দীর্ঘ এক দশকের নিরন্তর চেষ্টা, আর্থিক সংকট, করোনা মহামারির বাধা এবং প্রিয়তমা স্ত্রীকে হারানোর শোক কাটিয়ে অবশেষে হজের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা নগরীতে পাড়ি জমাচ্ছেন ৬৬ বছর বয়সী সাফদার খান।
পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির বাসিন্দা সাফদার এ বছর পাকিস্তান সরকারের ‘হার্ডশিপ কোটা’য় নির্বাচিত হওয়া সর্বশেষ হজযাত্রী।
ইসলামাবাদ হজ ক্যাম্পে বসে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি শোনালেন তার এই দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।
সাফদার খানের হজের স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা এসেছে বারবার ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর আবেদন করলেও লটারিতে তার নাম ওঠেনি।
২০১৯ সালে হজের জন্য নির্বাচিত হলেও বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি শুরু হওয়ায় সৌদি সরকার হজযাত্রীর সংখ্যা কমিয়ে দেয়। ফলে তার যাত্রা বাতিল হয় এবং পাকিস্তান সরকার টাকা ফেরত দেয়।
পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন এবং তার স্ত্রীকে হারান। হজের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং সঞ্চয় ফুরিয়ে আসায় তার হজে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এ বছর হজের আবেদনের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও দমে যাননি সাফদার। তিনি ফেব্রুয়ারি মাসে বিশেষ 'হার্ডশিপ কোটা'য় আবেদন করেন। সাফদার জানান আবেদনের প্রথম দিন তাকে জানানো হয়েছিল অনেক দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু পরের দিনই ফিরতি মেসেজে তার আবেদন গ্রহণের কথা জানানো হয়।
প্রথমে তাকে করাচি থেকে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা তার বাড়ি থেকে অনেক দূরে। কিন্তু অলৌকিকভাবে শেষ মুহূর্তে তার ফ্লাইট ইসলামাবাদ থেকেই নিশ্চিত হয়।
র্থাভাবে যখন হজের খরচ (১২ লাখ রুপি) মেটানো দায় হয়ে পড়েছিল, তখন তার ভাই, বন্ধু এবং আত্মীয়স্বজনরা মিলে টাকার ব্যবস্থা করে দেন।
সাফদার খান বলেন, "আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। ১০ বছরের ক্লান্তি এখন প্রশান্তিতে রূপ নিয়েছে। আল্লাহ আমাকে তাঁর ঘরে ডেকেছেন, এর চেয়ে বড় তৃপ্তি আর কিছু হতে পারে না।"
বিষয় : নেজরবিডি ধর্ম ডেস্ক

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
দীর্ঘ এক দশকের নিরন্তর চেষ্টা, আর্থিক সংকট, করোনা মহামারির বাধা এবং প্রিয়তমা স্ত্রীকে হারানোর শোক কাটিয়ে অবশেষে হজের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা নগরীতে পাড়ি জমাচ্ছেন ৬৬ বছর বয়সী সাফদার খান।
পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির বাসিন্দা সাফদার এ বছর পাকিস্তান সরকারের ‘হার্ডশিপ কোটা’য় নির্বাচিত হওয়া সর্বশেষ হজযাত্রী।
ইসলামাবাদ হজ ক্যাম্পে বসে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি শোনালেন তার এই দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।
সাফদার খানের হজের স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা এসেছে বারবার ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর আবেদন করলেও লটারিতে তার নাম ওঠেনি।
২০১৯ সালে হজের জন্য নির্বাচিত হলেও বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি শুরু হওয়ায় সৌদি সরকার হজযাত্রীর সংখ্যা কমিয়ে দেয়। ফলে তার যাত্রা বাতিল হয় এবং পাকিস্তান সরকার টাকা ফেরত দেয়।
পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন এবং তার স্ত্রীকে হারান। হজের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং সঞ্চয় ফুরিয়ে আসায় তার হজে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এ বছর হজের আবেদনের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও দমে যাননি সাফদার। তিনি ফেব্রুয়ারি মাসে বিশেষ 'হার্ডশিপ কোটা'য় আবেদন করেন। সাফদার জানান আবেদনের প্রথম দিন তাকে জানানো হয়েছিল অনেক দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু পরের দিনই ফিরতি মেসেজে তার আবেদন গ্রহণের কথা জানানো হয়।
প্রথমে তাকে করাচি থেকে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা তার বাড়ি থেকে অনেক দূরে। কিন্তু অলৌকিকভাবে শেষ মুহূর্তে তার ফ্লাইট ইসলামাবাদ থেকেই নিশ্চিত হয়।
র্থাভাবে যখন হজের খরচ (১২ লাখ রুপি) মেটানো দায় হয়ে পড়েছিল, তখন তার ভাই, বন্ধু এবং আত্মীয়স্বজনরা মিলে টাকার ব্যবস্থা করে দেন।
সাফদার খান বলেন, "আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। ১০ বছরের ক্লান্তি এখন প্রশান্তিতে রূপ নিয়েছে। আল্লাহ আমাকে তাঁর ঘরে ডেকেছেন, এর চেয়ে বড় তৃপ্তি আর কিছু হতে পারে না।"

আপনার মতামত লিখুন