খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় অসময়ের (অফ-সিজন) তরমুজ চাষে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল। প্রচলিত মৌসুমের বাইরে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ।
উপজেলার সাহস ইউনিয়নের ছোটবন্দ গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাচায় ঝুলছে পরিপক্ব তরমুজ। খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সফল কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল নিজের খেতের ফলন নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। ভালো ফলনের পাশাপাশি অসময়ের তরমুজে বাজারদরও ভালো পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল বলেন, “প্রথমে অসময়ে তরমুজ চাষ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু কৃষি অফিসের পরামর্শ ও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে খেতে ভালো ফলন পেয়েছি। অসময়ের তরমুজের বাজারে আলাদা চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়া যায়। খরচ তুলে এবার দ্বিগুণ লাভের আশা করছি। আমার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও মাচা পদ্ধতিতে অফ-সিজন তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”
তিনি জানান, ‘আস্থা’ জাতের তরমুজ ৪০ শতক জমিতে চাষ করেছেন। এতে মোট উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। প্রাথমিকভাবে ৪২ মণ তরমুজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রতি কেজি ৫০ টাকা হিসাবে এ পরিমাণ তরমুজ থেকে প্রায় ৮৪ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
এ ছাড়া পরবর্তীতে আরও প্রায় ২৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি হতে পারে বলে জানান মৃত্যুঞ্জয়। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার টাকা। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে সম্ভাব্য নিট লাভ প্রায় ৮৯ হাজার টাকা হতে পারে বলে তাঁর হিসাব।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, “কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ, নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন এবং আধুনিক মাচা পদ্ধতিতে চাষাবাদের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লবণাক্ততা ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের মতো কৃষকদের পরিশ্রমে ডুমুরিয়ায় অসময়ের তরমুজের ভালো ফলন সম্ভব হয়েছে।”
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “খুলনার উপকূলীয় এলাকায় অফ-সিজন তরমুজ চাষ কৃষকদের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। সাধারণ মৌসুমের তুলনায় উচ্চমূল্যের এসব ফসলে কৃষকরা ভালো লাভ করতে পারেন। আমরা জেলাজুড়ে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় এনে উচ্চমূল্যের ফসল চাষে উৎসাহিত করছি।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অসময়ের তরমুজের এ ধরনের সাফল্য ডুমুরিয়ার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামীতে এলাকার আরও কৃষক অফ-সিজন তরমুজ চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় অসময়ের (অফ-সিজন) তরমুজ চাষে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল। প্রচলিত মৌসুমের বাইরে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ।
উপজেলার সাহস ইউনিয়নের ছোটবন্দ গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাচায় ঝুলছে পরিপক্ব তরমুজ। খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সফল কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল নিজের খেতের ফলন নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। ভালো ফলনের পাশাপাশি অসময়ের তরমুজে বাজারদরও ভালো পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল বলেন, “প্রথমে অসময়ে তরমুজ চাষ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু কৃষি অফিসের পরামর্শ ও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে খেতে ভালো ফলন পেয়েছি। অসময়ের তরমুজের বাজারে আলাদা চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়া যায়। খরচ তুলে এবার দ্বিগুণ লাভের আশা করছি। আমার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও মাচা পদ্ধতিতে অফ-সিজন তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”
তিনি জানান, ‘আস্থা’ জাতের তরমুজ ৪০ শতক জমিতে চাষ করেছেন। এতে মোট উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। প্রাথমিকভাবে ৪২ মণ তরমুজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রতি কেজি ৫০ টাকা হিসাবে এ পরিমাণ তরমুজ থেকে প্রায় ৮৪ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
এ ছাড়া পরবর্তীতে আরও প্রায় ২৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি হতে পারে বলে জানান মৃত্যুঞ্জয়। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার টাকা। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে সম্ভাব্য নিট লাভ প্রায় ৮৯ হাজার টাকা হতে পারে বলে তাঁর হিসাব।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, “কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ, নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন এবং আধুনিক মাচা পদ্ধতিতে চাষাবাদের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লবণাক্ততা ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের মতো কৃষকদের পরিশ্রমে ডুমুরিয়ায় অসময়ের তরমুজের ভালো ফলন সম্ভব হয়েছে।”
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “খুলনার উপকূলীয় এলাকায় অফ-সিজন তরমুজ চাষ কৃষকদের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। সাধারণ মৌসুমের তুলনায় উচ্চমূল্যের এসব ফসলে কৃষকরা ভালো লাভ করতে পারেন। আমরা জেলাজুড়ে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় এনে উচ্চমূল্যের ফসল চাষে উৎসাহিত করছি।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অসময়ের তরমুজের এ ধরনের সাফল্য ডুমুরিয়ার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামীতে এলাকার আরও কৃষক অফ-সিজন তরমুজ চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন