গত কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যকার পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি (ইসলামাবাদ সমঝোতা) কার্যকরভাবে ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে পুরোদমে সংঘাত চলছে, যা হরমুজ প্রণালিতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
গত ১৪-১৫ জুলাই মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে নৌ-অবরোধ (Naval Blockade) আরোপ করেছে এবং ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে বন্দর আব্বাস ও তুনব দ্বীপের সামরিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন বাহিনী তীব্র হামলা পরিচালনা করেছে।
মার্কিন হামলার জবাবে ইরান পাল্টা ড্রোন হামলা শুরু করেছে। ১৬ জুলাইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান জর্ডানের আল-আজরাক বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। জর্ডান জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডের দিকে আসা ইরানের অন্তত আটটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে হামলা শুরু করে।
পরিস্থিতির উন্নতির জন্য ১৭ জুন দুই দেশ 'ইসলামাবাদ সমঝোতা' স্বাক্ষর করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫ জুলাই ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি আমিরাতি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ হয়। এরপর ৭ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পাল্টা হামলা শুরু করে, যা বর্তমানে টানা ৫ম দিনের মতো সক্রিয় পর্যায়ে রয়েছে।
২০২৬ সালের জুলাইয়ের এই সংঘাত মূলত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। উভয় পক্ষই দাবি করছে যে তারা তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
গত কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যকার পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি (ইসলামাবাদ সমঝোতা) কার্যকরভাবে ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে পুরোদমে সংঘাত চলছে, যা হরমুজ প্রণালিতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
গত ১৪-১৫ জুলাই মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে নৌ-অবরোধ (Naval Blockade) আরোপ করেছে এবং ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে বন্দর আব্বাস ও তুনব দ্বীপের সামরিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন বাহিনী তীব্র হামলা পরিচালনা করেছে।
মার্কিন হামলার জবাবে ইরান পাল্টা ড্রোন হামলা শুরু করেছে। ১৬ জুলাইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান জর্ডানের আল-আজরাক বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। জর্ডান জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডের দিকে আসা ইরানের অন্তত আটটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে হামলা শুরু করে।
পরিস্থিতির উন্নতির জন্য ১৭ জুন দুই দেশ 'ইসলামাবাদ সমঝোতা' স্বাক্ষর করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫ জুলাই ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি আমিরাতি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ হয়। এরপর ৭ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পাল্টা হামলা শুরু করে, যা বর্তমানে টানা ৫ম দিনের মতো সক্রিয় পর্যায়ে রয়েছে।
২০২৬ সালের জুলাইয়ের এই সংঘাত মূলত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। উভয় পক্ষই দাবি করছে যে তারা তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন