দক্ষিণ চীন সাগরের কৌশলগত জলসীমায় সম্প্রতি চীনের কোস্ট গার্ড ও ফিলিপাইনের নৌযানের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেকেন্ড থমাস শোল (Second Thomas Shoal)-এর কাছে ঘটা এই অপ্রীতিকর ঘটনায় ফিলিপাইনের এক নৌ-নাবিক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং একটি জলযান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তীব্র রূপ নিয়েছে।
ম্যানিলার দাবি, তাদের একটি রেশনিং ও লজিস্টিকস বোটে চীনা কোস্ট গার্ড আক্রমণাত্মক ও বিপজ্জনক হস্তক্ষেপ করেছে। ফিলিপাইন এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন (UNCLOS) এবং তাদের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
বেইজিংয়ের কোস্ট গার্ড ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগটি নাকচ করে জানিয়েছে, ফিলিপাইনের নৌযানগুলো পূর্বঘোষিত সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে বেআইনিভাবে চীনের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের নেওয়া পদক্ষেপ ছিল সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক ও নিয়মমাফিক।
দক্ষিণ চীন সাগরের এই সংঘাত কেবল একটি বিচ্ছিন্ন নৌ-সংঘর্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ও সামরিক ভূ-রাজনীতি:
বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর প্রভাব বিস্তারের সমান।
ফিলিপাইন জাতিসংঘের সমুদ্র আইন (UNCLOS)-এর ওপর ভিত্তি করে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। অন্যদিকে, চীন তাদের ঐতিহাসিক 'নাইন-ড্যাশ লাইন' (Nine-Dash Line) তত্ত্বের ওপর দাঁড়িয়ে পুরো জলসীমায় সার্বভৌমত্ব দাবি করছে।
ফিলিপাইনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সক্রিয় কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থনের কারণে এটি কেবল দ্বিপক্ষীয় বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই, বরং একটি আঞ্চলিক প্রক্সি সংঘাতের রূপ নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত এড়াতে এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে 'কনভেনশন অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেগুলেশনস ফর প্রিভেন্টিং কোলিশনস অ্যাট সি' (COLREGs)-এর আন্তর্জাতিক অনুশাসন মেনে চলা জরুরি। অবিলম্বে দুই দেশের মধ্যে হটলাইন যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এবং আলোচনার টেবিলে আইনি ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান খোঁজা আবশ্যক।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরের কৌশলগত জলসীমায় সম্প্রতি চীনের কোস্ট গার্ড ও ফিলিপাইনের নৌযানের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেকেন্ড থমাস শোল (Second Thomas Shoal)-এর কাছে ঘটা এই অপ্রীতিকর ঘটনায় ফিলিপাইনের এক নৌ-নাবিক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং একটি জলযান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তীব্র রূপ নিয়েছে।
ম্যানিলার দাবি, তাদের একটি রেশনিং ও লজিস্টিকস বোটে চীনা কোস্ট গার্ড আক্রমণাত্মক ও বিপজ্জনক হস্তক্ষেপ করেছে। ফিলিপাইন এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন (UNCLOS) এবং তাদের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
বেইজিংয়ের কোস্ট গার্ড ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগটি নাকচ করে জানিয়েছে, ফিলিপাইনের নৌযানগুলো পূর্বঘোষিত সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে বেআইনিভাবে চীনের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের নেওয়া পদক্ষেপ ছিল সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক ও নিয়মমাফিক।
দক্ষিণ চীন সাগরের এই সংঘাত কেবল একটি বিচ্ছিন্ন নৌ-সংঘর্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ও সামরিক ভূ-রাজনীতি:
বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর প্রভাব বিস্তারের সমান।
ফিলিপাইন জাতিসংঘের সমুদ্র আইন (UNCLOS)-এর ওপর ভিত্তি করে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। অন্যদিকে, চীন তাদের ঐতিহাসিক 'নাইন-ড্যাশ লাইন' (Nine-Dash Line) তত্ত্বের ওপর দাঁড়িয়ে পুরো জলসীমায় সার্বভৌমত্ব দাবি করছে।
ফিলিপাইনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সক্রিয় কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থনের কারণে এটি কেবল দ্বিপক্ষীয় বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই, বরং একটি আঞ্চলিক প্রক্সি সংঘাতের রূপ নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত এড়াতে এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে 'কনভেনশন অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেগুলেশনস ফর প্রিভেন্টিং কোলিশনস অ্যাট সি' (COLREGs)-এর আন্তর্জাতিক অনুশাসন মেনে চলা জরুরি। অবিলম্বে দুই দেশের মধ্যে হটলাইন যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এবং আলোচনার টেবিলে আইনি ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান খোঁজা আবশ্যক।

আপনার মতামত লিখুন