নজর বিডি

শাওয়াল মাসের ফজিলত ও আমল

শাওয়াল মাসের ফজিলত ও আমল
রমজান মাসের এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহ যে আনন্দ ও প্রশান্তির দিনটি উদযাপন করে, তার নাম ঈদুল ফিতর। হিজরি সালের দশম মাস শাওয়ালের প্রথম দিন এই পবিত্র উৎসব পালিত হয়।   দীর্ঘ এক মাস আত্মসংযম, ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টার পর ঈদের দিনটি যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য এক বিশেষ পুরস্কার। এ দিন মুসলমানরা দয়াময় রবের দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং তাঁর রহমত ও ক্ষমা লাভের আশায় ঈদের নামাজ আদায় করে। ঈদের নামাজে সমাজের সব স্তরের মানুষ—ধনী-গরিব, ক্ষমতাবান-অসহায়, বাদশাহ-ফকির—একই কাতারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর সামনে বান্দা হিসেবে হাজির হয়। এই সমতা ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা ইসলামি সমাজব্যবস্থার অন্যতম সুন্দর দিক কে তুলে ধরে। ঈদুল ফিতরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সদকাতুল ফিতর আদায় করা। এটি মূলত গরিব ও অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য নির্ধারিত এক ধরনের দান, যাতে তারাও ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারে। ইসলাম মানুষের পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দেয়। তাই ঈদের আগে ফিতরা আদায় করে সমাজের দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদের সালাত আদায় করা মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব। এই সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং রমজানের ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করা হয়। শাওয়াল মাসকে ইসলামি জীবনব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ★শাব্দিক বিশ্লেষণ... শাওয়াল’ শব্দটি ‘শাওল’ ধাতু থেকে এসেছে,যার অর্থ বাইরে যাওয়া বা গমন করা। প্রাচীন আরবদের মধ্যে প্রচলিত ছিল যে,এ মাসে তারা অনেক সময় ঘরবাড়ি ছেড়ে ভ্রমণে বের হতো। তাই এই মাসের নামকরণ শাওয়াল হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে শাওয়াল মাসের মূল গুরুত্ব নিহিত রয়েছে ইবাদত,নফল আমল এবং রমজানের শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়নের মধ্যে। ★শাওয়াল মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল... সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আবু আইয়ূব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمّ أَتْبَعَهُ سِتّا مِنْ شَوّالٍ، كَانَ كَصِيَامِ الدّهْرِ. অনুবাদ:যে ব্যক্তি রমযানে রোযা রাখল। এরপর শাওয়ালে ছয়টি রোযা রাখল। সে পুরো বছর রোযা রাখার সওয়াব লাভ করবে। [সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১১৬৪] এর পেছনে একটি সুন্দর ব্যাখ্যা রয়েছে। ইসলামে প্রতিটি নেক কাজের প্রতিদান কমপক্ষে দশগুণ করে দেওয়া হয়। রমজানের ত্রিশটি রোজা এবং শাওয়ালের ছয়টি রোজা মিলিয়ে মোট ছত্রিশটি রোজা হয়। যদি প্রতিটি রোজার প্রতিদান দশগুণ ধরা হয়, তবে তা দাঁড়ায় তিনশ ষাট দিনের সমান, যা একটি পূর্ণ বছরের দিনসংখ্যার কাছাকাছি। এই হিসাব থেকে বোঝা যায় যে, শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখার মধ্যে কত বড় ফজিলত নিহিত রয়েছে। এই ছয়টি রোজা একটানা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে ধারাবাহিকভাবে রাখতে পারে, আবার কেউ চাইলে ভেঙে ভেঙেও রাখতে পারে। ইসলামের বিধানে মানুষের সহজতা ও সুবিধার বিষয়টি সব সময় গুরুত্ব পেয়েছে। তাই যে কোনো উপায়ে এই রোজাগুলো আদায় করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারও যদি রমজানের কোনো রোজা কাজা থাকে, তাহলে প্রথমে সেই কাজা রোজা আদায় করা উত্তম। যদিও অনেক আলেমের মতে, শাওয়ালের ছয়টি রোজা কাজা রোজার আগেও রাখা যেতে পারে। এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে- عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ كَانَ يَكُونُ عَلَيَّ الصَّوْمُ مِنْ رَمَضَانَ فَمَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقْضِيَ إِلاَّ فِي شَعْبَانَ قَالَ يَحْيَى الشُّغْلُ مِنْ النَّبِيِّ أَوْ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم অনুবাদ:আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার উপর রমাযানের যে কাযা হয়ে যেত তা পরবর্তী শা‘বান ব্যতীত আমি আদায় করতে পারতাম না। ইয়াহ্ইয়া (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ব্যস্ততার কারণে কিংবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ব্যস্ততার কারণে। [সহিহ বুখারি: হাদিস নং ১৯৫০] এতে বোঝা যায় যে, কাজা রোজা পরবর্তী রমজান আসার আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়। শাওয়াল মাস কেবল নফল রোজার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং এ মাসে দান-সদকা করা, অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করা, অসুস্থদের সেবা করা ইত্যাদি নেক কাজের গুরুত্বও অনেক। রমজান মাসে যে আত্মসংযম ও সহমর্মিতার শিক্ষা মানুষ অর্জন করে, শাওয়াল মাসে তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার একটি সুন্দর সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, শাওয়াল মাস মূলত রমজানের শিক্ষাকে জীবনের ধারাবাহিক অংশে পরিণত করার একটি সময়। ইসলামের ইতিহাসেও শাওয়াল মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এ মাসে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। তৃতীয় হিজরিতে শাওয়াল মাসের সাত তারিখে ঐতিহাসিক উহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই যুদ্ধে মুসলমানরা কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিল এবং ধৈর্য, ত্যাগ ও ইমানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। ইতিহাসে আরও উল্লেখ পাওয়া যায় যে, অতীতের কিছু জাতির ওপর আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়েছিল এই মাসে। এসব ঘটনা মানুষের জন্য শিক্ষা ও সতর্কবার্তা বহন করে—যাতে তারা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য না করে এবং তাঁর পথে অবিচল থাকে। শাওয়াল মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিয়ে-শাদির সঙ্গে এর সম্পর্ক। ইসলাম-পূর্ব যুগে কিছু মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ছিল যে, শাওয়াল মাসে বিয়ে করা অশুভ। কিন্তু ইসলাম এই কুসংস্কারকে সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই শাওয়াল মাসে হজরত আয়েশাকে (রা.) বিয়ে করেন এবং এই মাসেই তার সঙ্গে সংসার জীবন শুরু করেন। উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) এই ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে প্রমাণ করেছেন যে, শাওয়াল মাসে বিয়ে করা কোনোভাবেই অকল্যাণকর নয়। বরং তিনি নিজেও পছন্দ করতেন যে, তার আত্মীয়স্বজনদের বিয়ে এই মাসে অনুষ্ঠিত হোক। এ থেকে বোঝা যায়, ইসলাম সমাজে প্রচলিত অমূলক কুসংস্কার দূর করে যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে জীবন পরিচালনার শিক্ষা দেয়। ★পরিশেষে বলবো... আল্লাহ আমাদেরকে অধিক পরিমাণে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা-ইস্তেগফার, ছয়টি রোজা রাখা ও অতীতের সব গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর আনুগত্য ও রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সুমহান আদর্শ অনুসরণে নিজেদের জীবন-পরিচালনার দৃঢ় প্রত্যয় ও শপথ গ্রহণ করা উচিত। আল্লাহতাআলা মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র শাওয়াল মাসের বরকত লাভে আমল-ইবাদতে নিয়োজিত থাকার তাওফিক দান করুন। সকলের মাহে রমজানের ফরজ রোজা কবুল করুন ও শাওয়ালের ৬টি রোজা থাকার তাওফিক প্রদান করুন আমিন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


শাওয়াল মাসের ফজিলত ও আমল

প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
রমজান মাসের এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহ যে আনন্দ ও প্রশান্তির দিনটি উদযাপন করে, তার নাম ঈদুল ফিতর। হিজরি সালের দশম মাস শাওয়ালের প্রথম দিন এই পবিত্র উৎসব পালিত হয়।   দীর্ঘ এক মাস আত্মসংযম, ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টার পর ঈদের দিনটি যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য এক বিশেষ পুরস্কার। এ দিন মুসলমানরা দয়াময় রবের দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং তাঁর রহমত ও ক্ষমা লাভের আশায় ঈদের নামাজ আদায় করে। ঈদের নামাজে সমাজের সব স্তরের মানুষ—ধনী-গরিব, ক্ষমতাবান-অসহায়, বাদশাহ-ফকির—একই কাতারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর সামনে বান্দা হিসেবে হাজির হয়। এই সমতা ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা ইসলামি সমাজব্যবস্থার অন্যতম সুন্দর দিক কে তুলে ধরে। ঈদুল ফিতরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সদকাতুল ফিতর আদায় করা। এটি মূলত গরিব ও অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য নির্ধারিত এক ধরনের দান, যাতে তারাও ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারে। ইসলাম মানুষের পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দেয়। তাই ঈদের আগে ফিতরা আদায় করে সমাজের দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদের সালাত আদায় করা মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব। এই সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং রমজানের ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করা হয়। শাওয়াল মাসকে ইসলামি জীবনব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ★শাব্দিক বিশ্লেষণ... শাওয়াল’ শব্দটি ‘শাওল’ ধাতু থেকে এসেছে,যার অর্থ বাইরে যাওয়া বা গমন করা। প্রাচীন আরবদের মধ্যে প্রচলিত ছিল যে,এ মাসে তারা অনেক সময় ঘরবাড়ি ছেড়ে ভ্রমণে বের হতো। তাই এই মাসের নামকরণ শাওয়াল হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে শাওয়াল মাসের মূল গুরুত্ব নিহিত রয়েছে ইবাদত,নফল আমল এবং রমজানের শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়নের মধ্যে। ★শাওয়াল মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল... সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আবু আইয়ূব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمّ أَتْبَعَهُ سِتّا مِنْ شَوّالٍ، كَانَ كَصِيَامِ الدّهْرِ. অনুবাদ:যে ব্যক্তি রমযানে রোযা রাখল। এরপর শাওয়ালে ছয়টি রোযা রাখল। সে পুরো বছর রোযা রাখার সওয়াব লাভ করবে। [সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১১৬৪] এর পেছনে একটি সুন্দর ব্যাখ্যা রয়েছে। ইসলামে প্রতিটি নেক কাজের প্রতিদান কমপক্ষে দশগুণ করে দেওয়া হয়। রমজানের ত্রিশটি রোজা এবং শাওয়ালের ছয়টি রোজা মিলিয়ে মোট ছত্রিশটি রোজা হয়। যদি প্রতিটি রোজার প্রতিদান দশগুণ ধরা হয়, তবে তা দাঁড়ায় তিনশ ষাট দিনের সমান, যা একটি পূর্ণ বছরের দিনসংখ্যার কাছাকাছি। এই হিসাব থেকে বোঝা যায় যে, শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখার মধ্যে কত বড় ফজিলত নিহিত রয়েছে। এই ছয়টি রোজা একটানা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে ধারাবাহিকভাবে রাখতে পারে, আবার কেউ চাইলে ভেঙে ভেঙেও রাখতে পারে। ইসলামের বিধানে মানুষের সহজতা ও সুবিধার বিষয়টি সব সময় গুরুত্ব পেয়েছে। তাই যে কোনো উপায়ে এই রোজাগুলো আদায় করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারও যদি রমজানের কোনো রোজা কাজা থাকে, তাহলে প্রথমে সেই কাজা রোজা আদায় করা উত্তম। যদিও অনেক আলেমের মতে, শাওয়ালের ছয়টি রোজা কাজা রোজার আগেও রাখা যেতে পারে। এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে- عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ كَانَ يَكُونُ عَلَيَّ الصَّوْمُ مِنْ رَمَضَانَ فَمَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقْضِيَ إِلاَّ فِي شَعْبَانَ قَالَ يَحْيَى الشُّغْلُ مِنْ النَّبِيِّ أَوْ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم অনুবাদ:আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার উপর রমাযানের যে কাযা হয়ে যেত তা পরবর্তী শা‘বান ব্যতীত আমি আদায় করতে পারতাম না। ইয়াহ্ইয়া (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ব্যস্ততার কারণে কিংবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ব্যস্ততার কারণে। [সহিহ বুখারি: হাদিস নং ১৯৫০] এতে বোঝা যায় যে, কাজা রোজা পরবর্তী রমজান আসার আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়। শাওয়াল মাস কেবল নফল রোজার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং এ মাসে দান-সদকা করা, অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করা, অসুস্থদের সেবা করা ইত্যাদি নেক কাজের গুরুত্বও অনেক। রমজান মাসে যে আত্মসংযম ও সহমর্মিতার শিক্ষা মানুষ অর্জন করে, শাওয়াল মাসে তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার একটি সুন্দর সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, শাওয়াল মাস মূলত রমজানের শিক্ষাকে জীবনের ধারাবাহিক অংশে পরিণত করার একটি সময়। ইসলামের ইতিহাসেও শাওয়াল মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এ মাসে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। তৃতীয় হিজরিতে শাওয়াল মাসের সাত তারিখে ঐতিহাসিক উহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই যুদ্ধে মুসলমানরা কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিল এবং ধৈর্য, ত্যাগ ও ইমানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। ইতিহাসে আরও উল্লেখ পাওয়া যায় যে, অতীতের কিছু জাতির ওপর আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়েছিল এই মাসে। এসব ঘটনা মানুষের জন্য শিক্ষা ও সতর্কবার্তা বহন করে—যাতে তারা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য না করে এবং তাঁর পথে অবিচল থাকে। শাওয়াল মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিয়ে-শাদির সঙ্গে এর সম্পর্ক। ইসলাম-পূর্ব যুগে কিছু মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ছিল যে, শাওয়াল মাসে বিয়ে করা অশুভ। কিন্তু ইসলাম এই কুসংস্কারকে সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই শাওয়াল মাসে হজরত আয়েশাকে (রা.) বিয়ে করেন এবং এই মাসেই তার সঙ্গে সংসার জীবন শুরু করেন। উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) এই ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে প্রমাণ করেছেন যে, শাওয়াল মাসে বিয়ে করা কোনোভাবেই অকল্যাণকর নয়। বরং তিনি নিজেও পছন্দ করতেন যে, তার আত্মীয়স্বজনদের বিয়ে এই মাসে অনুষ্ঠিত হোক। এ থেকে বোঝা যায়, ইসলাম সমাজে প্রচলিত অমূলক কুসংস্কার দূর করে যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে জীবন পরিচালনার শিক্ষা দেয়। ★পরিশেষে বলবো... আল্লাহ আমাদেরকে অধিক পরিমাণে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা-ইস্তেগফার, ছয়টি রোজা রাখা ও অতীতের সব গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর আনুগত্য ও রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সুমহান আদর্শ অনুসরণে নিজেদের জীবন-পরিচালনার দৃঢ় প্রত্যয় ও শপথ গ্রহণ করা উচিত। আল্লাহতাআলা মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র শাওয়াল মাসের বরকত লাভে আমল-ইবাদতে নিয়োজিত থাকার তাওফিক দান করুন। সকলের মাহে রমজানের ফরজ রোজা কবুল করুন ও শাওয়ালের ৬টি রোজা থাকার তাওফিক প্রদান করুন আমিন।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত