর্কিত সিলেবাস পরিবর্তন, শিক্ষার উপকরণ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

চিকিৎসা খাতের বেহাল দশা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত সরকার পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে অন্য কারো হাতে তুলে দিয়েছিল এবং একটি বিশেষ দেশকে একচেটিয়া রোগী সরবরাহ ও চিকিৎসা বাণিজ্যের সুবিধা দেওয়ার জন্য আমাদের বড় বড় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। 

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শতভাগ অসুস্থ করে রেখেছিল। এই মৃতপ্রায় খাতকে সচল করতে বর্তমান সরকার বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে তা জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা দেন:

রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিতে সারা দেশে খুব শিগগিরই এক লক্ষ ‘হেলথকেয়ার কর্মী’ নিয়োগ দেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই দেশের পাঁচটি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি অত্যাধুনিক শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে, যাতে গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষকে রাজধানীমুখী হতে না হয়।

প্রধানমন্ত্রী তার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, বিগত দেড় দশক ধরে তথাকথিত উন্নয়নের যে ফানুস উড়ানো হয়েছিল, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের বেহাল দশা এবং উন্নয়ন কাজের অবহেলার কথা উল্লেখ করে জানান, বর্তমান সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু করেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কুইক রেন্টালের নামে ‘কুইক মানি’ বা দুর্নীতি অর্জনের মহোৎসব চালানো হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ খাত থেকেই কমপক্ষে ৩ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। কোনো কাজ না করেই প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকার ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে, যার কোনো সুফল জনগণ পায়নি। 

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র তিন মাসে জ্বালানি তেলের মজুদ ৩০ দিনের নিচে থেকে ৪৫ দিনের ওপরে নেওয়া হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে একে ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিশেষে, একটি দুর্নীতিমুক্ত, স্বাবলম্বী ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‘বিশেষ দেশকে’ সুবিধা দিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছিল স্বৈরাচার

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকার ‘একটি বিশেষ দেশকে’ সুবিধা দিতে এবং একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে খুশি করতে দেশের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল বলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার যে নীতি রয়েছে, বিগত স্বৈরাচারী সরকার অন্য কারো এজেন্ডা ও তাবেদারি বাস্তবায়নে মনেপ্রাণে সেই নীতিই এ দেশে প্রয়োগ করেছিল। একইভাবে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে অন্য কোনো দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের হাতে যেন তুলে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে এদেশের কোটি কোটি মানুষ ন্যূনতম সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। 

এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতের আমূল পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন নীতি এবং একটি বিশেষ প্রতিবেশী দেশের প্রতি অতিরিক্ত তোষণ নীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। মিশরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল লিখনের ঐতিহাসিক উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে অন্য কোনো অস্ত্রের প্রয়োজন নেই, শুধু তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিলেই চলে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকার অন্য কাউকে খুশি করার জন্য এবং বিশেষ গোষ্ঠীকে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার জন্য এই নীতি গ্রহণ করেছিল। বর্তমান সরকার দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ও আধুনিক মানবিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে বিতর্কিত সিলেবাস পরিবর্তন, শিক্ষার উপকরণ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

চিকিৎসা খাতের বেহাল দশা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত সরকার পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে অন্য কারো হাতে তুলে দিয়েছিল এবং একটি বিশেষ দেশকে একচেটিয়া রোগী সরবরাহ ও চিকিৎসা বাণিজ্যের সুবিধা দেওয়ার জন্য আমাদের বড় বড় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। 

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শতভাগ অসুস্থ করে রেখেছিল। এই মৃতপ্রায় খাতকে সচল করতে বর্তমান সরকার বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে তা জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা দেন:

রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিতে সারা দেশে খুব শিগগিরই এক লক্ষ ‘হেলথকেয়ার কর্মী’ নিয়োগ দেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই দেশের পাঁচটি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি অত্যাধুনিক শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে, যাতে গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষকে রাজধানীমুখী হতে না হয়।

প্রধানমন্ত্রী তার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, বিগত দেড় দশক ধরে তথাকথিত উন্নয়নের যে ফানুস উড়ানো হয়েছিল, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের বেহাল দশা এবং উন্নয়ন কাজের অবহেলার কথা উল্লেখ করে জানান, বর্তমান সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু করেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কুইক রেন্টালের নামে ‘কুইক মানি’ বা দুর্নীতি অর্জনের মহোৎসব চালানো হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ খাত থেকেই কমপক্ষে ৩ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। কোনো কাজ না করেই প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকার ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে, যার কোনো সুফল জনগণ পায়নি। 

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র তিন মাসে জ্বালানি তেলের মজুদ ৩০ দিনের নিচে থেকে ৪৫ দিনের ওপরে নেওয়া হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে একে ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিশেষে, একটি দুর্নীতিমুক্ত, স্বাবলম্বী ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত