নজর বিডি

মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে মাদক ব্যাবসা,বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে মাদক ব্যাবসা,বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

খিলক্ষেতে মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে মাদক ব্যাবসা ? বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ


খিলক্ষেতে মাদক নির্মূল অভিযানের নামে ভয়ভীতি, প্রভাব বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।এসব অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের ওপর পরিকল্পিত হামলার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে এবং সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখতেই এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি মাদক বাণিজ্য ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, জাকির হোসেনের আপন ছোট ভাই শামিম ওরফে গ্যারেজ শামিমের মাধ্যমে একটি অটোরিকশা গ্যারেজকে কেন্দ্র করে ইয়াবা বাণিজ্য পরিচালিত হয়। এ কারণেই গভীর রাত পর্যন্ত গ্যারেজটি খোলা রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, বিতর্কিত কথিত ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র ব্যানারে প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের আরও দাবি, এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার ও মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়।


৪৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি হওয়ার পর থেকেই জাকির হোসেনকে ঘিরে দলের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জাকির এলাকায় বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। কথিত ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র নামে প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া ভাই শামিমের একটি অটোরিকশা গ্যারেজকে কেন্দ্র করে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা এখন ওপেন সিক্রেট। এসব অভিযোগের অনুসন্ধান কিংবা তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকরা মাঠে নামলেই তাদের হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিজেদের ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র নেতা পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাজ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়।


বিষয়টি নিয়ে বিএনপির ৪৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি দিদার হোসেন মোল্লা বলেন, জাকিরের বিরুদ্ধে প্রশাসন এবং এলাকাবাসীর কাছ থেকে মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ এসেছে। এমন অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দলে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আগামী কমিটি গঠনের সময় এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। দলের যে কারও বিরুদ্ধে মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ পাওয়া গেলে তার জন্য বিএনপিতে কোনো স্থান থাকবে না।


খিলক্ষেত থানার ওসি মো. সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, থানা থেকে ওই মাদক নির্মূল কমিটিকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-থানার অনুমোদন নেই, তাহলে ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র সাংগঠনিক কাঠামো কী? কারা এর সদস্য? কে বা কারা তাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন? মাদকবিরোধী কার্যক্রমের নামে কোনো অর্থ আদায় হলে সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে? অভিযোগ অনুযায়ী গ্যারেজকেন্দ্রিক মাদক ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত? আর সাংবাদিকদের ওপর চাপ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের পেছনেই বা কারা? মাদক নির্মূলের নামে যদি কোনো চক্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একইভাবে জাকির হোসেন, শামিম ও কথিত কমিটির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে, রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক প্রভাব বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে মাদক ব্যাবসা,বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

খিলক্ষেতে মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে মাদক ব্যাবসা ? বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ


খিলক্ষেতে মাদক নির্মূল অভিযানের নামে ভয়ভীতি, প্রভাব বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।এসব অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের ওপর পরিকল্পিত হামলার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে এবং সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখতেই এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি মাদক বাণিজ্য ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, জাকির হোসেনের আপন ছোট ভাই শামিম ওরফে গ্যারেজ শামিমের মাধ্যমে একটি অটোরিকশা গ্যারেজকে কেন্দ্র করে ইয়াবা বাণিজ্য পরিচালিত হয়। এ কারণেই গভীর রাত পর্যন্ত গ্যারেজটি খোলা রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, বিতর্কিত কথিত ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র ব্যানারে প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের আরও দাবি, এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার ও মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়।


৪৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি হওয়ার পর থেকেই জাকির হোসেনকে ঘিরে দলের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জাকির এলাকায় বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। কথিত ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র নামে প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া ভাই শামিমের একটি অটোরিকশা গ্যারেজকে কেন্দ্র করে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা এখন ওপেন সিক্রেট। এসব অভিযোগের অনুসন্ধান কিংবা তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকরা মাঠে নামলেই তাদের হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিজেদের ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র নেতা পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাজ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়।


বিষয়টি নিয়ে বিএনপির ৪৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি দিদার হোসেন মোল্লা বলেন, জাকিরের বিরুদ্ধে প্রশাসন এবং এলাকাবাসীর কাছ থেকে মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ এসেছে। এমন অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দলে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আগামী কমিটি গঠনের সময় এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। দলের যে কারও বিরুদ্ধে মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ পাওয়া গেলে তার জন্য বিএনপিতে কোনো স্থান থাকবে না।


খিলক্ষেত থানার ওসি মো. সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, থানা থেকে ওই মাদক নির্মূল কমিটিকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-থানার অনুমোদন নেই, তাহলে ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র সাংগঠনিক কাঠামো কী? কারা এর সদস্য? কে বা কারা তাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন? মাদকবিরোধী কার্যক্রমের নামে কোনো অর্থ আদায় হলে সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে? অভিযোগ অনুযায়ী গ্যারেজকেন্দ্রিক মাদক ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত? আর সাংবাদিকদের ওপর চাপ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের পেছনেই বা কারা? মাদক নির্মূলের নামে যদি কোনো চক্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একইভাবে জাকির হোসেন, শামিম ও কথিত কমিটির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে, রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক প্রভাব বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত