নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

কবি ও প্রাবন্ধিক মহিবুর রহিম আর নেই

কবি ও প্রাবন্ধিক মহিবুর রহিম আর নেই

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১৬ জুলাই ২০২৫: খ্যাতিমান কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক মহিবুর রহিম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কাউতলী এলাকার নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মহিবুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কবিতা, প্রবন্ধ ও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার অসাধারণ অবদান রয়েছে। সাহিত্যাঙ্গনে তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনেরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

তাঁর ঘনিষ্টজন কবি কাজী বর্ণাঢ্য জানিয়েছেন, মহিবুর রহীম দীর্ঘ দিন ধরে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ জনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৫২ বছর। স্ত্রী ও তিনপুত্রসহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি। মহিবুর রহিম ছিলেন বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য। কবি আল মাহমুদের সাহিত্যের বিশ্লেষক হিসেবেও খ্যাতি ছিলো তাঁর। পেশাগত জীবনে আমৃত্যু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। কবি মহিবুর রহিমের জন্ম কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ছাতিরচর গ্রামে ১৯৭৩ সালের ১৫ জানুযারী। শৈশবেই সাহিত্যচর্চার হাতেখড়ি। পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমি তরুণ লেখক প্রকল্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।   তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘অতিরিক্ত চোখ’, ‘হে অন্ধ তামস’, ‘অনাবাদি কবিতা’, ‘দুঃখগুলো অনাদির বীজপত্র’, ‘সবুজ শ্যামল মন’, ‘শিমুল রোদে রঙিন দিন’, ‘হৃদয়ে আমার কোন মন্দা নেই’, ‘হাওর বাংলা’ এবং ‘ভাটি বাংলার লোকভাষা ও লোকসাহিত্য’ প্রভৃতি। মৌলিক সাহিত্যচর্চা ছাড়াও মহিবুর রহিম লোকসাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ‘জাতীয় সাংস্কৃতিক সমীক্ষা গ্রন্থমালা’তে তার লেখা অন্তর্ভুক্ত হয়। মহিবুর রহিম কুমিল্লা অঞ্চলের লোকসংগীত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোকসাহিত্য, ভাটি বাংলার লোকসাহিত্য প্রভৃতি বিষয়ে কাজ করছেন। বাংলা একাডেমির ‘লোকজসংস্কৃতির বিকাশ কর্মসূচি’-র আওতায় ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোকসাহিত্য’ বিষয়ে কাজ করেছেন। লোকসাহিত্য গবেষণার জন্যে ‘প্রজ্ঞা’ শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি পদক ও স্মৃতি ৫২ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্যে ‘রকি সাহিত্য পদক ২০১১’, ‘মেঠোপথ সাহিত্য পদক-২০১৩’, ‘শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহিত্য পদক-২০১৪’, ‘সুকুমার রায় সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা ২০১৮’ ও 'আল মাহমুদ সাহিত্য সম্মাননা ২০২৪' এ ভূষিত হয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কবি ও প্রাবন্ধিক মহিবুর রহিম আর নেই

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৫

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১৬ জুলাই ২০২৫: খ্যাতিমান কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক মহিবুর রহিম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কাউতলী এলাকার নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মহিবুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কবিতা, প্রবন্ধ ও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার অসাধারণ অবদান রয়েছে। সাহিত্যাঙ্গনে তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনেরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

তাঁর ঘনিষ্টজন কবি কাজী বর্ণাঢ্য জানিয়েছেন, মহিবুর রহীম দীর্ঘ দিন ধরে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ জনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৫২ বছর। স্ত্রী ও তিনপুত্রসহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি। মহিবুর রহিম ছিলেন বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য। কবি আল মাহমুদের সাহিত্যের বিশ্লেষক হিসেবেও খ্যাতি ছিলো তাঁর। পেশাগত জীবনে আমৃত্যু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। কবি মহিবুর রহিমের জন্ম কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ছাতিরচর গ্রামে ১৯৭৩ সালের ১৫ জানুযারী। শৈশবেই সাহিত্যচর্চার হাতেখড়ি। পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমি তরুণ লেখক প্রকল্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।   তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘অতিরিক্ত চোখ’, ‘হে অন্ধ তামস’, ‘অনাবাদি কবিতা’, ‘দুঃখগুলো অনাদির বীজপত্র’, ‘সবুজ শ্যামল মন’, ‘শিমুল রোদে রঙিন দিন’, ‘হৃদয়ে আমার কোন মন্দা নেই’, ‘হাওর বাংলা’ এবং ‘ভাটি বাংলার লোকভাষা ও লোকসাহিত্য’ প্রভৃতি। মৌলিক সাহিত্যচর্চা ছাড়াও মহিবুর রহিম লোকসাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ‘জাতীয় সাংস্কৃতিক সমীক্ষা গ্রন্থমালা’তে তার লেখা অন্তর্ভুক্ত হয়। মহিবুর রহিম কুমিল্লা অঞ্চলের লোকসংগীত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোকসাহিত্য, ভাটি বাংলার লোকসাহিত্য প্রভৃতি বিষয়ে কাজ করছেন। বাংলা একাডেমির ‘লোকজসংস্কৃতির বিকাশ কর্মসূচি’-র আওতায় ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোকসাহিত্য’ বিষয়ে কাজ করেছেন। লোকসাহিত্য গবেষণার জন্যে ‘প্রজ্ঞা’ শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি পদক ও স্মৃতি ৫২ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্যে ‘রকি সাহিত্য পদক ২০১১’, ‘মেঠোপথ সাহিত্য পদক-২০১৩’, ‘শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহিত্য পদক-২০১৪’, ‘সুকুমার রায় সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা ২০১৮’ ও 'আল মাহমুদ সাহিত্য সম্মাননা ২০২৪' এ ভূষিত হয়েছেন।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত