সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করেছে ইরান। রবিবার (১৯ জুলাই) দেশটির বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে ওই দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক দুর্দশা নিয়ে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরবর্তীতে দেশজুড়ে ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল।
ইরানের বিচার বিভাগ জানায়, এরফান এসফান্দিয়ারি ও গোল-মোহাম্মদ মোহাম্মদি নামের ওই দুই ব্যক্তি মধ্যাঞ্চলীয় ইসফাহান শহরে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তাদের রশি দিয়ে সাইনপোস্টের সঙ্গে বেঁধে রাখেন, পাথর ছুড়ে আহত করেন এবং তাদের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আদালতের শুনানিতে এসব অপরাধের দায়ে তারা দোষী সাব্যস্ত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তারা এই সহিংসতার দৃশ্য নিজেদের ফোনে ভিডিও করেন এবং বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলে পাঠান। তবে বিবৃতিতে তাদের গ্রেপ্তারের তারিখ, বয়স বা বিচার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন জানুয়ারির ৮ ও ৯ তারিখে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই সহিংসতাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিচালিত 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' বলে আখ্যা দেয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে ৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি গুলিতেই অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে।
সেই সময় তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পর ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। এরপর থেকেই ইরানে বিক্ষোভকারী ও বিরোধীদের গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ ও ‘ইসিপিএম’-এর তথ্যমতে, গত বছর ইরানে অন্তত ১,৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে—যা ১৯৮৯ সালের পর সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তালিকায় চীনের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইরান।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করেছে ইরান। রবিবার (১৯ জুলাই) দেশটির বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে ওই দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক দুর্দশা নিয়ে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরবর্তীতে দেশজুড়ে ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল।
ইরানের বিচার বিভাগ জানায়, এরফান এসফান্দিয়ারি ও গোল-মোহাম্মদ মোহাম্মদি নামের ওই দুই ব্যক্তি মধ্যাঞ্চলীয় ইসফাহান শহরে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তাদের রশি দিয়ে সাইনপোস্টের সঙ্গে বেঁধে রাখেন, পাথর ছুড়ে আহত করেন এবং তাদের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আদালতের শুনানিতে এসব অপরাধের দায়ে তারা দোষী সাব্যস্ত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তারা এই সহিংসতার দৃশ্য নিজেদের ফোনে ভিডিও করেন এবং বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলে পাঠান। তবে বিবৃতিতে তাদের গ্রেপ্তারের তারিখ, বয়স বা বিচার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন জানুয়ারির ৮ ও ৯ তারিখে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই সহিংসতাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিচালিত 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' বলে আখ্যা দেয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে ৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি গুলিতেই অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে।
সেই সময় তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পর ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। এরপর থেকেই ইরানে বিক্ষোভকারী ও বিরোধীদের গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ ও ‘ইসিপিএম’-এর তথ্যমতে, গত বছর ইরানে অন্তত ১,৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে—যা ১৯৮৯ সালের পর সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তালিকায় চীনের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইরান।

আপনার মতামত লিখুন