ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবের ওপর তাৎক্ষণিক কার্যকর সামুদ্রিক অবরোধ (ন্যাভাল ব্লকডেইড) ঘোষণা করেছে। ‘চোখের বদলে চোখ’ বা সমতার নীতিকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
দীর্ঘ প্রায় চার বছরের তুলনামূলক শান্ত অবস্থা ও যুদ্ধবিরতি ভেঙে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন ভাষণে এই সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। গোষ্ঠীটির দাবি, ইয়েমেনের ওপর দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে চলা অবরোধ, বন্দর-বিমানবন্দর বন্ধ রাখা এবং সম্প্রতি সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি জোটের হামলার জবাবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলার জেরে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বিদ্রোহীরা। ২০২২ সালের মার্চ থেকে কার্যকর থাকা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির পর এটিই সৌদির মূল ভূখণ্ডে হুথিদের প্রথম সরাসরি হামলা, যা দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর শান্তি চুক্তিকে ভেঙে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা সৌদি আরবের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায়, লোহিত সাগর ও বাবে আল-মান্দেব প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথ অবরুদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা একে কেবল ইয়েমেন-সৌদি দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ না দেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানি সংঘাতের নতুন মাত্রায় লোহিত সাগর তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল রূপ নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবের ওপর তাৎক্ষণিক কার্যকর সামুদ্রিক অবরোধ (ন্যাভাল ব্লকডেইড) ঘোষণা করেছে। ‘চোখের বদলে চোখ’ বা সমতার নীতিকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
দীর্ঘ প্রায় চার বছরের তুলনামূলক শান্ত অবস্থা ও যুদ্ধবিরতি ভেঙে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন ভাষণে এই সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। গোষ্ঠীটির দাবি, ইয়েমেনের ওপর দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে চলা অবরোধ, বন্দর-বিমানবন্দর বন্ধ রাখা এবং সম্প্রতি সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি জোটের হামলার জবাবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলার জেরে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বিদ্রোহীরা। ২০২২ সালের মার্চ থেকে কার্যকর থাকা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির পর এটিই সৌদির মূল ভূখণ্ডে হুথিদের প্রথম সরাসরি হামলা, যা দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর শান্তি চুক্তিকে ভেঙে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা সৌদি আরবের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায়, লোহিত সাগর ও বাবে আল-মান্দেব প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথ অবরুদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা একে কেবল ইয়েমেন-সৌদি দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ না দেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানি সংঘাতের নতুন মাত্রায় লোহিত সাগর তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল রূপ নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।

আপনার মতামত লিখুন