মাওলানা শেখ মিলাদ হোসাইন সিদ্দিকী হাফিজাহুল্লাহ (অ্যাক্টিভিস্ট লেখক ও গবেষক)
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী শহীদ দুই প্রকার:
১. হাকিকি (প্রকৃত) শহীদ: যিনি দুনিয়া ও আখেরাত উভয় বিচারে শহীদ। তাকে গোসল করানো হয় না এবং সাধারণ কাফন দেওয়া হয় না; বরং যে পোশাকে তিনি শহীদ হয়েছেন, সে পোশাকেই জানাজা দিয়ে দাফন করা হয়। ২. হুকমি (বিধানগত) শহীদ: যারা নবীজি (সা.)-এর সুসংবাদ অনুযায়ী পরকালে শহীদের মর্যাদা পাবেন, কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সাধারণ মৃত ব্যক্তির মতো গোসল ও কাফন দেওয়া হয়।
হাকিকি শহীদ হওয়ার শর্তাবলি:
মুসলমান হওয়া, প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান হওয়া।
অপবিত্রতা (গোসল ফরজ হওয়া) থেকে পবিত্র থাকা।
নির্দোষ অবস্থায় নিহত হওয়া।
মুসলমান বা জিম্মির হাতে নিহত হলে ধারালো অস্ত্রের আঘাত থাকা (যুদ্ধক্ষেত্রে কাফিরের হাতে নিহত হলে এটি শর্ত নয়)।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে শহীদদের চিরঞ্জীব ঘোষণা করেছেন:
"যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা জীবিত, তাদের রবের কাছে তারা রিজিকপ্রাপ্ত হয়।" — (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৬৯)
শহীদের জীবন দুঃখের নয় বরং আনন্দের। আল্লাহ বলেন— "আল্লাহ তাদের নিজ অনুগ্রহে যা দিয়েছেন, তাতে তারা আনন্দিত।" (আয়াত: ১৭০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন জান্নাতি ব্যক্তি কখনোই দুনিয়ায় ফিরতে চাইবে না, শুধু শহীদ ছাড়া। কারণ শাহাদাতের মর্যাদা দেখে সে বারবার দুনিয়ায় এসে আল্লাহর পথে জীবন দিতে চাইবে। (বুখারি: ২৮১৭)
শহীদের জন্য ৬টি বিশেষ পুরস্কার: ১. রক্তের প্রথম ফোঁটা ঝরা মাত্রই গুনাহ ক্ষমা ও জান্নাতের ঠিকানা লাভ। ২. কবরের আজাব থেকে মুক্তি। ৩. হাশরের ময়দানের মহাভীতি থেকে নিরাপত্তা। ৪. মাথায় সম্মানজনক 'ইয়াকুতের মুকুট' পরিধান। ৫. বাহাত্তর জন 'হুর' সঙ্গিনী লাভ। ৬. পরিবারের ৭০ জন নিকটাত্মীয়ের জন্য সুপারিশ করার অধিকার। (তিরমিজি: ১৬৬৩)
হাদিস অনুযায়ী আল্লাহর পথে সরাসরি লড়াই ছাড়াও বিশেষ কিছু অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীরা শহীদের মর্যাদা পাবেন:
মহামারীতে মৃত্যু।
পানিতে ডুবে মৃত্যু।
পেটের রোগে বা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু।
ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু।
সন্তান প্রসবকালীন মায়ের মৃত্যু।
নিজ ধর্ম, জীবন, সম্পদ বা পরিবার রক্ষায় নিহত ব্যক্তি।
মজলুম অবস্থায় বা অত্যাচারের শিকার হয়ে নিহত ব্যক্তি।
আমাদের প্রিয় শরিফ ওসমান হাদি আজ আমাদের মাঝে নেই। আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে, আল্লাহ তাকে শহীদি মর্যাদা দান করবেন। মুমিন হিসেবে আমরা জানি, শহীদরা হারিয়ে যান না, তারা শুধু ঠিকানা বদলান। তিনি আছেন সেই জীবনে যেখানে ক্লান্তি নেই, আছে শুধু রবের সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
মাওলানা শেখ মিলাদ হোসাইন সিদ্দিকী হাফিজাহুল্লাহ (অ্যাক্টিভিস্ট লেখক ও গবেষক)
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী শহীদ দুই প্রকার:
১. হাকিকি (প্রকৃত) শহীদ: যিনি দুনিয়া ও আখেরাত উভয় বিচারে শহীদ। তাকে গোসল করানো হয় না এবং সাধারণ কাফন দেওয়া হয় না; বরং যে পোশাকে তিনি শহীদ হয়েছেন, সে পোশাকেই জানাজা দিয়ে দাফন করা হয়। ২. হুকমি (বিধানগত) শহীদ: যারা নবীজি (সা.)-এর সুসংবাদ অনুযায়ী পরকালে শহীদের মর্যাদা পাবেন, কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সাধারণ মৃত ব্যক্তির মতো গোসল ও কাফন দেওয়া হয়।
হাকিকি শহীদ হওয়ার শর্তাবলি:
মুসলমান হওয়া, প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান হওয়া।
অপবিত্রতা (গোসল ফরজ হওয়া) থেকে পবিত্র থাকা।
নির্দোষ অবস্থায় নিহত হওয়া।
মুসলমান বা জিম্মির হাতে নিহত হলে ধারালো অস্ত্রের আঘাত থাকা (যুদ্ধক্ষেত্রে কাফিরের হাতে নিহত হলে এটি শর্ত নয়)।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে শহীদদের চিরঞ্জীব ঘোষণা করেছেন:
"যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা জীবিত, তাদের রবের কাছে তারা রিজিকপ্রাপ্ত হয়।" — (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৬৯)
শহীদের জীবন দুঃখের নয় বরং আনন্দের। আল্লাহ বলেন— "আল্লাহ তাদের নিজ অনুগ্রহে যা দিয়েছেন, তাতে তারা আনন্দিত।" (আয়াত: ১৭০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন জান্নাতি ব্যক্তি কখনোই দুনিয়ায় ফিরতে চাইবে না, শুধু শহীদ ছাড়া। কারণ শাহাদাতের মর্যাদা দেখে সে বারবার দুনিয়ায় এসে আল্লাহর পথে জীবন দিতে চাইবে। (বুখারি: ২৮১৭)
শহীদের জন্য ৬টি বিশেষ পুরস্কার: ১. রক্তের প্রথম ফোঁটা ঝরা মাত্রই গুনাহ ক্ষমা ও জান্নাতের ঠিকানা লাভ। ২. কবরের আজাব থেকে মুক্তি। ৩. হাশরের ময়দানের মহাভীতি থেকে নিরাপত্তা। ৪. মাথায় সম্মানজনক 'ইয়াকুতের মুকুট' পরিধান। ৫. বাহাত্তর জন 'হুর' সঙ্গিনী লাভ। ৬. পরিবারের ৭০ জন নিকটাত্মীয়ের জন্য সুপারিশ করার অধিকার। (তিরমিজি: ১৬৬৩)
হাদিস অনুযায়ী আল্লাহর পথে সরাসরি লড়াই ছাড়াও বিশেষ কিছু অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীরা শহীদের মর্যাদা পাবেন:
মহামারীতে মৃত্যু।
পানিতে ডুবে মৃত্যু।
পেটের রোগে বা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু।
ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু।
সন্তান প্রসবকালীন মায়ের মৃত্যু।
নিজ ধর্ম, জীবন, সম্পদ বা পরিবার রক্ষায় নিহত ব্যক্তি।
মজলুম অবস্থায় বা অত্যাচারের শিকার হয়ে নিহত ব্যক্তি।
আমাদের প্রিয় শরিফ ওসমান হাদি আজ আমাদের মাঝে নেই। আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে, আল্লাহ তাকে শহীদি মর্যাদা দান করবেন। মুমিন হিসেবে আমরা জানি, শহীদরা হারিয়ে যান না, তারা শুধু ঠিকানা বদলান। তিনি আছেন সেই জীবনে যেখানে ক্লান্তি নেই, আছে শুধু রবের সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।

আপনার মতামত লিখুন