ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সারাদেশে কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকার মধ্যে ২০২৪ সালের ২১ জুলাই সকালে বসেছিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির বেঞ্চ এজলাসে আসন গ্রহণ করেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় কোটা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিলের বিষয়ে লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু হয়। প্রথমে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি উপস্থাপন করে জানান, ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্রটি সরকারের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত (Policy Decision) ছিল, যাতে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। এরপর সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক কোটা সংস্কার করে রায় দেওয়ার আর্জি জানান। শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আরও অনেকে। শুনানি শেষে বিরতি দিয়ে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্রটি অকার্যকর করে সর্বোচ্চ আদালত সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরির জন্য নতুন কোটা পদ্ধতি নির্ধারণ করে দেন। এতে মেধা তালিকায় ৯৩ শতাংশ পদ বরাদ্দ রাখা হয়। বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলো সাধারণ মেধা তালিকা থেকে পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রায়ে আদালত সুকান্তের কবিতা ও স্বাধীনতার চেতনা স্মরণ করিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে শিক্ষক, অভিভাবক ও সরকারের প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য ছয় দফা অভিমত দেন। এছাড়া কোটা আন্দোলনে শিক্ষার্থী মৃত্যু ও সহিংসতার ঘটনায় হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
তবে রায়ে কোটা সংস্কারের দিকটি উঠে আসলেও, ততদিনে ছাত্র-জনতার আন্দোলন এতটাই তুঙ্গে পৌঁছেছিল যে সাধারণ মানুষের নজর আদালতের এই রায়ের বাইরে চলে গিয়েছিল।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সারাদেশে কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকার মধ্যে ২০২৪ সালের ২১ জুলাই সকালে বসেছিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির বেঞ্চ এজলাসে আসন গ্রহণ করেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় কোটা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিলের বিষয়ে লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু হয়। প্রথমে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি উপস্থাপন করে জানান, ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্রটি সরকারের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত (Policy Decision) ছিল, যাতে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। এরপর সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক কোটা সংস্কার করে রায় দেওয়ার আর্জি জানান। শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আরও অনেকে। শুনানি শেষে বিরতি দিয়ে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্রটি অকার্যকর করে সর্বোচ্চ আদালত সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরির জন্য নতুন কোটা পদ্ধতি নির্ধারণ করে দেন। এতে মেধা তালিকায় ৯৩ শতাংশ পদ বরাদ্দ রাখা হয়। বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলো সাধারণ মেধা তালিকা থেকে পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রায়ে আদালত সুকান্তের কবিতা ও স্বাধীনতার চেতনা স্মরণ করিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে শিক্ষক, অভিভাবক ও সরকারের প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য ছয় দফা অভিমত দেন। এছাড়া কোটা আন্দোলনে শিক্ষার্থী মৃত্যু ও সহিংসতার ঘটনায় হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
তবে রায়ে কোটা সংস্কারের দিকটি উঠে আসলেও, ততদিনে ছাত্র-জনতার আন্দোলন এতটাই তুঙ্গে পৌঁছেছিল যে সাধারণ মানুষের নজর আদালতের এই রায়ের বাইরে চলে গিয়েছিল।

আপনার মতামত লিখুন