ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো মুসলিমের কাছে নিজ দেশ থেকে মক্কায় গিয়ে ফিরে আসার মতো আর্থিক সামর্থ্য ও শারীরিক সক্ষমতা থাকলে তার ওপর হজ ফরজ হয়।
হজ ফরজ হওয়ার পর তা দ্রুত আদায় করার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, হজ ফরজ হওয়া সত্ত্বেও কেবল ওমরাহ করা কি সঠিক?
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি হজ করার ইচ্ছা করে, সে যেন তাড়াতাড়ি তা আদায় করে নেয়। কারণ যেকোনো সময় সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে বা বাহনের ব্যবস্থা না থাকতে পারে; অথবা অন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।” (মুসনাদে আহমাদ)
ফরজ হজ রেখে ওমরাহ করা কি মাকরুহ? আলেমদের মতে, কারো ওপর হজ ফরজ হলে সেই ফরজ দায়িত্ব পালন না করে শুধু ওমরাহ পালন করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। হজ ফরজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আদায় করা উত্তম এবং শরিয়তে এর ওপর বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সামর্থ্য থাকার পরও বিনা কারণে হজ আদায়ে বিলম্ব করা গুনাহের কাজ।
মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সর্বদা এক অবস্থায় থাকে না। আজ সামর্থ্য ও সুস্বাস্থ্য আছে, কাল তা নাও থাকতে পারে। তাই ‘ইনশাআল্লাহ আগামী বছর যাব’ বলে দেরি করা বিপদ ডেকে আনতে পারে। আল্লাহ তায়ালা কাউকে হজের সামর্থ্য দিলে ওমরাহ করতে গিয়ে ফরজ দায়িত্বকে পেছনে ঠেলে দেওয়া অনুচিত।
তবে কারো ওপর হজ ফরজ হওয়ার আগে তিনি যদি ওমরাহ পালন করেন, তবে তাতে কোনো বাধা নেই; বরং এটি সওয়াবের কাজ। পরিশেষে বলা যায়, ওমরাহ একটি উত্তম ইবাদত হলেও এটি কখনো ফরজ হজের বিকল্প নয়। তাই প্রথম কর্তব্য হিসেবে ফরজ হজই আগে আদায় করা উচিত।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো মুসলিমের কাছে নিজ দেশ থেকে মক্কায় গিয়ে ফিরে আসার মতো আর্থিক সামর্থ্য ও শারীরিক সক্ষমতা থাকলে তার ওপর হজ ফরজ হয়।
হজ ফরজ হওয়ার পর তা দ্রুত আদায় করার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, হজ ফরজ হওয়া সত্ত্বেও কেবল ওমরাহ করা কি সঠিক?
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি হজ করার ইচ্ছা করে, সে যেন তাড়াতাড়ি তা আদায় করে নেয়। কারণ যেকোনো সময় সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে বা বাহনের ব্যবস্থা না থাকতে পারে; অথবা অন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।” (মুসনাদে আহমাদ)
ফরজ হজ রেখে ওমরাহ করা কি মাকরুহ? আলেমদের মতে, কারো ওপর হজ ফরজ হলে সেই ফরজ দায়িত্ব পালন না করে শুধু ওমরাহ পালন করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। হজ ফরজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আদায় করা উত্তম এবং শরিয়তে এর ওপর বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সামর্থ্য থাকার পরও বিনা কারণে হজ আদায়ে বিলম্ব করা গুনাহের কাজ।
মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সর্বদা এক অবস্থায় থাকে না। আজ সামর্থ্য ও সুস্বাস্থ্য আছে, কাল তা নাও থাকতে পারে। তাই ‘ইনশাআল্লাহ আগামী বছর যাব’ বলে দেরি করা বিপদ ডেকে আনতে পারে। আল্লাহ তায়ালা কাউকে হজের সামর্থ্য দিলে ওমরাহ করতে গিয়ে ফরজ দায়িত্বকে পেছনে ঠেলে দেওয়া অনুচিত।
তবে কারো ওপর হজ ফরজ হওয়ার আগে তিনি যদি ওমরাহ পালন করেন, তবে তাতে কোনো বাধা নেই; বরং এটি সওয়াবের কাজ। পরিশেষে বলা যায়, ওমরাহ একটি উত্তম ইবাদত হলেও এটি কখনো ফরজ হজের বিকল্প নয়। তাই প্রথম কর্তব্য হিসেবে ফরজ হজই আগে আদায় করা উচিত।

আপনার মতামত লিখুন