গ্যাস ও আমদানিকৃত কাঁচামাল সংকটের কারণে চট্টগ্রামের প্রধান সার কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। অঞ্চলের ৪টি বড় কারখানার মধ্যে ৩টিতেই উৎপাদন স্বাভাবিক নেই। ফলে আসন্ন আমন মৌসুমে সার সরবরাহ এবং ফসলের ফলন নিয়ে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের মধ্যে তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে চট্টগ্রামে সারের মূল জোগান দেয় ৪টি কারখানা। বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
ইউরিয়া তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ থেকে পুরোপুরি বন্ধ। ডিএপিএফসিএল ডিএপি কাঁচামাল (ফসফরিক অ্যাসিড) সংকটে টানা ১ মাস ৪ দিন ধরে বন্ধ। কাফকো ইউরিয়া গ্যাস সরবরাহ সীমিত করায় উৎপাদন নির্দিষ্ট সময়সীমায় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। টিএসপি কমপ্লেক্স টিএসপি বর্তমানে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি সার কারখানাটির জন্য ২০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড সরবরাহের চুক্তি ছিল জুনের মধ্যে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ায় এই কাঁচামাল আমদানি আটকে গেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চট্টগ্রামে লবণাক্ত পানির আগ্রাসনে বোরো ধানের আবাদ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের এখন একমাত্র ভরসা আমন ধান। চলতি মৌসুমে চট্টগ্রাম জেলায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আমন ঘিরে জেলায় ইউরিয়া ৪৭,৩৬৬ টন, টিএসপি ২৪,৬২৭ টন, ডিএপি ২৫,৫৪২ টন এবং এমওপি ১২,৮৪৩ টন সারের চাহিদা রয়েছে।
কৃষকদের আশঙ্কা, বর্তমানে গুদামে সার থাকলেও কারখানাগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে কৃত্রিম সংকট বা চড়া দামের দৌরাত্ম্য তৈরি হতে পারে।
দেশের শিল্প খাতে চলমান গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সার সংকটের আশঙ্কাকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। গাজীপুরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন:
"দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই, পর্যাপ্ত মজুত ও পাইপলাইনে সরবরাহ রয়েছে। যারা ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক আপ্রু মারমাও আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে চট্টগ্রামে যে পরিমাণ রাসায়নিক সার মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী অন্তত তিন মাসের চাহিদা অনায়াসে পূরণ করা সম্ভব।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
গ্যাস ও আমদানিকৃত কাঁচামাল সংকটের কারণে চট্টগ্রামের প্রধান সার কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। অঞ্চলের ৪টি বড় কারখানার মধ্যে ৩টিতেই উৎপাদন স্বাভাবিক নেই। ফলে আসন্ন আমন মৌসুমে সার সরবরাহ এবং ফসলের ফলন নিয়ে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের মধ্যে তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে চট্টগ্রামে সারের মূল জোগান দেয় ৪টি কারখানা। বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
ইউরিয়া তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ থেকে পুরোপুরি বন্ধ। ডিএপিএফসিএল ডিএপি কাঁচামাল (ফসফরিক অ্যাসিড) সংকটে টানা ১ মাস ৪ দিন ধরে বন্ধ। কাফকো ইউরিয়া গ্যাস সরবরাহ সীমিত করায় উৎপাদন নির্দিষ্ট সময়সীমায় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। টিএসপি কমপ্লেক্স টিএসপি বর্তমানে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি সার কারখানাটির জন্য ২০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড সরবরাহের চুক্তি ছিল জুনের মধ্যে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ায় এই কাঁচামাল আমদানি আটকে গেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চট্টগ্রামে লবণাক্ত পানির আগ্রাসনে বোরো ধানের আবাদ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের এখন একমাত্র ভরসা আমন ধান। চলতি মৌসুমে চট্টগ্রাম জেলায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আমন ঘিরে জেলায় ইউরিয়া ৪৭,৩৬৬ টন, টিএসপি ২৪,৬২৭ টন, ডিএপি ২৫,৫৪২ টন এবং এমওপি ১২,৮৪৩ টন সারের চাহিদা রয়েছে।
কৃষকদের আশঙ্কা, বর্তমানে গুদামে সার থাকলেও কারখানাগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে কৃত্রিম সংকট বা চড়া দামের দৌরাত্ম্য তৈরি হতে পারে।
দেশের শিল্প খাতে চলমান গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সার সংকটের আশঙ্কাকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। গাজীপুরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন:
"দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই, পর্যাপ্ত মজুত ও পাইপলাইনে সরবরাহ রয়েছে। যারা ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক আপ্রু মারমাও আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে চট্টগ্রামে যে পরিমাণ রাসায়নিক সার মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী অন্তত তিন মাসের চাহিদা অনায়াসে পূরণ করা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন