লোহাগড়ায় মাইক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, ভিন্ন ব্যাখ্যা বিএনপি নেতার।
ছাত্রদল নেতার প্রকাশ্যে লাঞ্ছনার অভিযোগ, দুঃখ প্রকাশের কথা জানালেন সাবেক মেয়র নেওয়াজ ঠাকুর।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার তাইবুল হাসানের কাছ থেকে মাইক কেড়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাইবুল হাসান। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নেওয়াজ আহমেদ নজরুল ঠাকুর ঘটনাটির ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে লোহাগড়া প্রেসক্লাবের হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার তাইবুল হাসান বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতি করতে গিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং কারাবাসও করেছেন। গত ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি সাংগঠনিক বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
তার দাবি, বক্তব্যে তিনি দলের শৃঙ্খলা রক্ষা, সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা দূর করা এবং বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় অ্যাডভোকেট নেওয়াজ আহমেদ নজরুল ঠাকুর তাঁর কাছ থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে প্রকাশ্যে অপমান ও লাঞ্ছিত করেন।
তাইবুল হাসান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুণ্ডুসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অন্যদিকে, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও লোহাগড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট নেওয়াজ আহমেদ নজরুল ঠাকুর অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, র্যালি চলাকালে ব্যানার বহনকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তাইবুল ছাত্রদলের নেতা হয়েও বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছিলেন, যা তাঁর কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় তাইবুলের বক্তব্য নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং সভার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে মাইকটি নিয়ে নেন।
নেওয়াজ আহমেদ নজরুল ঠাকুর বলেন, “সে সময় তাঁর বক্তব্য আমার ভালো লাগেনি, তাই আমি মাইকটি নিয়ে নিয়েছিলাম। তবে পরে এ বিষয়ে তাইবুলের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে এবং আমি তাঁর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও লোহাগড়া পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা, লোহাগড়া পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রিয়াজুল ইসলাম মুন্না, লাহুড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হাসিবুল ইসলাম বাচ্চু, কোটাখোল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নাজমুস সাকিবসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
লোহাগড়ায় মাইক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, ভিন্ন ব্যাখ্যা বিএনপি নেতার।
ছাত্রদল নেতার প্রকাশ্যে লাঞ্ছনার অভিযোগ, দুঃখ প্রকাশের কথা জানালেন সাবেক মেয়র নেওয়াজ ঠাকুর।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার তাইবুল হাসানের কাছ থেকে মাইক কেড়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাইবুল হাসান। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নেওয়াজ আহমেদ নজরুল ঠাকুর ঘটনাটির ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে লোহাগড়া প্রেসক্লাবের হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার তাইবুল হাসান বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতি করতে গিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং কারাবাসও করেছেন। গত ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি সাংগঠনিক বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
তার দাবি, বক্তব্যে তিনি দলের শৃঙ্খলা রক্ষা, সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা দূর করা এবং বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় অ্যাডভোকেট নেওয়াজ আহমেদ নজরুল ঠাকুর তাঁর কাছ থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে প্রকাশ্যে অপমান ও লাঞ্ছিত করেন।
তাইবুল হাসান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুণ্ডুসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অন্যদিকে, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও লোহাগড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট নেওয়াজ আহমেদ নজরুল ঠাকুর অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, র্যালি চলাকালে ব্যানার বহনকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তাইবুল ছাত্রদলের নেতা হয়েও বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছিলেন, যা তাঁর কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় তাইবুলের বক্তব্য নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং সভার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে মাইকটি নিয়ে নেন।
নেওয়াজ আহমেদ নজরুল ঠাকুর বলেন, “সে সময় তাঁর বক্তব্য আমার ভালো লাগেনি, তাই আমি মাইকটি নিয়ে নিয়েছিলাম। তবে পরে এ বিষয়ে তাইবুলের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে এবং আমি তাঁর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও লোহাগড়া পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা, লোহাগড়া পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রিয়াজুল ইসলাম মুন্না, লাহুড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হাসিবুল ইসলাম বাচ্চু, কোটাখোল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নাজমুস সাকিবসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন