নজর বিডি
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬

রিপন মিয়াকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

রিপন মিয়াকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

নেত্রকোণার সদর উপজেলায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সালিশ বৈঠকে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং সাত দিনের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন রিপনের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে সদর উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামে প্রতিবেশী এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন রিপন মিয়াকে আটক করেন। পরে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রিপনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তারা আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার চান।

সালিশে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাতব্বর জানান, অভিযোগের বিষয়ে রিপন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে দাবি করে গ্রামবাসী সর্বসম্মতিক্রমে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। ওই অর্থ ভুক্তভোগী তরুণীর ভবিষ্যৎ ও বিয়ের খরচের জন্য ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে তার বসতভিটার জায়গা বাজেয়াপ্ত করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে সাত দিনের মধ্যে তাকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে রিপন মিয়ার স্ত্রী অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার স্বামী নির্দোষ এবং একটি গাছের নিচে কয়েক মিনিট কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষা ও চিকিৎসা পরীক্ষার দাবি জানান তিনি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, নারী নির্যাতন বা যৌন অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগ স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দিয়ে নিষ্পত্তি করা আইনসম্মত নয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নারীসংক্রান্ত অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে নয়, আইনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, রিপন মিয়া ২০১৬ সালে ফেসবুকে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। তার সহজ-সরল উপস্থাপনা এবং ‘হাই আই অ্যাম রিপন ভিডিও’‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’ সংলাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। বর্তমানে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার করছেন।

বিষয় : রিপন মিয়াকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রিপন মিয়াকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেত্রকোণার সদর উপজেলায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সালিশ বৈঠকে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং সাত দিনের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন রিপনের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে সদর উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামে প্রতিবেশী এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন রিপন মিয়াকে আটক করেন। পরে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রিপনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তারা আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার চান।

সালিশে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাতব্বর জানান, অভিযোগের বিষয়ে রিপন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে দাবি করে গ্রামবাসী সর্বসম্মতিক্রমে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। ওই অর্থ ভুক্তভোগী তরুণীর ভবিষ্যৎ ও বিয়ের খরচের জন্য ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে তার বসতভিটার জায়গা বাজেয়াপ্ত করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে সাত দিনের মধ্যে তাকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে রিপন মিয়ার স্ত্রী অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার স্বামী নির্দোষ এবং একটি গাছের নিচে কয়েক মিনিট কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষা ও চিকিৎসা পরীক্ষার দাবি জানান তিনি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, নারী নির্যাতন বা যৌন অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগ স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দিয়ে নিষ্পত্তি করা আইনসম্মত নয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নারীসংক্রান্ত অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে নয়, আইনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, রিপন মিয়া ২০১৬ সালে ফেসবুকে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। তার সহজ-সরল উপস্থাপনা এবং ‘হাই আই অ্যাম রিপন ভিডিও’‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’ সংলাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। বর্তমানে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার করছেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত