নজর বিডি
আপডেট : সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে তারেক রহমানের সংস্কার ভাবনা

দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে তারেক রহমানের সংস্কার ভাবনা
Nazar BD

একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিবর্তন ও কাঠামোগত রূপান্তর তখনই টেকসই রূপ লাভ করে, যখন তা সংকীর্ণ দলীয় বৃত্ত অতিক্রম করে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এই রাজনৈতিক দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা আজ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়, সুশাসনের সংকট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পটভূমিতে রাষ্ট্র সংস্কারের যে দাবি গণমানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত বর্তমান সরকারের রাষ্ট্রদর্শনে তার একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা আমরা লক্ষ্য করছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের সুনির্দিষ্ট ৩১ দফা কর্মসূচি মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, তাঁর সংস্কার ভাবনা কেবল ক্ষমতার পালাবদলের প্রচলিত রাজনৈতিক কৌশল নয়; বরং এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ, বহুত্ববাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি রাজনৈতিক রূপরেখা।

অপরাধবিজ্ঞান, সুশাসন ও মানবাধিকারের একজন গবেষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভারসাম্যহীনতা এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের কুফল আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে ‘উইনার-টেকস-অল’ বা ‘বিজয়ী সব পাবে’ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান জরুরি।

তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফায় এই জায়গাটিতেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও ভারসাম্য নিশ্চিত করা এবং একজন প্রধানমন্ত্রীর পরপর দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালনের সুযোগ না রাখার প্রস্তাব বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

এসব প্রস্তাবের অন্তর্নিহিত দর্শন হলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন রোধ করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের রূপরেখা

তারেক রহমানের সংস্কার ভাবনার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এর ধারাবাহিকতা। সমকালীন রাজনীতিতে সংস্কারের আলোচনা যখন অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে সামনে এসেছে, তখন কয়েক বছর আগেই তিনি ৩১ দফায় রাষ্ট্র সংস্কারের একটি রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলেন।

এই রূপরেখায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং তারেক রহমানের ঘোষিত ২৭ দফার বিভিন্ন ধারণার সমন্বয় ঘটেছে। ফলে এটিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে একটি ধারাবাহিক সংস্কার-চিন্তার অংশ হিসেবে দেখা যায়।

মানবাধিকার ও সুশাসন

সুশাসনের অন্যতম প্রধান সূচক হলো নাগরিকের মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা। বাক্‌স্বাধীনতা, ভোটাধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া কোনো রাষ্ট্র সংস্কারই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে না।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের যৌক্তিক সংশোধন এবং স্বাধীন ন্যায়পাল বা ‘ওমবাডসম্যান’ নিয়োগের মতো প্রস্তাবগুলো রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা ও সুশাসনের কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য বহন করে।

অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা ও কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

রাজনীতিতে জবাবদিহিতার প্রয়োজন

রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের সদিচ্ছা নিয়ে অতীতে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় দল বা ব্যক্তির সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ভুল স্বীকার, সংশোধন এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমানের বক্তব্যে অন্যায় ও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবস্থানের যে বার্তা পাওয়া যায়, তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে।

অর্থনৈতিক মুক্তির সঙ্গে সংস্কারের যোগসূত্র

রাষ্ট্র সংস্কারের ধারণাকে শুধু সাংবিধানিক বা আইনি কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যও এই অর্থনৈতিক রূপরেখার অংশ।

দল নয়, রাষ্ট্রই হোক মূল বিবেচনা

আজকের বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নন; তিনি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় কল্যাণকে ধারণ করাই প্রত্যাশিত।

তাই তাঁর ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচিকে কেবল দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে জাতীয় স্বার্থ, গণতন্ত্র, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার আলোকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

সংস্কার কোনো স্থির বিষয় নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। একটি উন্নত, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলকেন্দ্রিক সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ ও পরিকল্পনাগুলোকে জাতীয় স্বার্থে সফল করার জন্য প্রয়োজন গঠনমূলক আলোচনা, সমালোচনা এবং সহযোগিতা। কারণ, কার্যকর সংস্কারের সফল বাস্তবায়নই পারে বাংলাদেশে সুশাসন, জবাবদিহিতা, সাম্য ও আইনের শাসন আরও সুদৃঢ় করতে।


লেখক:

প্রফেসর ড. আসিফ মিজান

উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া

অপরাধবিজ্ঞান, সুশাসন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ

বিষয় : দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে তারেক রহমানের সংস্কার ভাবনা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে তারেক রহমানের সংস্কার ভাবনা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিবর্তন ও কাঠামোগত রূপান্তর তখনই টেকসই রূপ লাভ করে, যখন তা সংকীর্ণ দলীয় বৃত্ত অতিক্রম করে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এই রাজনৈতিক দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা আজ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়, সুশাসনের সংকট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পটভূমিতে রাষ্ট্র সংস্কারের যে দাবি গণমানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত বর্তমান সরকারের রাষ্ট্রদর্শনে তার একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা আমরা লক্ষ্য করছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের সুনির্দিষ্ট ৩১ দফা কর্মসূচি মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, তাঁর সংস্কার ভাবনা কেবল ক্ষমতার পালাবদলের প্রচলিত রাজনৈতিক কৌশল নয়; বরং এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ, বহুত্ববাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি রাজনৈতিক রূপরেখা।

অপরাধবিজ্ঞান, সুশাসন ও মানবাধিকারের একজন গবেষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভারসাম্যহীনতা এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের কুফল আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে ‘উইনার-টেকস-অল’ বা ‘বিজয়ী সব পাবে’ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান জরুরি।

তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফায় এই জায়গাটিতেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও ভারসাম্য নিশ্চিত করা এবং একজন প্রধানমন্ত্রীর পরপর দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালনের সুযোগ না রাখার প্রস্তাব বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

এসব প্রস্তাবের অন্তর্নিহিত দর্শন হলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন রোধ করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের রূপরেখা

তারেক রহমানের সংস্কার ভাবনার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এর ধারাবাহিকতা। সমকালীন রাজনীতিতে সংস্কারের আলোচনা যখন অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে সামনে এসেছে, তখন কয়েক বছর আগেই তিনি ৩১ দফায় রাষ্ট্র সংস্কারের একটি রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলেন।

এই রূপরেখায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং তারেক রহমানের ঘোষিত ২৭ দফার বিভিন্ন ধারণার সমন্বয় ঘটেছে। ফলে এটিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে একটি ধারাবাহিক সংস্কার-চিন্তার অংশ হিসেবে দেখা যায়।

মানবাধিকার ও সুশাসন

সুশাসনের অন্যতম প্রধান সূচক হলো নাগরিকের মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা। বাক্‌স্বাধীনতা, ভোটাধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া কোনো রাষ্ট্র সংস্কারই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে না।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের যৌক্তিক সংশোধন এবং স্বাধীন ন্যায়পাল বা ‘ওমবাডসম্যান’ নিয়োগের মতো প্রস্তাবগুলো রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা ও সুশাসনের কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য বহন করে।

অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা ও কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

রাজনীতিতে জবাবদিহিতার প্রয়োজন

রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের সদিচ্ছা নিয়ে অতীতে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় দল বা ব্যক্তির সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ভুল স্বীকার, সংশোধন এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমানের বক্তব্যে অন্যায় ও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবস্থানের যে বার্তা পাওয়া যায়, তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে।

অর্থনৈতিক মুক্তির সঙ্গে সংস্কারের যোগসূত্র

রাষ্ট্র সংস্কারের ধারণাকে শুধু সাংবিধানিক বা আইনি কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যও এই অর্থনৈতিক রূপরেখার অংশ।

দল নয়, রাষ্ট্রই হোক মূল বিবেচনা

আজকের বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নন; তিনি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় কল্যাণকে ধারণ করাই প্রত্যাশিত।

তাই তাঁর ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচিকে কেবল দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে জাতীয় স্বার্থ, গণতন্ত্র, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার আলোকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

সংস্কার কোনো স্থির বিষয় নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। একটি উন্নত, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলকেন্দ্রিক সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ ও পরিকল্পনাগুলোকে জাতীয় স্বার্থে সফল করার জন্য প্রয়োজন গঠনমূলক আলোচনা, সমালোচনা এবং সহযোগিতা। কারণ, কার্যকর সংস্কারের সফল বাস্তবায়নই পারে বাংলাদেশে সুশাসন, জবাবদিহিতা, সাম্য ও আইনের শাসন আরও সুদৃঢ় করতে।


লেখক:

প্রফেসর ড. আসিফ মিজান

উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া

অপরাধবিজ্ঞান, সুশাসন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত