নজর বিডি
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

নদী খননের মাটি জমায় ডুমুরিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ

নদী খননের মাটি জমায় ডুমুরিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদী খননের মাটি ফেলার কারণে বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। ঘরের পেছনে বিপুল পরিমাণ মাটি জমে টয়লেট, রান্নাঘর ও বসবাসের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোর-ভবদহ ও খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ভদ্রাসহ ছয়টি নদীর প্রায় ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় খননকাজ চলছে, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় চুকনগর থেকে বরাতিয়া পর্যন্ত ভদ্রা নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৪০০টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর রয়েছে। নদী খননের মাটি এসব ঘরের পেছনে ফেলার ফলে বহু নিম্নআয়ের পরিবার দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।


আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা তপতি দাস বলেন, “ঘরের পেছনে মাটি ফেলার পর থেকে টয়লেট ব্যবহার করা যাচ্ছে না। রান্নার স্বাভাবিক ব্যবস্থাও নষ্ট হয়ে গেছে। বাইরে ইট বসিয়ে কোনোমতে রান্না করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে সেটিও সম্ভব হয় না।”


মুন্নি বেগম জানান, মাটির চাপে রান্নাঘর, বাথরুম ও টিনের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে শ্রমিক নিয়োগ করতে না পেরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজেরাই মাটি সরানোর চেষ্টা করছেন।


স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নদী খননের কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি অতিরিক্ত মাটি ফেলার কারণে অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাটির চাপে দেয়াল ফেটে যাওয়া, টয়লেটের ট্যাংকি নষ্ট হওয়া এবং ভারী যন্ত্রপাতির কম্পনে ঘরবাড়ি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।


এদিকে বেবি বেগম ও চামেলী দাসসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘরের টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। পড়াশোনায়ও ব্যাঘাত ঘটছে।


ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ১২৫টি ঘরের মধ্যে প্রায় ১০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। গত দুই দিনে অধিকাংশ মাটি অপসারণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে ঘরগুলো ঝুঁকিমুক্ত অবস্থায় রয়েছে।


গত ১৪ জুন বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর দ্রুত মাটি অপসারণের কাজ শুরু হয়।


মঙ্গলবার (১৬ জুন) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, “যশোর-ভবদহ ও খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী খননের কাজ চলমান রয়েছে। তবে উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে তাদের ক্ষতি দ্রুত পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিষয় : নদী খননের মাটি জমায় ডুমুরিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নদী খননের মাটি জমায় ডুমুরিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদী খননের মাটি ফেলার কারণে বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। ঘরের পেছনে বিপুল পরিমাণ মাটি জমে টয়লেট, রান্নাঘর ও বসবাসের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোর-ভবদহ ও খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ভদ্রাসহ ছয়টি নদীর প্রায় ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় খননকাজ চলছে, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় চুকনগর থেকে বরাতিয়া পর্যন্ত ভদ্রা নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৪০০টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর রয়েছে। নদী খননের মাটি এসব ঘরের পেছনে ফেলার ফলে বহু নিম্নআয়ের পরিবার দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।


আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা তপতি দাস বলেন, “ঘরের পেছনে মাটি ফেলার পর থেকে টয়লেট ব্যবহার করা যাচ্ছে না। রান্নার স্বাভাবিক ব্যবস্থাও নষ্ট হয়ে গেছে। বাইরে ইট বসিয়ে কোনোমতে রান্না করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে সেটিও সম্ভব হয় না।”


মুন্নি বেগম জানান, মাটির চাপে রান্নাঘর, বাথরুম ও টিনের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে শ্রমিক নিয়োগ করতে না পেরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজেরাই মাটি সরানোর চেষ্টা করছেন।


স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নদী খননের কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি অতিরিক্ত মাটি ফেলার কারণে অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাটির চাপে দেয়াল ফেটে যাওয়া, টয়লেটের ট্যাংকি নষ্ট হওয়া এবং ভারী যন্ত্রপাতির কম্পনে ঘরবাড়ি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।


এদিকে বেবি বেগম ও চামেলী দাসসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘরের টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। পড়াশোনায়ও ব্যাঘাত ঘটছে।


ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ১২৫টি ঘরের মধ্যে প্রায় ১০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। গত দুই দিনে অধিকাংশ মাটি অপসারণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে ঘরগুলো ঝুঁকিমুক্ত অবস্থায় রয়েছে।


গত ১৪ জুন বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর দ্রুত মাটি অপসারণের কাজ শুরু হয়।


মঙ্গলবার (১৬ জুন) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, “যশোর-ভবদহ ও খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী খননের কাজ চলমান রয়েছে। তবে উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে তাদের ক্ষতি দ্রুত পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত